শাড়ি

আমার জন্ম রামধনু রঙে রাঙানো শাড়ি অঙ্গে
সাগরের অবাধ্য ঊর্মি ছাপিয়ে যায় যার আঁচলের কূল,
গায়ে বোনা আদর আর অপমানের নকসা
পাড়ে ফুটেছিল অভিমানী জরির ফুল।
সংরাগে সে রক্তবর্ণ, শুদ্ধ পূর্ণরূপে শ্বেতা
কখনো ঘৃণার বিষে নীল, সম্ভ্রমে পীতবর্ণ
ত্যাগে কমলিনী আবার উচ্ছলতায় সবুজ
বিষণ্ণতায় আমার শাড়ি রহস্যময় কালো
বিশ্বাসের গোলাপী ছোঁয়ায় অনুপম সে
আত্মভোলা শান্ত শাড়ি আমার মতই অবুঝ।
হারিয়ে ফেলেছি তাকে বহুজন্মের ‘পারে
দ্যূতক্রীড়ায় মত্ত হাজার পুরুষের ভিড় সভায়,
কখনো নটীর জলসাঘরে, নৃত্যরতা দেবদাসীর নাটমন্দিরে।
আবার কেউ নাকি ছিন্নভিন্ন সেই শাড়ি খুঁজে পেয়েছে রাতের রাজধানীর নির্জন পথে, হাথরসের চাষের খেতে।
অগ্নিহীন দহন -অন্তে, চিতাভস্ম থেকে
জন্ম নেয় অপরাজিতা নারী। তার বোধনে অঞ্জলিতে পুঞ্জিত অপমান।
প্রার্থনা করো পূর্ণ, আজ, অন্তরতমা –
ফিরিয়ে দাও পাঞ্চালীর অনিঃশেষ শাড়ি।