অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার 

পাক্ষিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ২৭
বিষয় – হিমেল সকাল

শীতল পরশ

ষড় ঋতুর পঞ্চম স্থানে শীতের আগমন,
শুষ্ক ধরায় পাতা ঝরার তীব্র আকুল ক্ষণ।
পুবের কোনে রাঙা হয়ে হয় যে আলোড়ণ,
কুয়াশাময় ঝাপসা দেখায় রঙের বিচ্ছুরণ।
হিমেল সকাল শিশির ঝরা নীড়ে পাখি চুপ
আবছা আলো খেলা চলে ধরণীর সেই রূপ।
জীবন তখন মৌন ব্রতী তাপসীর ন্যয় বেশে,
শিশির সিক্ত পাতার ফাঁকে শান্ত মায়া হেসে
চাষী যায়রে লাঙল কাঁধে শিশির ভেজা পথে
হিমেল সকাল কাজে নামে আপন মনোরথে।
শীতের ভোরে গ্রামের বধূ দিচ্ছে উঠোন ঝাড়,
জাল ফেলছে জেলে ভোরে তুলছে বারংবার।
খেজুর গাছে রসিক কাকা নামায় রসের হাঁড়ি,
ব্যস্ত হয়েই গ্রাম ছাড়িয়ে ঘুরবে অনেক বাড়ি।
রসের জ্বালে নলেন গুড়ের গন্ধে বাতাস মাতে,
জীবন রাজে সকাল থেকে শীতল পরশ তাতে।
আরেক জীবন ছায়ার মতন শহর তলির গাঁয়,
গরীব মানুষ নাই ঠিকানা থাকে খালি পায়।
হিমেল সকাল কাপড় গায়ে গরীব লোকে বাস,
কাঁপছে শীতে, কাজের বাড়ি যাচ্ছে বারোমাস।
শহর জীবন অন্য রকম হিমেল সকাল রাজ,
ভোরের আগেই জেগে ওঠে শুরু করে কাজ।
কবির লেখায় কাব্য থাকে ভালোবাসার গীত,
দুখীর জীবন দুখে কাটে হিমেল জাগায় শীত।।