পঁয়তাল্লিশ

সেদিন আর মাথার সঙ্গে মনের মিল হল না। মনটা হালকা হলেও মাথাটা ভারী। ঘুমিয়ে পড়লাম সারাদিনের ঘটনাগুলো ভাবতে ভাবতে। তবে কিছুক্ষনের মধ্যেই, অন্য সব কাজের ভাবনাগুলোকে লুলিয়ার সঙ্গে কাটানো সুখস্মৃতি যেন ধাক্কা দিয়ে বহিস্কার করে দিল। পরের দিন বেশ দেরিতেই ঘুম ভাঙলো। আর মাত্র দুদিন ছুটি আছে। উঠে মনে পড়লো আমি বেশ ঘেটে আছি। মাথায় অনেক কিছু মিলে এমন জট পাকিয়েছে যে সে জট কেমনভাবে খুলবো বুঝে উঠতে পারছি না। তাই ফ্রেশ হয়ে এসে ভাবলাম এভাবে হবে না। একেবারে সিস্টেমেটিক ভাবে ভাবতে হবে এবং এগোতে হবে। এমন সব ধোঁয়াশা একবারে আমার পক্ষে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। তাই যেগুলি আপাতদৃষ্টিতে আমার পক্ষে সম্ভব মনে হয় সেগুলি একজায়গায় পর পর লিখে রাখলাম এরপর একে একে ভাবতে হবে।
প্রথম :ট্যাক্সির ধাঁধা। এটা সল্ভড।যেটার সূত্র ধরেই হয়তো ব্যাংক ডাকাতি হয়েছে। ডাকাত কারা জানিনা। এখন ভাবছিনা। কি ডাকাতি হয়েছে জানিনা। ওটাও ভাবছিনা।
দ্বিতীয় -আমার কিডন্যাপিং। আর ধাপায় নিজেকে ফিরে পাওয়া, এটা নিয়ে ভাবছিনা।
তৃতীয় -রামদার মার্ডার। এটা নিয়ে ভাবনার মানে হয়না।
চতুর্থ -জার্মান রিলেশন। ব্যাংকের ডাকাতি আর শ্রেয়ানের বাইকে স্ক্র্যাচ করে লেখা। জার্মান কেউ জড়িত। এটা নিয়ে এখন ভাবছি না।
পঞ্চম -ডঃ চোঙদার এবং ওনার অ্যাসিসট্যান্ট মিঃ বিজয়নের অন্তর্ধান অথবা খুন। খুনের সম্ভবনাই বেশি।
ষষ্ঠ -ডঃ চোঙদারের নকল স্ত্রী। এই সমস্যার সমাধান হয়ত আগেই ভেবেছি।
সপ্তম -সিডির দুটো ধাঁধাঁ। একটা কভারিং, ‘গলায় জড়িয়ে ‘জাতীয় সংগীতে লেটার সম্পর্কিত। ওটা সল্ভড। পরের টা ফোল্ডারের ধাঁধাঁ। সঠিক ফোল্ডার গুলো পাওয়া গেছে। কিন্তু ফোল্ডারের মধ্যে যেসব রেক্ট্যাঙ্গুলার সাংকেতিক চিহ্ন আছে সেগুলো সল্ভ হয়নি। ভাবতে হবে।
অষ্টম -শ্রেয়ানের কিডন্যাপ। কে বা কারা করল। ও কোথায় আছে। বোঝা গেছে ধাঁধাঁ গুলো সল্ভের বিনিময়ে ওকে রানসাম হিসেবে রাখা হয়েছে। এর বেশি আর আপাতত বোঝা সম্ভব না।
নবম -জগা কি বেঁচে আছে? ওর মৃত্যু টা সাজানো না সত্যি? ও কিন্তু এই দাবা খেলার বোরে।
দশম -চোঙদার লেখা লেকে ঘটিগরমওলার ধাঁধাঁ।
“সুপ্রীম সোয়ান” মার্কা। এটা নিয়েভাবা দরকার।
একাদশ-সোয়ান আর বার্গেনস্টাইন। এরা কারা? এই জার্মান জিউ বা কে? সিম্বলটা নিয়ে ভাবা উচিত। SOAM এর সিম্বল হয়তো।
দ্বাদশ -প্রাইভেট নাম্বার থেকে আমাকে ফোন করে ধাঁধাঁ সমাধান করার জন্য হুমকি। পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে শ্রেয়ানকে অপহরণ করা হয়েছে, আমাকে দিয়ে ধাঁধার রহস্য সমাধান করার গ্যারান্টির জন্য মর্টগেজ হিসেবে।
ত্রয়োদশ -সমস্ত ঘটনার সঙ্গে আমার অতীত জড়িত। আমার বাবা যে জড়িত তার গ্রহণ যোগ্য যুক্তি পেয়েছি। সবকিছু পরিষ্কার হওয়ার জন্য ভবিষ্যতের অপেক্ষা করতে হবে।
এই তেরোটা পয়েন্ট ছাড়া আপাতত আমার আর কিছু মাথায় আসছে না। তবে বিশেষ করে আমায় মনোনিবেশ করতে হবে তিনটে পয়েন্টের ওপরে। সাত, দশ, এবং এগারো। কারণ এই পয়েন্ট তিনটে ক্রিপ্টোগ্রাফি সংক্রান্ত, যা আমার কর্ম আর ধর্ম। মনোনিবেশ করা ছাড়া আর উপায়ই বা কি?
এটা নির্মম বাস্তব যে আমার অজান্তে আমার চারিদিকে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের এক অদৃশ্য বেড়াজাল গড়ে উঠেছে। আমি হয়তো প্রকৃত অর্থে বন্দী। আমার খাওয়া দাওয়া, গতি বিধি স্বাধীনভাবে হলেও কিন্তু প্রতি মুহূর্তে আমি নজর বন্দি। আমি যেন বহু মুখী বিপদে পড়া এক প্রাণী। পালানোর পথ নেই। একটি মাত্র উপায় আছে তাহলো আমার মগজাস্ত্র।

ক্রমশ…