পঞ্চান্ন

লুলিয়াকে যখন ফোন করলাম তখন ও কাকার বাড়িতেই ছিল । ছেলেকে নিয়ে তখনো ফেরেনি । ফোনেই বলেছিলো ছেলেকে নিয়ে আমার বাড়ি চলে আসবে । তারপর আমাকে নিয়ে ডঃ চোঙদারের বাড়ি যাবে । কিছুক্ষনের মধ্যেই লুলিয়া ট্যাক্সি করে আমার বাড়ির গেটে এসে ফোন করলো । আমি প্রস্তুত হয়ে ছিলাম । ট্যাক্সিতে উঠে লুলিয়ার ছেলের সঙ্গে আলাপ জমাবার চেষ্টা করলাম । কিন্তু জানতে পারলাম লুলিয়ার ছেলে বোবা । জানতে পেরে খুব অবাক হলাম । লুলিয়া তো আগে কোনোদিন আমায় বলেনি । অবশ্য এই দুঃখের কথা কেমন করেই বা বলবে । ট্যাক্সি ডঃ চোঙদারের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো । প্রথমে লুলিয়ার সঙ্গে ওপরে ওদের ফ্ল্যাটে গেলাম । ডঃ চোঙদারের ফ্ল্যাটের চাবি যদিও লুলিয়ার কাছেই ছিল তবুও এনাদের ওর ঘোরে গিয়ে বসতে বলল । আমি লুলিয়ার ছেলেকে নিয়ে বসার ঘোরে অপেক্ষা করতে লাগলাম । ছেলেটাকে কোলে বসিয়ে জিগেশ করলাম, “মা কোথায় গেল রে?”ছেলেটা জিভ বের করে চোখ উল্টে দেখালো মরে গেছে । ভাবলাম কানে নিশ্চই কম শোনে । কারণ বোবা হলে অনেকাংশে কালা হয় । লুলিয়া পোশাক চেঞ্জ করে ওর ঘোর থেকে বেরিয়ে এলো । বলল,”চলো এবার গিয়ে দেখি “আমরা বাচ্চাতাকে ওপরে রেখেই নীচে নেমে এলাম । ডাইরেক্ট ডঃ চোঙদারের বেডরুমে গিয়ে ঢুকলাম । পকেটে করে সেই কাগজের চিরকুটটা এনেছিলাম । লালিয়াকে দেখতে দিলাম । আমি আবার ঘরটাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম । ঘরের আলমারি কাপবোর্ড কিছুই বাদ রাখলাম না । সেগুলো সব খোলাই ছিল । ভিতরটা খুটি নাতি সব দেখে নিলাম । খাটের ওপর সব টেনে নামালাম । দেয়াল গুলো সব ঠুকে ঠুকে দেখলাম । রামকৃষ্ণর ফটো আর দেয়াল ঘড়ির পেছন সব দেখলাম । ফটো দুটোর পেছনে. সন্দেহ জনক কিছু না পেলেও দেখলাম দেয়াল ঘড়িটা ঘরের কনসিলের সাথে তারের সাথে যুক্ত । ঘড়িটার ব্যাটারি খুলে একটা এডপ্টটার লাগানো । বৈজ্ঞানিক বাড়ি বোঝা যায় । ইলেকট্রিসিটি দিয়ে চালানোর জন্য ঘড়িটা মডিফাই করা হয়েছে ।এতো তারা তারই মাথা খুলবে না । আরও মাথা খাটাতে হবে এখানে বসেই । তবে একা থাকলে মাথাটা খোলে । কারুর উপস্থিতিতে মনো সংযোগ করা যায়না । আমি তাই লুলিয়াকে বললাম,”লুলিয়া কিছু যদি মনে না করো আমি কিছুক্ষন একা থাকতে চাই । একা থাকলে আমার ভাবনা গুলো ঠিক থাক এগোয় ।”আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার সব প্রশ্নের উত্তর গুলো এখানেই পাব । শুধু একাগ্র চিত্তে ভাবতে হবে আর জিনিস গুলো খুঁজে নিতে হবে ।”লুলিয়া একটু আসন্তুষ্ট হল। বলল,”আমি তোমায় ডিসটার্ব করবো না অর্ক, সঙ্গে থাকলে যদি তোমায় হেল্প করতে পারি “। আমি ওর হাতটা আমার হাতের মুঠোয় নিয়ে বললাম,” প্লিজ লুলিয়া আমার একটু সময় লাগবে, কিছু পেলেই তোমায় ফোন করবো “। লুলিয়া আমার ধরা হাতটা একটু চেপে হেসে বেরিয়ে গেল । আবার ভাবা শুরু ।
রামকৃষ্ণের ছবি দুটো দেয়ালে টাঙানো অবস্থায় আমাকে পথ দেখাবে মানে আমাকে তথ্য দেবে । ফটো দুটো তিন ফুট বাই দুফুট হবে । কিন্তু কিভাবে দেবে? জুতো খুলে খাটে উঠে চোখদুটো ফটোর কাছে নিয়ে গিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম । ফটোর গায়ে কিছু লেখা বা সংকেত নেই । ফটো দুটো খুবই পরিচিত ভঙ্গির । ছোটবেলা থেকেই ওই ভঙ্গি দুটি দেখছি । টাইম মেশিন কি? সত্যি কোনো মেশিন বা যন্ত্র? কোথায় থাকতে পারে সেটা? ঘরের ডিভাটা খুলে দেখলাম । ভেতরে লেপ তোশক আর বসলিশ ছাড়া কিছু নেই । আবার তাকালাম দেয়ালে রামকৃষ্ণর ছবি এখনও কোনো পথ দেখাতে পারেনি । টাইম মেশিনও এখনও পাইনি । এই ঘরের সব কিছুই দেখা হয়ে গেল । তাহলে টাইম মেশিন কোথায়? হঠাৎ রামকৃষ্ণর ছবি দুটির মাঝে অকেজো ঘটিটার দিকে চোখ পড়তেই মাথায় যেন কারেন্ট খেলে গেল । ঘড়িতো একটা টাইম মেশিন । যে টাইম দেয় সেও তো টাইম মেশিন । এক্সাক্টলি! ইউরেকা!তাহলে একটা জিনিস পাওয়া গেল । আবার খাটে উঠে ঘড়িটাকে খুলে আনতে গেলাম । কিন্তু ঘড়িটা ঝোলানো থাকলেও ওর পেছন দিয়ে একটা তার দেয়াল ফুটো করে ঢুকে গেছে । তারের সঙ্গে ঘড়িটা আটকানো বলে খোলা গেল না । দেখলাম ঘড়ির ডায়ালের ওপর কোনো কাঁচ নেই । মনে হচ্ছে ইচ্ছে করেই কাঁচ খুলে রাখা হয়েছে । আবার ভাবতে শুরু করলাম । একটা সূত্র যখন পাওয়া গেছে তখন বাকিটাও পাওয়া যাবে । আবার রামকৃষ্ণ দেবের ছবি দুটোর দিকে তাকিয়ে ভাবছি, কিভাবে ওখান থেকে পথ দেখাতে পারে?