Mon 02 February 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব - ১১)

maro news
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব - ১১)

পুপুর ডায়েরি

পুপুর জন্যে " দি বেস্ট " না হলে মায়ের চলে না যে । ওখানকার লোকেদের ভালো মনে নেই। বুদ্ধ বলে একটা দাদা ছিলো, আর মৈত্রেয়ী বা ওই কিছু নামের একটা দিদি। সে একটা বড়ো হলের মত ঘরের এক দিকে ড্রেসিং টেবিলের সামনে টুলে বসে চুল আঁচড়াতো। পাশে বড়ো রেডিওগ্রামে গান বাজতো, " কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে যেন আমায়… "," সাগর ডাকে আয়.. " এই গানগুলো শুনলেই আমার কি রকম যেন করে বুকের মধ্যে, সেই দুপুরের রোদটা মনে পড়ে যায়। আর শুনতাম, " ছোটি সি পঞ্চী ছোট্ট ঠোঁটেরে "... একজন কাজের ছেলে আমাদের চার পাঁচ জনকে খাইয়ে শুইয়ে দিতো। আমি ছাড়া আর যারা ছিলো সবাই মারোয়ারী। পাড়ার কাছাকাছি বাড়ির থেকে আসতো। আমার মা আমাকে বেতের বাস্কেটে সুন্দর জামা, নরম তোয়ালে, লাল টুকটুকে খুব ভালো তিনটে বাটির টিফিন কেরিয়ার ভরে নিয়ে রিকশা করে পৌঁছে দিতেন। আমি মায়ের হাত ধরে রেলব্রিজের তলা দিয়ে, কদম গাছ পেরিয়ে, রাস্তার কোনায়, প্রতাপাদিত্য রোডের মোড়ে এসে ডাকতাম, " রিক্কা ভাই আমায় নিয়ে যাবে? " টানা রিকশার সিটটা ওপরে,কাঠের হাতল দুটো নেমে মাটি ছুঁয়ে থাকে। সামনে দুটো হাতলকে ঋজু রেখায় আটকে একখানা কাঠের লাঠি। অনেক সময় সেখানা পেতলে বা লোহার পাতে মোড়াও হত। রিকশাওয়ালাদের হাতে থাকে মোটা সোনারঙ পেতলের ঘন্টা। কি অদ্ভুত কায়দায় চলার তালের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে রিকশার কাঠের হাতলে সেই ঘন্টা দিয়ে আওয়াজ ওঠে, ঠং ঠং। গাড়ির হর্নের কাজ করে সেই আওয়াজ। খুব আরাম হত সেইটে শুনতে। আমি গিয়ে মায়ের হাত ধরে ডাক দিলেই রিকশাওয়ালারা, " হাঁ বাবু এসো এসো ", বলে আমায় কোলে করে নিয়ে মায়ের পাশে বসিয়ে দিতো। সেই থেকে এস আর দাস রোডের রাস্তাটা, আমার বড় হওয়ার রাস্তা হয়ে রইল।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register