Tue 03 February 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব - ৯৬)

maro news
সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব - ৯৬)

ছিয়ানব্বই

চারপাশে যা ঘটে চলেছে তা প্রায় সবই একইরকমের। অনিকেতও উধাও তবে কি অনিকেতও শ্রেয়ানের মতো আমার শত্রুপক্ষ? ধাঁধাটা উদ্ধার করার জন্য আগে থেকেই অনিকেতকে দেওয়া ছিল।যখন ও আমার কথা থেকে ক্লু পেয়ে রেট্রাঙ্গুলার রহস্যের সমাধান করে ফেললো তখন ও একটা নাটক করে সরে গেলো আমার নাগালের বাইরে। অনিকেত মনে হয় ভাবেনি আমি সংকেত গুলো উদ্ধার করে ফেলবো অরুণাক্ষের সাহায্য নিয়ে।নাকি অনিকেত সত্যি করেই কিডন্যাপ হয়েছে? যাইহোক দুটো সম্ভবণার মধ্যে যেটাই ঘটে থাকুক মোদ্দা কথা ধাঁধার ক্লু শত্রুপক্ষের হাতে চলে গেছে। তাই শত্রুপক্ষ ও ধাঁধার সমাধানের খুব কাছে চলে এসেছে। এবার প্রশ্ন হলো ওরা জানেকিনা যে মাত্র পাঁচটা ফোল্ডারই কাজের। বাকি গুলো ফালতু। যদি এগুলো না জানে তালে ওদের সবগুলো খুঁজে পড়তে প্রচুর সময় লাগবে। তবে অনিকেত যদি ওদের পক্ষের লোক হয় তবে আর বেশি সময় লাগার কারণ নেই। কারণ অনিকেত বলেছে যে আজই ও জাতীয় সংগীতের ধাঁধাটা উদ্ধার করে পাঁচটা লেটার উদ্ধার করে ফেলেছে। আর যদি তা নাও হয় শ্রেয়ান বা অন্য কেউ ওটা উদ্ধার করে নিতে পারবে। তাহলে তো আমার হাতে বেশি সময় নেই। শয়তানগুলোর সাথে পাল্লা দিতে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফোল্ডারের মধ্যে বাবার দেওয়া মেসেজ গুলো উদ্ধার করতে হবে। তানাহলে হাতের কাছ থেকেই বাবার সম্পত্তি মানে বাবার আবিষ্কার বেহাত হয়ে যাবে। আবিষ্কারটা পৈতৃক না জাতীয় সেটা উদ্ধার করতে পারলেই বিচার করা যাবে। হাতে সময় নেই বললেই চলে। তারা তারি বাড়ি ফিরে এসে বাইরে থেকে কিনে আনা খাবার মোক্তারকে খাইয়ে নিজে খেয়ে ঘরে ঢুকে দরজা ব্ন্ধ করে দিলাম।মোক্তার বললো সে ড্রয়িং রুমেই থাকবে। শ্রেয়ানের ঘরে থাকতে চাইলো না। ক্যামেরার ফটোগুলো ল্যাপটপ এ নিয়ে দেখে দেখে একটা লিস্ট বানালাম। A থেকে Z অব্দি লিখে তাঁদের নিচে তাদের বটম ভিউ গুলো আঁকলাম ছবি দেখে দেখে। কিছু কিছু রেট্রাঙ্গেল এর ভিতর যে বিন্দু আঁকা আছে তার কারণটাও আমার কাছে পরিষ্কার হলো। বটম ভিউতে অনেকগুলো লেটারকে একরকম দেখতে লাগে। তাঁদের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য প্রথম তা বাদে বাকি গুলোতে একটা দুটো আর তিনটে করে বিন্দু বসানো হয়েছে। এইভাবে আমার সংকেতিক অ্যালফাবেট তৈরি হলো। তার পর এক এক করে Finland, Quito, Wales, Xai Xai, আর zero নামের ফোল্ডারগুলোকে ডিকোড করে ইংরাজিতে লেখা শুরু করলাম। প্রত্যেকটা ফোল্ডারে 50 টু 80 মতো লেটার আছে। সব গুলোকে ডিকোড করে সমান সংখ্যগ লেটার উদ্ধার করা গেলো। ডিকোড করার সময় বোঝার জন্য মাথা ঘামাইনি। মেকানিক্যালি মাস্টার লিস্ট থেকে মিলিয়েছি আর ডিকোড করে পর পর ইংরেজি লেটার গুলো লিখে গেছি। অনেক সময় ধরে কাজটা করতে হলো। শেষ পর্যন্ত সবটাই উদ্ধার করা গেলো। বেশ কিছু সংকেত মুখস্তই হয়ে গেলো। এখন সমস্যা হলো আমরা যখন লিখি তখন দুটো ওয়ার্ডের মধ্যে একটা গ্যাপ থাকে। কিন্তু এখানের লেটার গুলোর মধ্যে সমান গ্যাপ ফলে কোন কোন লেটার নিয়ে একটা ওয়ার্ড হবে বোঝা যাচ্ছে না। তাই যেই যেই লেটারগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন কম্বিনেশন করে এক একটা মিনিংফুল ওয়ার্ড বানাতে প্রচুর সময় লাগলো। আলাদা ফোল্ডারের লেটার আলাদা করে লিখলাম। সেগুলো থেকেও সরাসরি বোঝার কোনো উপায় নেই। সেগুলোকেও সাজিয়ে এক এক করে মানে বেরকরলাম।পাঁচটা ফোল্ডার থেকে যে পাঁচটা প্যারাগ্রাফ বের করা হলো তা একদম অবিশ্বাশ্য। আমি নিজেই বলে উঠলাম বাবা ওয়াস অ্যাবসলিউড ব্রিলিয়ান্ট। কিন্তু কথা গুলোকি সত্যি? এগুলো কি সম্ভব? পাঁচটা ফোল্ডারের সারমর্ম আমার মগজে যা ঢুকলো তা হলো F আসলে Fluorine, Q হলো Quarko W হলো Tungsten X হলো Xenon এবং Z হলো Zinc। আমি যা বুঝলাম বাবা Quarko নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছিলেন। ফল হিসেবে আবিষ্কার করেছিলেন যে Quarko ব্যবহার করে ইকোনোমিক্যালি ফিজবল পদ্ধতিতে ফ্লোরিন থেকে অক্সিজেন, যেনন থেকে আয়ডিন, জিনক থেকে কপার, সবথেকে গুরুত্ব পূর্ণ হলো টাংস্টেন ও মারকারি থেকে সোনা সৃষ্টি করা যায়। এতদিনে আমার কাছে পরিষ্কার হলো যে এগুলো নিয়ে কেন অ্যালকেমিস্টরা জড়িয়ে আছে। এই আবিষ্কার পৃথিবীর এক অন্যতম আবিষ্কার। কত শতাব্দীর মিথ সত্যি করে দেবে এই আবিষ্কার। অবশেষে Q নামের ফোল্ডার তা হলো Quarko র হদিস।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register