Tue 03 February 2026
Cluster Coding Blog

মার্গে অনন্য সম্মান সুচন্দ্রা বসু (সেরা)

maro news
মার্গে অনন্য সম্মান সুচন্দ্রা বসু (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব - ১০৩ বিষয় - সমাজ সেবা

দরিদ্রদের পাশে

'পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি ' সুকান্তের এই কবিতাটি পড়ে সুদেবের মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। ক্ষুধার্তদের জন্য কিছু করার কথা ভেবে তার মন আলোড়িত হয়। যখন ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলতে যেত দূরে কোথাও ট্রেনে চড়ে সেখানে ভিখিরিদের দেখতে পেত। সে মনে মনে ভাবত স্বাধীনতার পরেও দেশে এতো ভিখিরি কেন? তাহলে আর স্বাধীনতার মানে কী হল!একবার ক্লাব ম্যাগাজিনে এই ভাবনা নিয়েই একটা কবিতা লিখে জমা দিয়েছিল।পুজোর পর সেই সুবিনিয়রে লেখাটা বেরবার পরে অনেকে পড়ে তাকে প্রশংসা করেছিল। কবিতাটা ছিল --- স্বাধীনতার মানে আজও ওরা ঘোরে হাত পেতে পথে প্রভাতে স্বাধীনতা যারা খুঁজে পায় গরম ভাতে অথচ এদের পাতে যদি ভাত জোটে স্বাধীনতার মানে মুখের হাসিতে ফোটে। স্বপ্নে বুকে উড়েছিল স্বাধীনতার পতাকা ছিন্ন বসনে শীতের দিনে লজ্জা হয় ঢাকা রুজির সন্ধানে ঘুরে মেলে না কোন টাকা চুয়াত্তরের পরে স্বাধীনতার মানেটা ফাঁকা। ঘুম কেড়ে ভুখা পেটে কেন নিত্য হাহাকার তোলে তবু জয়ধ্বনি বন্দেমাতরম বেকার প্রদীপ শিখার উজ্জ্বলতার নীচে অন্ধকার তাই ভুখামানুষ জানে কি মানে স্বাধীনতার? এইসব ভুখামানুষের জন্য সে, টুর্নামেন্ট খেলে যে অর্থ পেত তার থেকে কিছু জমিয়ে রাখে, এদের জন্য কিছু করার কথা ভাবে।পরে বন্ধুরাও তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তারা সকলে মিলে রোজ সন্ধ্যায় খাবার কিনে অনাথ, অনাহারী ভিখিরি অসহায় মানুষগুলির কাছে স্টেশনে রাস্তায় পৌঁছে দিত। প্রথমে তারা এইভাবে অল্প কিছু লোককে খাবার দিতে পারত।পরে তারা স্থানীয় কয়েকটি হোটেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সুদেবকে ভালো খেলোয়াড় হিসেবে হোটেল মালিকের কেউ কেউ চিনত।সুদেব তাদের বলে আপনাদের বাড়তি খাবার যা নষ্ট হয় তা ফেলে না দিয়ে আমাকে দিলে আমি অনাহারী মানুষদের মুখে তুলে দিতে পারি। সুদেব এভাবে সমাজ সেবায় ব্যস্ত রাখে নিজেকে। সুদেবের কথা শুনে দু'একজন কেউ কেউ রাজি হয়।এইভাবে তারা সেই খাবার প্রতিদিন সংগ্রহ করে আরও বেশি বেশি মানুষদের কাছে পৌঁছে দিতে পারত । তারা খাবার পেয়ে সুদেবদকে প্রাণ খুলে আশীর্বাদ করে। দিন দিন খাবার সংগ্রহের পরিমান আরও বেড়ে যেতে থাকে। তখন তারা সাইকেলে করে দূরে খাবার পৌঁছে দিতে থাকে। এরপর তাদের এই কাজের জন্য নাম ডাক ছড়িয়ে পড়ে। কাগজে তাদের ছবি ছাপাও নাম হয়।লেখা হয় তাদের কথা। তা দেখে ক্লাব সংগঠনগুলো এগিয়ে আসে। অর্থ ছাড়াও খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজে সহায়তা করার জন্য। এখন সুদেবের পাড়ায় ভিখিরি অনাহারী মানুষ বলতে তেমন কেউ নেই।তাদের পরিবেশ এখন আর গদ্যময় নয়। কবিতার মতোন মনোরম হয়ে উঠেছে। এই কথা ভেবেছিল মনে মনে সুদেব। একদিন তাদের খাবার দিতে গিয়ে দেখল,খালপার বসতির কিছু লোক খাবার নিতে অস্বীকার করছে। সুদেব বলেল খাবার নিতে আজ আপত্তি কেন? তোদের পাড়ায় কি কোন উৎসব-টুথসব আছে নাকি রে?তাদের মধ্য থেকে মাতব্বর গোছের একজন লোক এগিয়ে এসে বলল,না বাবু দানের সামগ্রী নিয়ে আর আমার বাঁঁচ তে চাইনা। এভাবে আর কতদিন বাঁচা যায়? আমরাও আপনাদের মত স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চাই। দানের সামগ্রী নয় আমরা চাই স্বাধীনতা।পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচতে চাই আমরা। এবার সুদেব খালপার বসতির কয়েকজনকে নিয়ে ছোট শাড়ি বুটিকের গোষ্ঠী গড়ে তোলে সেখান থেকে যা আয় হয় সামান্য কিছু রেখে ওদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ায় ওরাও খুশি হয়।আবার কয়েক জনকে নিয়ে মাস্ক তৈরির দল গঠন করে। এভাবে সমাজের দরিদ্র‍দের পাশে থেকে সুদেব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register