Tue 03 February 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব - ৯২)

maro news
সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব - ৯২)

বিরানব্বই

পুলিশের ভ্যান দেখে হামলাকারীরা আগেই পালিয়েছে। পুলিশের একজন সাবইন্সপেক্টর, দুজন পুলিশ কনস্টেবল ও আরও দুজন মহিলা পুলিশের একটি দল আমার ঘরে ঢুকে পড়লো। সঙ্গে একটা অ্যাম্বুলেন্সও নিয়ে এসেছে, পুলিশ। লুলিয়া অসুস্থ বলে আর্যমা লুলিয়ার জন্যই অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে দিয়েছে। আর্যমা এই কর্তব্য বোধ, কর্মতৎপরতা ও বিচারবুদ্ধিতে আমি মুগ্ধ হলাম। মহিলা পুলিশ দুজন লুলিয়াকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে উঠলো। আমি মহিলা পুলিশ দুজনকে বললাম, "লুলিয়াকে খেয়াল রাখবেন। প্লিজ, ওতো অসুস্থ।"মহিলা পুলিশ দুজন বললো,"আপনি কিছু চিন্তা করবেননা ম্যাডাম আমাদের কি করতে হবে বলে দিয়েছে।"লুলিয়া খুব কাঁদছিলো। কাঁদারি কথা। গত দুদিন ধরে ওর ওপর দিয়ে যে ঝড় যাচ্ছে। কিন্তু যাই হোক না কেন নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই ব্যবস্থাই যুক্তিসঙ্গত। আমার বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্যও দুজন কনস্টেবল পোস্টিং করেছে, আর্যমা। ফোনে যখন ও একথা বলেছিল আমি আপত্তি করেছিলাম। কিন্তু ও একরকম। জোর করেই এই ব্যবস্থা করেছে। সত্যি কথা বলতে কি আমিও যেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরুকরেছি। আর্যমা ফোনেই বলেছিলো যে বাল্মীকি এক জাদরেল আসামি। পুলিশ কাস্টডিতে অনেক চেষ্টা করেও মুখ খোলানো যায়নি। খুবই স্বাভাবিক। এরা সব ট্রেনিংপ্রাপ্ত এবং অভিজ্ঞ দাগি আসামি। যে ঐরকম চুপিসারে মানুষ খুন করতে পারে যে পাশের ঘরে থেকেও টের পাওয়া যায়না, সে সামান্য আসামি নয়। সকলে চলে গেলে আমি দরজা ব্ন্ধ করে সোফায় এসে বসলাম। খুব কাহিল লাগছে। রাতে অনেক ধকল গেছে। খুব ঘুম পেয়েছে। চোখ জ্বালা করছে। সোফা থেকে উঠে বেডরুমে গিয়ে খাটে শুয়ে পড়লাম। শোওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়লাম। মোবাইলটা বেজে ওঠায় আমার ঘুম ভেঙে গেলো। দেখলাম। একটা আননোন নাম্বার। একটা অস্বস্তি নিয়েই ফোনটা ধরলাম। তিলজলা থানার ওসি ফোন করেছে। আর্যমার উদ্দেশ্যে উনি জানালেন পুনিত এখন বিপদ মুক্ত। কোনো ইন্টারনাল হেমরেজ হয়নি। ফোনটা রেখে দিলাম। খুব খিদে পেয়েছে। বেলা চারটে বেজে গেছে। উঠতে ইচ্ছে করছে না। ভিসন লেথারর্জি চেপে ধরেছে। শুয়ে শুয়ে নানা কথা ভাবতে লাগলাম। একটা জিনিস খটকা লাগছে যে লুলিয়াকে আমার কাছে পাঠানো হলো তখনতো গোকুল জানতো যে ওর জানা সব কথার সঙ্গে শ্রেয়নের কোথাও আমার কাছে ফাঁস করে দেবে। তাহলেতো শ্রেয়ানকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যটাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। শ্রেয়নের উদ্ধারের বিনিময়ে আমাকে কন্ট্রোল করার চালটাই স্রেফ ফাঁস হয়ে যাবে। তাহলে গোকুল লুলিয়াকে আমার কাছে পাঠালো কেন? গোকুল ও শ্রেয়ানের যোগাসাযোগের কথা লুলিয়াকে জানানোর কারনটাকি? এর দুটো কারণ হতে পারে। এক হয় ওরা জেনে গেছে আমি শ্রেয়ানের আসল চেহারা জেনে গেছি। নাহয় গোকুল আর শ্রেয়ানের সম্পর্ক ছেদ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি শ্রেয়ানের চেহারা জেনে গেছি ওরা বুঝবে কি করে? আমি তো এবিষয়ে কারুর কাছেই মুখ খুলিনি। তবে কিনা শ্রেয়ান আমার সাইকোলজি খুব ভালো জানে। হয়তো আমার কোনো অ্যাক্টিভিটি দেখে শ্রেয়ান আন্দাজ করে বুঝে ফেলেছে। আবার গোকুল আর শ্রেয়ানের বিচ্ছেদ যেটা ভাবছি সেটাও সম্ভব। যারা ধান্দাবাজ এবং বিশ্বাস ঘাতক তারা আবার নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস রাখবে কি করে? শ্রেয়ান কি তাহলে গোকুলের অপনেন্ট দলে যোগ দিলো? নাকি এসব রহস্য সমাধানের পর লাভের অঙ্কটা বুঝতে পেরে গোকুল শ্রেয়কেই সরিয়ে দিলো? তাহলে আমার শত্রু কি এখন ত্রিবিধ? থাক এতো ভেবে লাভ নেই। আমার মূল কাজ হলো ধাঁধার সমাধান করে Quarko উদ্ধার করা।যা আমার পিতৃদায়। আমার ধারণা অনিকেতের দেওয়া ড্রয়িং গুলো থেকেই আমি আমার ধাঁধার সমাধান পেয়ে যাবো। অনেক ভেবেছি ফিগারগুলো নিয়ে।কেন জানিনা মনে হচ্ছে ওগুলো আসলে ইংলিশ অ্যালফাবেটগুলোর থ্রি ডি আকারের কোনো একটা নির্দিষ্ট প্রজেকশন। লুলিয়ার নকল ছেলের আমার পকেটে গুঁজে দেওয়া খেলনার A, B, C, D গুলো আমার মনে যেন দাগ কেটে গেছে। দেখা যাক, আমার অনুমান ভুলও হতে পারে। যদি ভুল হয় তাহলে আবার শুন্য থেকে শুরু করতে হবে। বিকেলে একবার পুনিতকে দেখতে যাবো ভাবছি। বেচারা আমার জন্যই। বেঘোরে প্রাণ হারাতে বসেছিল। অনেকে হওতো বলবে ও তো ডিউটি করেছিল। আমাকেও তো ডিউটি করতে হবে। মানবিকতার ডিউটি। ফ্রিজ খুলে দেখলাম ডিম ছাড়া কিছু নেই। ডাবল ডিমের ওমলেট আর চা বানিয়ে খেতে বসলাম। ফোন এলো। বললো ওর ড্রয়িং কম্প্লিট। কিন্তু নেট কানেকশন কাজ করছে না বলে পাঠাতে পারছে না। আমি জানিয়ে দিলাম রাতে ওর বাড়ি যাব।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register