- 171
- 0
(নাইরোবি - অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্ক - মাসাই ভিলেজ - বিদায় নাইরোবি - বিদায় আফ্রিকা)
আফ্রিকা ভ্রমণ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। গত দশ দিনে আফ্রিকার দুটো সুন্দর দেশ কেনিয়া- তানজানিয়ার অনেক কিছু দেখলাম। স্বপ্নের ভ্রমণ যাকে বলে- সেই দেখা ও বেড়ানোর আনন্দ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাব স্বদেশে। শেষ স্পট হিসেবে পড়ে রয়েছে অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্ক। সেই পার্কে যাব আজ।
অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্ক নাইরোবি থেকে অনেকদূর। দুশো কিলোমিটারের কিছু বেশি। প্রায় ছ- সাত ঘন্টার লংজার্নি। সকাল সকাল বেরতে পারলে ভালো হয়। কিন্তু আমাদের উপায় ছিল না সকালে বেরনোর। সকালে ডুলুং এর পেপার প্রেজেন্টেশন ছিল। ও পেপার পড়া শেষ করে ইউনিভার্সিটি থেকে হোটেলে ফিরে আসতেই আমরা লাঞ্চ করে বেরিয়ে পড়লাম অ্যাম্বোসেলির পথে।
ডুলুং এর পেপার প্রেজেন্টেশন ভালো হয়েছে। তাই ও বেশ চাপ মুক্ত মনে বেড়াতে যাচ্ছে। সোহমের তো আগেই হয়ে গিয়েছিল। দুজনেই এখন ফুরফুরে মেজাজে।
মাসা একমনে ড্রাইভ করছে। যেহেতু পথ অনেক লম্বা। সন্ধে তো হবেই, রাত যেন না হয়ে যায়, মাসা গাড়িকে ছোটাতে শুরু করেছে। মাসা জুলিয়াসের মত ধীর স্থির নয়। মাঝে মধ্যে একটু রাফ ড্রাইভ করে। তখন আমাকে সতর্ক করে দিতে হয়। আর ও হেসে বলে, "ডোন্ট ওরি!..হাকুনা মাটাটা!.."
নাইরোবি শহর ছাড়িয়ে গাড়ি যখন হাইওয়েতে চলে এসেছে মাসা গান বাজিয়ে দিল। আফ্রিকার গানে কেমন একটা যেন সুরের দোলাচল রয়েছে, শরীর মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। পর পর অনেকগুলো গান শুনলাম। সব গান মনে নেই। কয়েকটা গান ছিল এমন.. "Bayeza...bayeza./ Dugu Kamalemba.../ মুহোগো ওয়া জাঙ্গোম্বে.../"
দিনের আলো শেষ হয়ে গেল। আমরা অ্যাম্বোসেলি পৌঁছাতে পারলাম না। সানসেটের রক্তিম আলোয় আকাশ বড় সুন্দর ছিল আজ। লাল মাটির ধূ ধূ প্রান্তর অনেক দেখলাম।
এই লম্বা জার্নিটা খুব সুন্দর। কেনিয়ার কত জনপদ, কত লোকজনকে দেখতে দেখতে এলাম। পথের ধারে হঠাৎ হঠাৎ জিরাফও দেখেছি বেশ কয়েকবার।
অ্যাম্বোসেলিতে আমাদের রাত ঠিকানা ছিল A A LODGE. ঘড়িতে প্রায় আটটা, অনেক বন- জঙ্গল-পাহাড় ডিঙিয়ে অবশেষে এ এ লজে এসে উঠলাম। খুব পছন্দ হলো লজ। অনেকটা এরিয়া নিয়ে ছড়ানো লজের কটেজগুলো সুন্দর। আজকের রাতটাই এখানে থাকব। আগামীকাল সকালে অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্কে গেম ড্রাইভ করে এসে লাঞ্চ খেয়ে বেরিয়ে যাব আবার নাইরোবির পথে। আগামীকালও হবে এক লংজার্নি। কালকের রাতটা নাইরোরির সেই সাফারি ক্লাব হোটেলে কাটিয়ে পরশু ভোরে Jomo Kenyatta international airport থেকে ইন্ডিগোর ফ্লাইটে উঠে পড়তে হবে গুডবাই কেনিয়া বলে!..
১৮৮৩ সালে একজন ইউরোপিয়ান ভদ্রলোক জোসেফ টমসন, অ্যাম্বোসেলিকে প্রথম আবিষ্কার করেন। অ্যাম্বোসেলির পরিচয় হলো - " In this bleak dusty landscape on the foothills of Mt. Kilimanjaro at 1150 metres above sea level lies an ecological masterpieces. The Massai called it Embosel- a sally, dusty open plain."
১৯৪৮ সাল পর্যন্ত এই প্রায় চারশো বর্গমিটার জায়গাটা " মাসাই রিজার্ভ " বলে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছিল। তারপর সেটা "গেম রিজার্ভ " হিসেবে পরিচিতি পায়। এবং অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্কের মর্যাদা লাভ করে ১৯৭৪ সালে।
AMBOSELI NATIONAL PARK, KIMANA GATE দিয়ে আমরা ভেতরে প্রবেশ করি। একদম সকাল বেলার গেম ড্রাইভে চলেছি। আকাশ মেঘলা। ছিটেফোঁটা রোদের সম্ভাবনা নেই। মাসা ধূলি ধূসরিত পথে গাড়িকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আগেই শুনে এসেছিলাম অ্যাম্বোসেলিতে রাস্তা একদম মেঠো পথের ধূলোয় ভরা থাকে। চোখে চশমা, মাথায় টুপি ও মুখে মাস্ক জরুরি। আমরাও তিনজন তাই করলাম।
অ্যাম্বোসেলি বিখ্যাত হাতিদের জন্য। দলে দলে হাতি দেখা যায়। বেশির ভাগ হাতি চেহারায় ও উচ্চতায় বেশ বড়সড়। গেম ড্রাইভের শুরুতেই পেয়ে গেলাম তেমন এক হাতি। বড় জোর পঞ্চাশ হাত দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল হাতিটাকে দেখে ভয় করছিল। মনের সুখে ছবি তুলেছি। ভিডিও করেছি। আর মনে মনে বলেছি, ধন্য, ধন্য, ধন্য আজকের সকাল!.
অ্যাম্বোসেলির গেম ড্রাইভেও ঘুরে ফিরে অনেক বন্যপ্রাণ দেখা হয়ে যায়। একটু অপেক্ষা, একটু ধৈর্য ধরে শুধু ঘুরে বেড়াও এই স্যালি, ডাস্টি মুক্ত বনভূমিতে।
আমরা অনেকবার অনেক জায়গায় জেব্রা, জিরাফ, কেপ বাফেলো, জলহস্তী, ইমপালা, থমসন গ্যাজেল দেখেছি। পাখিও দেখা যায় বহু প্রজাতির। প্রায় চারশো প্রজাতির পাখির বাস এই পার্কে।
হাতি দেখতে দেখতে একটা সময় মনে হয়েছিল, আর কত হাতি দেখব!..অ্যাম্বোসেলির হাতিদের কপাল সামনের দিকে অনেকটা এগিয়ে থাকে। কানদুটোও বিরাট হয়। এগুলো এদের বৈশিষ্ট্য। শুনলাম এক হাজারেরও বেশি হাতি আছে অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্কে। এখানে দেখতে পাইনি গন্ডার, লেপার্ড ও নাইল কুমীর।
অ্যাম্বোসেলির মত পার্ককে বাঁচিয়ে রাখার জন্য দেখলাম আবেদন করা রয়েছে গেটে- "Teach your children what we have taught our children, that the earth is our mother, whatever befalls the earth, befalls the sons of the earth. If men spit upon the ground, they spit upon themselves. "
আজ সকাল থেকে আবহাওয়া প্রতিকূল। রোদের হাসি দেখতে পাই নি। তার ফলে অ্যাম্বোসেলি থেকে মাউন্ট কিলিমাঞ্জোর দেখার সৌভাগ্য আমাদের হয় নি। আফ্রিকার সর্বোচ্চ পিক হিসেবে খ্যাত মাউন্ট কিলিমাঞ্জোর। এর অবস্থান তানজানিয়ায়, কিন্তু কেনিয়ার অ্যাম্বোসেলি থেকে স্পষ্ট ও সুন্দর দেখা যায় আকাশ পরিষ্কার থাকলে। কিলিমাঞ্জোরের উচ্চতা ৫৮৯৫ মিটার ( ১৯, ৪৪১ ফুট)।
কিলিমাঞ্জোর নিয়ে আজ চিন্তায় সারা বিশ্ব। এর মাথার উপর যে "আইস ক্যাপ" রয়েছে, তা দ্রুত গলে যাচ্ছে! এর ফলে আগামী তিরিশ চল্লিশ বছর পর এখানকার ইকো সিস্টেম বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এত এত বন্যপ্রাণীদের মধ্যে প্রবল জলসংকট দেখা দেবে। ভূপ্রকৃতি তছনছ হয়ে যাবে। এসব কথা ভাবলে মন খারাপ হয়ে যায়। এর জন্য দায়ী তো আমরাই!..সব রকম দূষণ দিয়ে ধরণীকে ধরাশায়ী করে রেখেছি। আজ সত্যিই গভীর গভীরতর অসুখ পৃথিবীর!..
অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে বেশ কয়েকটা সুন্দর লজের দেখা পেলাম। Amboseli Lodge, Tukai Lodge খুব ভালো। এই সব লজে থেকে এই অরণ্যের দিনরাত্রিকে উপভোগ করতে পারলে, অ্যাম্বোসেলি ভ্রমণ আরও অপূর্ব, আরও সুন্দর স্মৃতিময় হয়ে থাকবে সারাজীবন।
অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্কে কমবেশি চার ঘন্টার গেম ড্রাইভ শেষ করে বেরিয়ে এলাম। এবারের মত আফ্রিকা ভ্রমণে জঙ্গল বেড়ানো শেষ হলো। গেম ড্রাইভ আর নেই। আবার যদি ভাগ্য সহায় হয়, সব কিছু ঠিক থাকে, ইচ্ছে আছে আগামী কোনও এক সময়ে আফ্রিকার আরও দুটো ট্যুর করার - Namibia, Botswana & Zimbabwe ও South Africa.
অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্ক থেকে বেরিয়ে এলাম, মনে একটাই খেদ নিয়ে, এবার আর কিলিমাঞ্জোরের দেখা পেলাম না!.তানজানিয়ার কারাটু, আরুষা থেকেও দেখা যায়। কিন্তু নাহ্! আমরা ওদুটো জায়গা থেকেও কিলিমাঞ্জোরকে দেখতে পাই নি!.প্রকৃতির খামখেয়ালির কাছে নতজানু হতেই হয়। তাই দুঃখ পেলেও হতাশ হই নি!.. আরেকবার তো আসাই যায় এমন রূপকথার জঙ্গলগুলোতে! কিলিমাঞ্জোর, তখনও তুমি অধরা থেকো না!..
A A Lodge এ লাঞ্চের ব্যবস্থা করা ছিল। অ্যাম্বোসেলির গেম ড্রাইভ থেকে ফিরে এসে চটজলদি খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম। পথে আবার মাসাই ভিলেজ ট্যুর আছে। মাসাইমারা থেকে ইসেবানিয়া বর্ডারে যাওয়ার সময় আমরা নিজেরা কুড়ি ডলার করে দিয়ে মাসাই ভিলেজ ট্যুর করেছিলাম। কিন্তু অ্যাম্বোসেলির এই মাসাই ভিলেজ ট্যুর কমপ্লিমেন্টারি। আমাদের ট্যুর অপারেটর Latifa Kadzo Mohammad এটার ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
মাসাই ভিলেজে ঢুকতে না ঢুকতেই হৈ হৈ শুরু হয়ে গেল। চারপাশ থেকে "জাম্বো জাম্বো কারিবু" বলে ছুটে ছুটে আসছে মাসাইরা। কি অপূর্ব সে দৃশ্য। লাল চাদরে ঢাকা কালো শরীর, হাতে লাঠি নিয়ে লম্বা চেহারার মাসাইরা হাসতে হাসতে আসছে আমাদের দিকে- কোন ভয় নয়, বিরক্তি নয়, মনের মধ্যে অদ্ভুত এক নতুন আনন্দ হচ্ছিল তখন। মাসা সোয়াহিলিতে অনেক কিছু বলে ওদের শান্ত করল। বুঝলাম
আমাদের সঙ্গে কোনও টাকা পয়সা নিয়ে কথা নয়। ওরা আমাদের শুধু গ্রাম দেখাবে, নাচ দেখাবে, গান শোনাবে। টাকা দেবে মাসা!..
মাসাইরা তো খুব খুশি। ওদের সর্দার এগিয়ে এসে সুন্দর ইংরেজিতে আলাপ করে আমাদের নিয়ে গেল ওদের ছোট্ট গ্রামের ভেতর। হাতে গোনা দশ বারোটা মাটি-গোবর- বাঁশ- চাটাই দিয়ে বানানো কুঁড়েঘর। এই এক একটা একমুঠো ঘরই ওদের ওয়ান ইন অল!..এর আগের মাসাই ভিলেজেও তাই দেখে এসেছি। আশ্চর্য হতে হয় ওরা কিভাবে এখানে পরিবার নিয়ে থাকে, আর কেনই বা এত ছোট করে অন্ধকারময় ঘরগুলো বানায়!..
মাসাই ভিলেজে ঘুরে ঘুরে অনেক কিছু দেখলাম। জানলাম। ওরা নোম্যাডিক- যাযাবর জীবন ভালোবাসে। মাসাই পুরুষরা বেশ গর্ব করে বলে, "আমাদের পলিগ্যামি সোসাইটি।" ছেলেরা একাধিক বিয়ে করে, বেশির ভাগ পুরুষেরই পাঁচ, সাত, দশটা করে বউ আছে! এমন এক মাসাই যুবক বউয়ের সামনে দাঁড়িয়েই দিব্যি হেসে হেসে বলল, পরের মাসে ও চতুর্থ বিয়েটা করবে!..
মাসাই পুরুষদের বেশ স্মার্ট ও চালাক চতুর মনে হয়েছে। তুলনায় মেয়েরা একটু যেন পিছিয়ে। ততটা সপ্রতিভ মনে হয় নি।
এই মাসাই ভিলেজে ডাক্তারও আছে। তার দেখা পেয়ে গেলাম। সে অনেক জরিবুটি, আয়ুর্বেদিক ওষুধ আমাদের দেখালেন। বললেনও অনেক রোগের কথা। মাসাইরা কিভাবে সে সব রোগ ব্যাধি থেকে মুক্ত হয় তাও শুনলাম।। শুকনো গোবর থেকে কিভাবে আগুন জ্বলে ওঠে দেখে বিস্মিত হয়েছি। প্রাগৈতিহাসিক সেই পদ্ধতি আজও ওদের জীবনে কত প্রাসঙ্গিক।
এরপর শুরু হলো মাসাই ডান্স। হো হো.. হি হি..হা হা..গানের তালে তালে লাফানো। পুরুষরা লম্বা লম্বা লাফ দিচ্ছে। মাসাই মেয়েরা তেমন একটা নাচে না। নাচ মানে জাম্প!..ওদের এই নাচ দেখে অতি উৎসাহি আমিও একটু লাফিয়ে লাফিয়ে নাচলাম। এ মজার কোনও ভাগ হয় না!.. এ শুধু আমার!. ডুলুং-সোহমকে ওরা জোর করে নাচাল। সে এক মহা আনন্দ। এভাবে কেটে গেল কিছুটা সময়। এসব স্মৃতি কোনওদিন ভোলা সম্ভব নয়!..
নাইরোবিতে আবার ফিরে এলাম একই পথ দিয়ে। সেই সাফারি ক্লাব হোটেলে। মাসাকে বিদায় জানালাম আলিঙ্গন করে বুকে জড়িয়ে। এই মুহূর্তটা খুব আবেগঘন হয়ে উঠেছিল। আমরা সবাই হঠাৎ বড় চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলাম। মাসার সঙ্গেও অনেক সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে রইল।
আফ্রিকা ভ্রমণের নব্বই ভাগ শেষ হয়ে গেল। রাতটুকু শেষ হলেই ভোরের ফ্লাইটে উড়ে উড়ে চলে যাব নিজের দেশে। চেনা চেনা পরিবেশে। প্রিয়জনদের সমাবেশে। শুরু হবে নিত্যযাপন। জড়িয়ে ধরবে অন্যভুবন- সবুজ পাঠ । তার পর আবার দিন গোনা ও প্রস্তুতি পরবর্তী ট্যুর কোথায় করা যায়! কারণ আমার ঘরে একটা দুটো বুকিং স্লিপ বা কোনও টিকিট না থাকলে রাতে ঠিক মত ঘুম আসে না!..তাই "এমন যদি হোত আমি পাখির মত উড়ে উড়ে বেড়াই সারাক্ষণ..."এ গানটা আমার বড় প্রিয়!..
Jomo Kenyatta international airport এ চলে এসেছি। প্রায় শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে আসতে হয়েছে। এয়ারপোর্টে ঢোকার আগে একটা টোল গেট পেলাম। খুব অবাক হলাম, এখানে গাড়ি থেকে নেমে আমাদের মত সব যাত্রীর আলাদা আলাদা সিকিউরিটি চেকিং হলো। গাড়ি চলে গেল ওপারে। আমরা চেকিং এর পর হেঁটে গিয়ে গাড়িতে উঠলাম। হঠাৎ এত কড়াকড়ি কেন জানি না!..
ইন্ডিগোর উড়ানে বসে পড়েছি!..শরীর ক্লান্ত!.. মন একটু বিষন্ন তো বটেই!.. এক ভ্রমণে আফ্রিকার দুটো সুন্দর দেশ দেখা হলো। কত সুন্দর স্মৃতি নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। সব স্মৃতি তো জীবনে সুখের হয় না!..সুখস্মৃতি সব সময়ই অধরা মনে হয়, তারে ধরি ধরি মনে করি, ধরতে গেলাম আর পেলাম না.. তাই যখন মুঠো ভরা সুখস্মৃতি নিয়ে ভ্রমণ শেষে মন চলো নিজ নিকেতনে গুন গুন করতে করতে ফিরে আসি, সে বড় অলীক সুখ!..আশ্চর্য এক সুখানুভূতি!..
বিমান রানওয়ে ধরে ছুটছে!.. টেক অফ হবে হবে!.. আমি ডুলুং সোহমের দিকে চেয়ে মুদু হাসলাম, ওরাও হাসল, মনে মনে তিনজনই বোধহয় বললাম, "গুডবাই আফ্রিকা!.. ভালো থেকো আফ্রিকা!..
Kwaheri (বিদায়!..)!..
।। সমাপ্ত।।
0 Comments.