২১ শে ফেব্রুয়ারি— আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

মোদের গর্ব, মোদের আশা, আহা মরি বাংলা ভাষা।
তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা৷৷
আহাঃ মরি বাংলা ভাষা।৷৷
আজকের দিন টা শুধু আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস বলেই গৌরান্বিত নয়। বরং এর ব্যাপ্তি ও গ্রহণযোগ্যতা বাঙালি তথা বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে, ভাষা প্রেমিদের শৌর্য-বীর্যের পরাক্রমতার স্বীকৃতিতে পরম সম্মানে ভূষিত হয়েছে, আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস খ্যাতির ভূষণে। যা পৃথিবীর ১৮৮ টি দেশে সম্মানের সাথে সমাদৃত ভাবে পালিত হয় তাদের নিজ নিজ মাতৃভাষার প্রতি একত্রে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে। যে ভাষা দিবসের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ক্ষুদ্র প্রয়াসে আমরা সেই ঐতিহাসিক দিনটি হতে আজকের প্রেক্ষাপটে “বাংলা ভাষা” বিস্তারের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিষয়ে সম্যক ইতিহাস ও বর্তমান ধারনার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করবো৷ এখানে এই প্রতিবেদন পাঠের মাধ্যমে আমি আপনি সকলে বহু দুরে থেকেও আমাদের মাতৃভাষার টানে কল্পনার জগৎ এ সম্মিলিত হয়েছি মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে৷ এবং আমি এই আনন্দ মুখর দিনে আপনাদের মত মহানুভব ব্যক্তিদের কিছু জানানোর জন্য যে অনুমতি পেয়েছি, তার জন্য আমি শ্রদ্ধেয় সম্পাদক মহাশয় সহ আপনাদের প্রত্যেকের কাছে চির কৃতজ্ঞ ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আমার ক্ষুদ্র বক্তব্য লেখনির মাধ্যমে পেশ করছি।
ঘটনা বিষয়বস্তুকে গুরুত্বসহকারে উপলব্ধি করতে হলে আমাদের একটু অতীতের ১৯০০ শতকের অখন্ড ভারতবর্ষের পেক্ষাপটে আলোকপাত করতে হবে। আসলে দ্বিজাতিতত্ত্ব ও স্বাধীনতা প্রাপ্তির মধ্য দিয়েই ( ১৯৪৭ সাল ) ভাষা আন্দোলনের বীজ বপন হয়ে গেছিল। প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি ভূখণ্ডের দুটি ভিন্ন ভাষার জাতিসত্তাকে মিলিয়ে, পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম লগ্ন থেকেই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে সূচনা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রথম পদক্ষেপ। পূর্ববঙ্গীয় সমাজে বাংলা ভাষার ওপর জোরপূর্বক উর্দু ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে আপামর বাংলা ভাষাভাষীর মানুষদের আত্ম অন্বেষায় যে ভাষা চেতনার উন্মেষ ঘটে, তারই সূত্র ধরে ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় ভাষা বিক্ষোভ শুরু হয় যা ১৯৪৮ সালের মার্চ অব্দি সীমিত পর্যায়ে আন্দোলনে রূপান্তরিত হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তার চরম প্রকাশ ঘটে এক রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। যদিও শেষ পর্যন্ত একপ্রকার বাধ্যহয়ে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সরকার উর্দুর সঙ্গে বাংলাভাষাকেও পূর্ববঙ্গে স্বীকৃতি দেয়। আর এই ভাষা আন্দোলনের গর্ভেই ভ্রুন রূপে জন্ম নেয় পৃথিবীর মানচিত্রে একটি নতুন রাষ্ট্রের যা পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান হতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম নেয়। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম নিদর্শনে ভূষিত হয় এই ব্যাখ্যায় যে, শুধু মাতৃভাষার মান সম্মানকে সর্বোপরি রাখতে একটি রাষ্ট্রের জন্ম হতে পারে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, যার স্বীকৃতি পরবর্তী পর্যায়ে পথ দেখাল সারা পৃথিবীকে৷ আর বিশ্বের ইতিহাসে হয়ে রইলো এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত। ১৯৫২ সাল হতে পূর্বপাকিস্তানে অধুনা বাংলাদেশে, একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি প্রথমে “শহীদ দিবস” হিসেবেই পালন করে আসছিল। পরে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম নিলে, এই দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হয়। অবশেষে ১৯৯৯ সালে ১৭ ই নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা “ইউনেস্কো” একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এবং ২000 সাল হতে ১৮৮ টি রাষ্ট্র তাদের দেশে এই দিনটিকে অতি সম্মানের সাথে মর্যাদা পূর্বক নিজস্ব বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আচার-বিচারের মাধ্যমে পালিত করে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের” সৌজন্যে।
মানুষের সংস্কৃতি হলো তার সভ্যতার গৌরব। সমগ্র সভ্যতা যা দিয়ে গঠিত হয় তার অন্যতম উপাদান হলো ভাষা। চিন্তাশক্তিকে সচেতন করে তোলা এবং কল্পনা শক্তিকে জাগ্রত করা—শিক্ষার এই দুটি বড় উদ্দেশ্য। আর এই উদ্দেশ্যকে সফল ভাবে পরিপুষ্ট করে নিজের মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চা। রবি ঠাকুরের কথায় “শিক্ষায় মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ সম”। ইংরেজি বাদে ইহুদি চীনা ও জাপানি ভাষাভাষীরা তাদের মাতৃভাষায় নিজেদের জীবনের সবকিছু হতে বিজ্ঞান চর্চা অব্দি তারা তাদের মাতৃভাষায় ব্যবহার করে অসামান্যপূ কৃতিত্ব ও সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। আমাদের বঙ্গদেশে অক্ষয় কুমার দত্তের “বাহ্য বস্তুর সাথে মানব প্রকৃতির সম্বন্ধে”, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর “জিজ্ঞাসা”, জগদীশচন্দ্র বসুর “অব্যাক্ত”, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বিশ্বপরিচয়”, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “বিজ্ঞান রহস্য”, প্রভৃতি গ্রন্থ মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চার এক অসাধারণ নিদর্শন। মেঘনাথ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, শিশির কুমার বসু, প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ প্রমূখ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৈজ্ঞানিকরা মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চার অনুকূলে প্রত্যক্ষ মত প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতেও অধিকারের দাবিতে দু’টি আন্দোলন হয়েছিল। যথা ১৯৬১ সালের অসমের বরাক উপত্যকার ১৯ মে এর আন্দোলন এবং মানভূম জেলার ভাষা আন্দোলন। স্বাধীনতার সময়ে অসমে প্রায় ২০ লক্ষ বাঙালির বসবাস ছিল। কিন্তু ১৯৫১ সালের জনগণনায় বাঙালির তথা বাংলা ভাষাগোষ্ঠির সংখ্যা অনেক কম দেখানোর জন্য শিক্ষা, চাকুরি প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাঙালিরা বঞ্চিত হতে থাকে। ১৯৬০ সালের ১০ অক্টোবর অসমীয়া ভাষাকে অসমের একমাত্র ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে বরাক উপত্যকার বাঙালিরা প্রতিবাদ শুরু করেন। ১৯৬১ সালের ১৯ মে অসম সরকারের পুলিশ, সত্যগ্রহীদের উপর গুলি বর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে ১০ জনের অধিক শহিদ হন। এর ফলে শেষ পর্যন্ত অসম সরকার বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষার অধিকার মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। এই ভাবে এই ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বরাক উপত্যকায় মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তবে ভারতে বাংলার অধিকারের দাবিতে আন্দোলন প্রথম শুরু হয়েছিল মানভূম জেলায়। বিস্তৃতির দিক থেকে বাংলাদেশ ও বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলনের চেয়ে মানভূমের ভাষা আন্দোলনের বিস্তৃতি কম ছিল এবং শুধুমাত্র মানভূম জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এটির সূচনা ঘটেছিল ১৯১২ সালে। বঙ্গভঙ্গের সময়ে বাংলাভাষী প্রধান মানভূম জেলাকে বাংলা থেকে বিহার ও ওড়িশার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলেও মানভূম জেলা বিহার ও ওড়িশার মধ্যেই থেকে যায়। এর প্রতিবাদে পুরুলিয়ার বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, কয়লাখনি মালিক প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মানুষ ব্রিটিশ সরকারের কাছে বারবার দাবিপত্র পেশ করে এবং আন্দোলন শুরু হয়। বাংলাভাষী মানুষদের অধিকার রক্ষার এই আন্দোলন দু’টি পর্যায়ে চলেছিল। যথা স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত এবং স্বাধীনতা পরবর্তী ভাষা আন্দোলন।
প্রাক স্বাধীনতা পর্বে মানভূম জেলায় ভাষা আন্দোলনের চেয়ে স্বাধনতা সংগ্রাম বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল। তবে ১৯৩৫ সালের পর বিহার প্রদেশের সরকার বিহারী সমিতির মাধ্যমে মানভূমে হিন্দিভাষার প্রচার শুরু করে। তখন তার বিরুদ্ধে বাঙালি সমিতি বাংলা ভাষার প্রচার চালায়। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পর বিহার সরকার মানভূম জেলাকে বাংলাভাষীর পরিবর্তে হিন্দিভাষী জেলায় পরিণত করার জন্য ব্যাপক হিন্দিকরণ নীতি অনুসরণ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মানভূম জেলা কংগ্রেসের প্রথমসারির নেতারা কংগ্রেস দল ত্যাগ করে এবং ১৯৪৮ সালে লোকসেবক সঙ্ঘ নামে নতুন একটি দল গঠন করে। এই লোকসেবক সঙ্ঘের নেতৃত্বেই মানভূমের ভাষা আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল। নেতৃত্ব দেন অতুলচন্দ্র ঘোষ, বিভূতিভূষণ দাশগুপ্ত, অরুণচন্দ্র ঘোষ, লাবণ্যপ্রভা দেবী, ভজহরি মাহাতো, ভীমচন্দ্র মাহাতো প্রমুখরা।
১৯৩১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, তৎকালীন মানভূম জেলার সদর মহকুমা পুরুলিয়ায় শতকরা ৮৭ ভাগ বাংলা ভাষাভাষী মানুষের বাস ছিল। তৎকালীন বিহার নিয়ন্ত্রিত মানভূম-পুরুলিয়ায় বাংলা ভাষাভাষীদের আকস্মিক ভাবে তীব্র সমস্যার মুখে পড়তে হয়। কারণ ১৯৪৮ সালে এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানভূম জেলার কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা হরফে সাইনবোর্ড দেওয়া যাবে না। এমনকি, বাংলা ভাষাভাষীদের স্কুলে বাংলা ভাষায় প্রার্থনাসঙ্গীতও চলবে না, তার পরিবর্তে ‘রামধুন’ আবশ্যিক। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে পঠনপাঠনে বাংলা ভাষা চলবে না। শুরু হল মুক্তির লড়াই। ১৯৫৬ সালের ২০ এপ্রিল অতুলচন্দ্র ঘোষ, নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্ত, লাবণ্যপ্রভা ঘোষ প্রমুখের নেতৃত্বে পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার পাকবিড়রা থেকে প্রায় ১০ জন মহিলা-সহ ১০০৫ জন পদযাত্রায় অংশ নিলেন। কলকাতা এসে তাঁরা আইন অমান্য করেন এবং ৭ মে কারাবরণ করেন। ১৩ দিন পর, ২০ মে তাঁরা মুক্তি পান। বাংলাভাষীদের লড়াইয়ের পরে পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের অংশ হল। টুসু নামক লোকায়ত গানে এর প্রচার হয়। ১৯৪৮ সাল থেকে কয়েকটি পর্যায়ে মানভূমের ভাষা আন্দোলন চলেছিল। যথা- ভাষা সত্যাগ্রহ, বিধানসভা ও লোকসভায় সাংবিধানিক পদ্ধতিতে আন্দোলন, টুসু সত্যাগ্রহ, রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন ও রাজনৈতিক আন্দোলন এবং বঙ্গভঙ্গ সত্যাগ্রহ অভিযান। ১৯৫৬ সাল পর্যন্তএই ভাষা আন্দোলনে মানভূমের কৃষক, মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষ যোগ দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশ অনুসারে মানভূম জেলাকে দ্বিখণ্ডিত করা হয় এবং পুরুলিয়া সদর মহকুমায় ১৬টি থানাকে নিয়ে পুরুলিয়া নামে নতুন একটি জেলা তৈরি হয়। এই জেলা ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গে যুক্ত হয়। কিন্তু মানভূম জেলার শিল্পসমৃদ্ধ ধানবাদ মহকুমা –সহ বাকি বাংলাভাষী অঞ্চলগুলিকে বিহার রাজ্যের মধ্যেই রেখে দেওয়া হয়। ফলে মানভূম জেলার ভাষা আন্দোলন আংশিক ভাবে
সফল হয়েছিল।
বস্তুত ভাষাকে মাধ্যম করেই এক একটি অঞ্চল বিশেষে এক একটি জনজাতির সৃষ্টি হয়। নিজেদের কথিত মাতৃভাষার গর্বেই একটা অঞ্চলের অধিবাসী নিজেদের মধ্যে একাত্মতা অনুভব করেন। এ ভাবেই ক্রমান্বয়ে একই অঞ্চলবাসী, যারা একই ভাষা ব্যবহার করেন, তারা নিজেদের এক জাতি এক প্রাণ বলে বিবেচনা করেন। মাতৃভাষাই সমস্ত গোষ্ঠীকে এক জাতিতে একত্রীভূত করে।আমি সহ আমরা প্রত্যেকেই আজ গর্বিত— যে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস উদযাপন হচ্ছে সারা বিশ্বে, সেই একুশে ফেব্রুয়ারিকে স্বীকৃতি দিয়েছে আমাদের সকলের প্রিয় এই বাংলা মাতৃভাষা। আমি আপ্লুত, আমি আবেগপূর্ণ, আমি অতি উৎসাহী, আমি রোমাঞ্চিত এবং গৌরমাম্বিত এইজন্য যে পৃথিবীতে বহুল প্রচারিত ভাষা গুলির মধ্যে আমার মাতৃভাষা হল বাংলা। যা ব্যবহারকারীর নিরিখে পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ভাষা।
বাংলা ভাষার ব্যবহার এখন পৃথিবীর এক বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর দ্বারা ব্যবহৃত ভাষা। পৃথিবীর জনসংখ্যার নিরিখে প্রায় ২৩ কোটি মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। বিশ্বে বহুল প্রচারিত ভাষাগুলির মধ্যে সংখ্যানুসারে বাংলা ভাষার স্থান চতুর্থ থেকে সপ্তমের মধ্যে৷
২— বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্র সম্পূর্ণরূপে বাংলা ভাষায় তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
০৩— ভারতসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ত্রিপুরা আসামের বরাক উপত্যকা আন্দামান-নিকোবরের প্রধান মাতৃভাষা বাংলা।
০৪— ২০১১ সাল হতে ঝাড়খণ্ডের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা বাংলা।
০৫— পাকিস্তানের করাচি শহরে দ্বিতীয় সরকারি ভাষা বাংলা।
০৬— ২০০২ সাল হতে আফ্রিকার সিয়েরা লিওনের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা সম্মান পেয়েছে বাংলা ভাষা।
০৭— বাংলা ভাষার নিজস্ব হরফ আছে যা। যা অনেক ভারতীয় ভাষার নেই। এমনকি ভারতের বহুল প্রচলিত হিন্দি ভাষারও নিজস্ব হরফ নেই।
০৮— কর্নাটকের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা বাংলা।
০৯— শিকাগো শহরে অফিস-আদালতে কার্যনির্বাহী বাংলা ভাষাকে সম্মান জানানো হয়েছে।
১০— ভারতে হিন্দি ভাষার পরে বৃহত্তম ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীর ভাষা হল বাংলা।
১১— -আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃত দশটি “অভিবাসী ভাষা” আছে। বাংলা ভাষা হল তার মধ্যে অন্যতম পঞ্চম পর্যায়।
১২— ভারত ও বাংলাদেশের বাইরে ১৯৯৩ সাল হতে সিঙ্গাপুর-ই একমাত্র দেশ যেখানে জাতীয় পাঠ্যক্রম এর অধীনে মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা শেখার সুযোগ দিয়েছে। এখানকারও দ্বিতীয় সরকারি ভাষা বাংলা।
১৩— ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সংসদে বাংলাকে স্বীকৃতি প্রদানের বিল পাস করা হয়। ফলে বাংলা ভাষা লাভ করে এক অনন্য মর্যাদা।
১৪— এ মুহূর্তে ৩০ টি দেশের ১০০ টি বিশ্ববিদ্যালয় চালু আছে বাংলা ভাষা বাংলা বিভাগ।
১৫— বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, ও সংস্কৃতি নিয়ে বহির্বিশ্বে ভারত ও বাংলাদেশের পর ব্রিটেন, আমেরিকা আমেরিকায় সবথেকে বেশি বাংলা ভাষার চর্চা হয়। এর বাইরে চীন, জাপান মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড সিঙ্গাপুর জার্মানি পোল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশে কমবেশি বাংলা ভাষা সংস্কৃতি চর্চা হচ্ছে।
১৬— আমেরিকার কমপক্ষে দশটি বিশ্ববিদ্যালয় ও এশিয় গবেষণা কেন্দ্রে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে। এরমধ্যে নিউইয়র্ক শিকাগো ফ্লোরিডা ক্যালিফোর্নিয়া ভার্জিনিয়া উল্লেখযোগ্য।
১৭— বিশ্বে ছটি দেশে রাষ্ট্রীয় বেতারে বাংলা ভাষার আলাদা চ্যানেল আছে।
১৮— ব্রিটেনে বারোটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। “বেতার বাংলা” নামে একটি বাংলা রেডিও স্টেশনেও আছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে : এখন সময় নামে (২০০০ সাল থেকে) প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষার সংবাদপত্র । উদাহরন স্বরুপ কয়েকটি লিঙ্ক সংযোজন করলাম৷
বিবিসি বাংলা – http://www.bbc.co.uk/bengali/
বাংলা সংলাপ – http://www.banglasanglap.co.uk/
বাংলা পোস্ট ইউকে – http://banglapost.co.uk/
সুরমা – http://www.surmanews.com/
বাংলা মিরর – https://banglamirrornews.com
পাত্রিকা ইউকে – https://potrika.com/
১৯— ইউরোপের ইতালিতে বর্তমানে পাঁচটি বাংলা দৈনিক পত্রিকা চলছে। এছাড়াও রুস ও ভেনিস শহর হতে তিনটি রেডিও স্টেশন পরিচালিত হচ্ছে।
২০— এছাড়া ডেনমার্ক সুইডেন সহ ইউরোপের আটটি দেশের এবং মধ্যপ্রাচ্যের ছটি দেশ হতে বাংলা ভাষায় মুদ্রিত ও অনলাইন পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
তাই শুধু আমি একাই নই আমার সাথে উপস্থিত গুনি মান্যবর সহ সকল বাংলা ভাষাভাষী জনেরাই আজ গৌরাম্বিত। তাই ভাষা দিবস আজ রঙিন আবেগের উদযাপন। ভারতের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর এই দিনকে স্মরণীয় রাখতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন করে। আমাদের প্রিয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপিত হচ্ছে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে” অভিনন্দন জানাতে।