স্তম্ভজীবন

স্তম্ভে ভরা একটা জীবন
স্তম্ভে শুরু স্তম্ভে ইতি।
তার ওপর যা থাকার কথা
শুরুই হয়নি সে নির্মিতি।
মিথ্যে স্তোক আর প্রতিশ্রুতি
স্তম্ভ জুড়ে খোদাই করা,
উপদেশের বান ডেকে যায়
তাইতো একটু নোনা ধরা।
শেষ হয়ে যায় আস্ত জীবন
স্তম্ভগুলো আগলে রেখে–
ইট বালি চড় সিমেন্ট নিয়ে
অট্টালিকার স্বপ্ন দেখে…..

ত্যাগপত্র

ক্রমশ মূল স্রোতের বাইরে সরে যাচ্ছি।
থাকার ইচ্ছাও মরে গেছে তাই।
পরিচিত তট ছুঁয়ে কাটাতে হবে বাকিটা।
জাহাজ হোক বা জেলে ডিঙি –
দৃশ্যপট থেকে হারাক সকলে।
কাজটা কঠিন, তবু স্বেচ্ছা অন্তরীণ
হতে না পারলে হয়তো আটকে যাব কচুরিপানায়
ভাসার আকুল আর্তি নিয়ে।
নিজেরই হয়তো সব দোষ।
হয়তো অধিক ব্যাকুলতা —
সবকিছু ঠিকঠাক পরিধিতে চাই।
প্রিয় স্বরে বিরক্তি জমে ওঠে তাই।
সাড়াহীন ইচ্ছাকৃত, আমি ডেকে যাই।
বেঠিক তো ঘটে চলে ব্রাউনীয় বিশৃঙ্খলাকে
অমোঘ নিয়তির মতো মেনে, চলুক।
হয়তো নিজেকে বধের প্রহরণ নিজেই তুলে দিই।
কী করি, জীবনে মেঘনাদ কম তো দেখিনি।
রজ্জুতে সর্পভয় আর সহ্য নয়
বরং উত্তরীয় অকস্মাত্ ছোবল দিক,
যেমন দিয়ে এসেছে এতকাল।
মরদেহ হয়ে আর ভেসে থাকা নয়
সাগর সঙ্গম যখন জানি পরাহত।
সপ্তডিঙা ভেঙে গেছে, জেলে ডিঙি নিয়ে
কতদূর বলো আর দিতে পারি পাড়ি?
স্রোতে তো শবও ভাসে, ভাসে ঘরবাড়ি।
কচুরিপানায় আটকে প্রবাহে অশ্রুমোচনের চেয়ে
চেনা তটে উঠে এসেই বরং হাঁফ ছাড়ি।
অন্তত সৎকার তো পাব।
দুটি মুখ আজ যারা অনুযোগে লাল,
সেই চোখ চারখানিই জলেও লাল হবে।