Tue 03 February 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব - ৩৩)

maro news
সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব - ৩৩)

দেবমাল্য

সাত

কলিংবেল টিপতেই যে ভদ্রমহিলা কোলাপসিবল দরজার তালা খোলার জন্য ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন, রণোকে দেখেই তিনি বললেন, কি গো, এতদিন পর? কী মনে করে?

দেবমাল্যকে দেখিয়ে রণো বলল, উনি একটু সমস্যায় পড়েছেন, তাই দাদার কাছে নিয়ে এলাম। দাদা আছেন তো?

--- হ্যাঁ, এই তো স্নানে ঢুকল।

--- এত বেলায়?

--- কোথায় কী ছিল যেন... খুব সকালে বেরিয়েছিল। এই তো এল। এসো...

বসার ঘরে ঢুকতেই বাঁ হাতে পর পর দুটো কম্পিউটার দেখে দেবমাল্য একটু অবাকই হল। সাধারণত যে কোনও বাড়িতে একটাই কম্পিউটার থাকে। দুটো থাকলে আলাদা আলাদা ঘরে থাকে। কিন্তু এ বাড়িতে সাইবার কাফের মতো পর পর দুটো।

ডানদিকে একটা খাটের ওপরে মামুলি চাদর পাতা। নীচে কোনও তোষকটোষক নেই। পাতলা কাঁথা আছে বলেও মনে হল না। ওদিকে দুটো বালিশ। তার মানে এরা ও দিকে মাথা দিয়েই শোয়।

খাটে বসে রণো বলল, নতুন আর একটা কিনলেন নাকি?

--- হ্যাঁ, আগেরটা তো তুমি জানোই। তোমার দাদার অফিস থেকে দিয়েছিল। ওটা এখন সারাক্ষণই ব্যস্ত থাকে। আমি কোনও কাজ করতে পারি না। তাই এটা কিনলাম। তা, কী হয়েছে, বলো?

--- ওঃ হো, দেবমাল্যদা, ইনি হচ্ছেন রূপা বউদি। রাজীবদার ওয়াইফ। আসলে কী হয়েছে জানেন বউদি, ইনি একটা সমস্যায় পড়েছেন...

রণোর কথা শেষ হওয়ার আগেই ভেতর থেকে একটি বাচ্চা মেয়েকে কোলে নিয়ে এ ঘরে ঢুকলেন সুবীরের বউ। রাজীবের দাদা সুবীর। সংবাদ প্রতিদিনের বহরমপুরের প্রতিনিধি। দুই ভাই একই বাড়িতে থাকে। সুবীররা ওপরে। রাজীবরা নীচে। দু'জনের আলাদা আলাদা এন্ট্রান্স থাকলেও ভেতর দিকের দরজা দিয়ে যাতায়াত করা যায়। বড় জা-কে দেখেই রূপা বলল, খেয়েছে?

উনি বললেন, সহজে খায়? যা একটা বিচ্ছু তৈরি করেছ না... গান শুনিয়ে শুনিয়ে খাওয়াতে হয়। না হলেই গালে টোবলা করে ভাত রেখে দেয়। কিছুতেই গেলে না।

--- তাও তো তোমার কাছে খায়। আমার কাছে তো সেটুকুও না।

--- নাও নাও, ধরো, তোমার মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ওদিকে আমার আবার অনেক কাজ পড়ে আছে। বলেই, বাচ্চাটিকে রূপার কোলে দিয়ে উনি ভেতরে চলে গেলেন।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register