অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
পাক্ষিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১২
বিষয় : রঙবদল
তারিখ : ১৬|০৯|২০২০

বহুরূপী স্যর

আমার মা আর তোমার মায়ের একই নাম। আমার মা আজ দশ বছর আগে ইহলোক ত্যাগ করেছেন।তোমার মা এ বছর। মায়ের নাম এক হওয়ার সুবাদে আমরা বন্ধু। তুমি আমাকে স্যর ডাকতেই পারো।আপনি লোকের সামনে বললেও তুমি আর আমি যখন থাকবো তখন আমাকে তুমি ডাকবে রিক্তা।
আপনি দেখতে আমার ছোট বোনটির মতো একদম। ঠিক যেন আমার ছোট বোন হাসি।
হাসি ঠিক আপনার মতোই শান্ত ছিল। আপনার কপালে যেমন ওই কাটা দাগ ,ওর কপালেও একটা ছিল।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন স্যর। ওই দাগটির জন্য আমিই দায়ী ।একদিন কয়েদবেল মাখার ভাগ কমবেশি হওয়ায় বেলের খোলাটা ছুঁড়ে হাসির কপালে মারতেই রক্তপাত।
বেচারা বিয়ের পর মরলো পুড়ে । আমি আর ভাই ফোঁটা পাই না।
স্যর সামনের ভাতৃদ্বিতীয়াতে আপনার আমার কাছে ভাইফোঁটা নেবার অগ্রিম আমন্ত্রণ রইলো।
বলেই সরলা প্রণাম করলো।
রুমি স্যারের প্রিয় ছাত্রী। কলেজে গ্রুপছবি তোলবার সময় স্যর রুমিকে সামনে নিয়ে কাঁধে হাত দিয়ে ধরলেন।
একজন ম্যাডাম কটমট করে দেখলে স্যর চটপট বললেন আমার মেয়ের নাম ছিল রুমি। সে আজ বেঁচে থাকলে এরই বয়সের হোত !
এবারে ম্যাডাম বললেন-আচ্ছা। তো স্যার আপনার সঙ্গে স্টাফরুমে আজ একটু কথা বলবার ছিল।
স্টাফ রুমে স্যার অপেক্ষা করছেন।ক্লাস থেকে ফিরে ম্যাডাম তাঁর দিকে তাকিয়ে হাসলেন।
স্যার বললেন যদি অভয় দেন আমি কথাটা বলবো ?
বলুন স্যার।
আপনার হাসি আর গাম্ভীর্য অবিকল অঞ্জনার মতো ।
অঞ্জনা কে ?
আমার প্রয়াতা প্রথমা।
ও। তা দ্বিতীয়া এসেছেন কি ?
না । আমি আশা করেছিলাম আজ আপনি সম্মতি দেবেন।না মানে ম্যাডাম আপনিও তো অবিবাহিতা।
হতভম্ব হয়ে নীরব ম্যাডাম।
কিছুক্ষণ পরে ধীরে ধীরে উত্তর দিলেন– আমাদের সম্পর্ক গুলো এক একটা রঙে রঙিন তাই না স্যার !
অথচ সবার মধ্যেই সব সম্পর্কের রঙ থাকে। প্রতি ব্যক্তি বহু রঙে পুর্ণতা পায়। বিয়ের সিঁদুরের রঙে বদল হয়ে মহিলারা পায় বিভিন্ন রঙ বদলের সম্পর্ক।