অরূপরতন

সবার কাছে হেয় হওয়াই আমার নিয়তি।
আমি ছোটবেলায় ভাল ক্রিকেট খেলতাম। তবু কোনদিন উইকেট পাইনি। রান রেট কমে যেত আমার বোলিং ওভারে।
কোন বাহবা নেই। ব্যাট করতে নেমে দলকে জিতিয়েছি।
কিন্তু আটের ঘরে আউট। কোনদিন সেঞ্চুরি পাইনি। তারপর মাধ্যমিক পরীক্ষায় স্টার পেলাম। কিন্তু স্কুলের প্রথম দশে স্থান পাইনি। কোন পুরষ্কার তো দূর অস্ত জীবনে কোন প্রশংসা পাইনি। বেকার জীবনে প্রেম পাইনি। বন্ধুর প্রেমিকার যোগাযোগের মাধ্যম ছিলাম আমি। সুন্দরী কোন মেয়ে ফিরেও তাকায় নি। সংসারে সকলের হাসির পাত্র ছিলাম আমি। খুব মজা পেত সকলে আমাকে পেলেই। হাসি ঠাট্টায় হেরে যেত মন। মনের কোণে ভালোবাসার জায়গা হয়নি। আমি নাকি ভালবাসার যোগ্য নই। ইন্টারভিউয়ে পাশ করেছি অনেক। কিন্তু চাকরি পাশ কাটিয়ে হয়েছে অধরা। আমি শিক্ষকতা করি কিন্তু শিক্ষক নই। আমার নামের আগে থাকে পার্শ্বশিক্ষক। সংসারে সাহায্য করেও কোন মূল্য পাই নি। মানে সম্মান মেলেনি। ভালবাসার খাবার পাই নি। কেমন যেন সিঁটিয়ে গেছি আমি। খোলা হাওয়ায় বুকটা হাল্কা হলেও ভারি হয়ে থাকে বাকি সময়। এক অপরাধির মত জীবন বয়ে যায় আমার। জানি না কি সেই অপরাধ যা নিয়তির দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যায় আত্মীয় স্বজন। ভালবাসতে জানি। আমার কথায় কেউ ব্যথা পেলে আমার বুকে বাজে। ভালবাসা দিলেও অবজ্ঞা জোটে। লিখতে জানি না। পড়তে পড়তে বইয়ের পাতা ঝাপসা হয়। অন্ধকার নেমে আসে। পরাজিত হয়েও অন্তরে আলো জ্বলে ওঠে। মনে হয়, এই বুঝি ভালবেসে এল সত্যের শেষ আলো। এই আলোয় নিষিক্ত হবে দেহ মন। আর কেউ না হোক ভালবাসে অরূপরতন।