Tue 03 February 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব - ৯৫)

maro news
সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব - ৯৫)

পঁচানব্বই

এর পর অরুনাক্ষকে ওরা পিচমোরা করে বেঁধে ফেললো। অনিকেত বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যখন বুঝলো ও একা ওদের সঙ্গে পারবে না তখন কম্পিউটারের ফোল্ডারগুলো খুলে ওর সমাধান টা দেখিয়ে দিলো। হঠাৎ অরুনাক্ষর মাথায় কিসের আঘাত লাগায় ও জ্ঞান হারিয়ে ছিল। অরুণাক্ষর মাথায় বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। কারণ মাথার পিছন দিকে এখনো বেশ ফুলে আছে। অনিকেতকে কিভাবে ওরা নিয়ে গেলো অরুণাক্ষ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় আর বলতে পারলো না। আমি ভেবে পেলাম না ওরা কি করে জানতে পারলো যে আমি অনিকেতকে আমি ধাঁধার সমাধান করতে বলেছি। অনিকেত ই বা কিছু খুঁজে পেয়েছে সেটাই বা ওরা জানলো কি করে? ঘরটা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সেই সিডিটা পেলাম না যেটা অনিকেত আমার জন্য বানিয়েছিলো। আমি অরুণাক্ষকে বলে ওর পাসওয়ার্ড দিয়ে কম্পিউটারটা খুলে দিলো। কিন্তু ফোল্ডার খুলে দেখলাম সেটি এম্পটি। শয়তানরা সব ফাঁকা করে দিয়েছে। আমার খারাপ লাগছে যে আমার জন্য বেচারা অনিকেতের হয়রানির একশেষ। আমি ফোল্ডারটা এম্পটি দেখে হতাশ হয়ে গেলাম। অনিকেত বললো, " দেখিতো তো দাদা একটু দাঁড়ান" বলে মাউস ধরে কম্পিউটার ঘাটা ঘাঁটি করতে করতে গোটা স্ক্রিন হয়ে উঠলো কালো। তারপর আসতে আসতে যে সাদা রঙের জিনিস গুলো আমার চোখে পড়লো তা দেখে আমার চক্ষু চরকগাছ। উত্তেজনায় আমার বুকটা ধক ধক করে উঠলো। জিনিস গুলোর আকার আমার রহস্যময় রেক্টঙ্গুলার গুলোর শেপের সাথে হুবহু মিলে যায়। কয়েকটা তো সনাক্ত করে ফেললাম A থেকে Z পর্যন্ত পর পর প্রত্যেক লেটার এর তলায় চারটে সারিতে বিভিন্ন ডিসাইন এর চতুর্ভুজ। বেশির ভাগি রেকটাঙ্গল আর অল্প কিছু স্কয়ার। আমি যখন মাউস স্ক্রল করে দেখছিলাম তখন অরুণাক্ষ আর মোক্তারো দেখছিলো। অরুণাক্ষ বেশ চৌখোশ ছেলে। নিজে থেকেই বললো, "এবার বুঝলাম অনিকেতকে কেন লোক খ্যাপা বলে"। আমি ওকে জিগ্যেস করলাম,"এগুলো কি বলোতো?। অরুণাক্ষ বললো,"A থেকে Z অব্দি লিখে থ্রি ডি ফিগারে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখানো হয়েছে"। আমি বললাম,"আমাকে একটু বুঝিয়ে দাও প্লিজ "। আবার অরুণাক্ষ একটু গ্রাভিটি নিয়ে বললো,"এতো খুব সোজা।A থেকে Z লেটার গুলো ওপর থেকে দেখলে কেমন লাগে তা নিচের সারিতে আছে। নিচ থেকে দেখলে কেমন লাগে তা আছে দ্বিতীয় সারিতে। সেইরকম ডানদিক আর বাঁদিক থেকে দেখলে কেমন লাগে তা আছে তৃতীয় ও চতুর্থ সারিতে।"। বলে একটা কাগজে থ্রী ডি র A লেটার এঁকে দিলো। চিত্রটা হলো এরম। এই লেটার টা ওপর থেকে দেখলে যেমন লাগবে নিচ থেকে দেখলে ওরম লাগবে না। কিন্তু ডানদিক ও বাঁদিক থেকে দেখলে একইরকম লাগবে। কিছু কিছু লেটার আছে যাদের চারটে অ্যাঙ্গেল থেকেই আলাদা দেখতে। যেমন J P R ইত্যাদি। আমি আনন্দে অরুণাক্ষর পিঠ চাপড়ে বললাম,"সাবাশ!অরুণাক্ষ "। অবশ্য এই প্রশংসা আসলে অনিকেতের প্রাপ্য। আমি মোবাইল বের করে অনেকগুলি ছবি তুলে নিলাম। অরুণক্ষর সাহায্যে সমস্ত শেপগুলো আর চিত্রগুলো মানে পুরো ড্রয়িংটা পার্ট বাই পার্ট তুলে রাখলাম মোবাইল এর মেমারিতে ছবি তুলে অরুণাক্ষ বললো যে ও অটোক্যাডে খুলে রিসেন্ট ফাইল থেকে এটা বের করে দিলো।বুঝলাম ও ভেবেছে সাবাসটা ওকে এই জন্য দিচ্ছি। আমি ওকে ধন্যবাদান্তে জানালাম। অনিকেতকে নিয়ে কিন্তু চিন্তা হচ্ছে। মোক্তারের দিকে তাকাতেই সে ওর wireless এ লোকাল পুলিশ থানায় খবর দিল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই থানা থেকে পুলিশ চলে এলো.

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register