সিংহ চিহ্নিত আসন

একটা সিংহাসন পেতেছি। ঝলমলে পোশাক পরে তার ওপরে চড়ে বসেছি। আমার সামনেই একটা দাবার বোর্ড, একটা একটা করে ঘুঁটি সাজানো। বোড়ে, নৌকা, রাজা আর দুটো রং সাদা আর কালো। আমাকে বেছে নিতে হবে যেকোনো একটা – হয় সাদা না হয় কালো। কোন রঙের যৌক্তিকতা কতটা তা নিয়েই এখন আমার ভাবা কাজ। ভেবেচিন্তে ঠিক করতে হবে কোন পথটা বাছবো – সাদাটা না কালোটা। যাইহোক পথ তো একটা বাছা গেলো। এবার খেলব। আমি দাবা খেলতে পারিনা। সিংহাসনে বসে সামনে বসে থাকা দুজনের মাঝে মাঝের পথ নির্দেশক কিংবা কিছুইনা। শুধু একটা ঘরের একজনকে বলে রেখেছি খেলাতে জিততে হবে। পথটার কতটুকু খেলব আর কতটা দর্শক সেটাই খোঁজার সময় এখন। আর এই খোঁজটাকেই বলে সংসার। সাদা-কালো দুইয়ে মিলে দাবার বোর্ডের মত একটা সংসার করে চলেছে সবাই শুধু মহা সংসারের পথে উত্তরণের জন্য। তাই উত্তরীয় আঁটি শুঁটি করে বেঁধে এখন বরং লিখতে বসি। লিখতে লিখতে মুকুট পরে সিংহাসনে বসলেই কেমন যেন উঁচু হয়ে আসে চেয়ারটা আর আমার লেখার টেবিলটা তলিয়ে যেতে চায়। আমি একটু একটু করে সিংহাসনটার পায়াগুলো রোজ কেটে দিই যাতে টেবিলে সাজানো দাবার বোর্ড তীক্ষ ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারি।আসলে ওটা ছকে রাখা একটা মানচিত্র। আমার কাজ শুধু ঘুঁটির চলন লক্ষ্য করা আর সিংহাসনের পায়াগুলো মাঝে মাঝে কাটা।

সোমা চট্টোপাধ্যায় রূপম