১| ঘনীভবন

রান্নাঘর
১ গাঁদাল পাতা ভাজা হচ্ছে
২ বাঁটা হবে লঙ্কা হলুদ পোস্ত
৩ লণ্ঠন জ্বলছে
৪ মেঘ ডাকে গুড়ুম গুড়ুম…
সংখ্যা বাহু
গন্ধ বর্ণ আলো শব্দর কৌণিক যোগফল
চৌদল বা দাফন উপরিতল হয়
সীমা নির্দেশ করে
প্রকৃতির বুকে মিশেও যায়…..
একটি স্বামী গন্ধ শব্দ কোণ থেকে
বর্ণ আলোর দেশে
একটি স্ত্রী বর্ণ গন্ধ কোণ ধরে
আলো শব্দ সফরে যায়
উপস্থিত হয় ছেদ
চলন বলন মধ্যস্থতায় বিন্দুসুখ উপলব্ধ হয়……

২| স্বপ্নের সীমানা

ঘুমঘরে মধ্যরাত, স্বপ্ন মেলে ধরে
বর্ণধারী শক্ত সুখ, মুখপানে চায়
চোখ কয় বন্ধ আমি, অন্ধকার পুরে
লজ্জা লাগে দিনভাগে, নগ্ন আঙিনায়
মন বলে খুঁজি আমি, স্বপ্ন মাখা বর
বুকে আছে সুখকথা, বর্ণমালা খুঁজি
রাতভোর ছিলে সেথা, দিনে ফাঁকা ঘর
এলোমেলো ঝড়বয়, নৌকো টানে মাঝি।
সাজ ঘরে লাজ ঝরে, শক্ত হয় দানা
মনে খিদে দেহ বিঁধে, অধীর কানাই
একে যায় বেঁকে যায়, পড়ে যায় কণা
রাগরাগ ভাব কাটে, সোহাগা সোনাই
গাছপালা কথাবলে, বলে কবিরাজ
স্বপ্ন জুড়ে রঙ মাখে, দেখে ঋতুরাজ।

৩| প্রীতি কথন 

নূপুর গাঁয়ে বিকেল আমি আমলকি
পথের বাঁকে পথিক দৃষ্টি এল ধেয়ে
উড়না ঢাকি শরম তারে বলব কী
পরিশোভিত তারিফ মাথা নিল খেয়ে
চুপিচুপি বল কথা হবে খাঁটি সখা
খুশি খুশি ভাব জাগে আনন্দ সুন্দর
জেনেবুঝে প্রশ্নকরি দেবে নাতো ধোঁকা
বিষ পানে ক্ষীণ হয় আমার অন্তর।
ছল বল রপ্ত করে হতে পারি খল
অবহেলা অভিযোগে দেখা পাবে শব
তৃপ্তির মদন জলে পাবে তুমি বল
রতি সতী মধুমতী করি কলরব
বাবা মাকে দূরে রেখে হতে পারি বউ
কষ্ট ভুলে সৃষ্টি ছলে কথা কয় ঢেউ।
৪| হাঁক
নিশ্বাস ভারী হলে কিছু প্রেম মেখে নিতে হয়
রক্তে অক্সিজেন কমে এলে ফুসফুসে চাপ পায়
শোকস্তব্ধ পৃথিবী
শন শন হাওয়া বয়
মেঘ ঝলসে উঠে বারে বারে
আর কত মৃত্যু বাকি কে জানে
প্রতিটি বিপর্যয় লগ্নে বৃষ্টি হয়
ক্ষণিক থমকে দাঁড়ায় সভ্যতা
শিকড় নড়বড় করে ডাল ভেঙে পড়ে
আলোর খোঁজে এক অঙ্কুর উঁকি দিয়ে যায়……

৫| প্রেক্ষাপট 

ইতিহাস বলছি
ধর্ম্ম, প্রেম, সংবিধান, সাম্রাজ্য পতন হচ্ছে
কষ্টের প্রতিটি রাত লেখা থাকছে স্মৃতির পাতায়
সোনার খাঁচা, তুমি, ভালোবাসা, মেঘ ছায়া বিকেল, যৌনতা, নষ্টামি দুপুর, গোয়ালঘর, আমতলা, বাদামী বসন্ত, চিঠি, অপেক্ষার প্রহর, রাজনীতি সবই থাকছে
থাকছে না ভবিষ্যৎ
পরিস্থিতি পালটেছে
ক্ষমতা আর অর্থ বল মুঘল সাম্রাজ্যের পতন রুখতে পারবে না