Mon 02 February 2026
Cluster Coding Blog

অণুগল্পে পঙ্কজ কুমার চ্যাটার্জি

maro news
অণুগল্পে পঙ্কজ কুমার চ্যাটার্জি

পঞ্ছি

হীরাবাঈয়ের আজ বাজার সরগরম। জমিদারের বাগানবাড়িতে বসেছে নাচগানের আসর। অনেক দিন বাদে। নতুন এক পঞ্ছি এক দালাল এনে দিয়েছে মালদহ থেকে। যেমন দেখতে তেমন নাচ আর গান শিখে নিয়েছে হীরাবাঈয়ের তদারকিতে। ওকে দেখে হীরাবাঈয়ের নিজের যৌবনের কথা মনে পড়ে। নয়া পঞ্ছি ময়না ওরফে লীলাবাঈয়ের সাথে হীরাবাঈয়েরও আজ অগ্নিপরীক্ষা।

আসর শুরু হয়েছে রাত আটটায়। ঠিক আধ ঘন্টা পড়ে ইলেকট্রিক ঝাড়বাতিটা নিভে যায়। চারদিকে অন্ধকার। নাচ থেমে যায়। শোনা যায় কয়েক পা এগিয়ে যাওয়া ঘুঙুরের শব্দ। কোনদিকে....? অন্যদিকে বাজনা সব বেজে চলেছে। যেন আরো উদ্যমে। সব কি ছক কষা চাল?

মিনিট কুড়ি পরে হীরাবাঈয়ের হাতে টর্চ একবার জ্বলে উঠে নিভে যায়। আবার কয়েক পা ঘুঙুরের শব্দ। নাচ শুরু হয়ে যায়। মুহূর্তে ঝাড়বাতি জ্বলে ওঠে। মনে হয় লজ্জায় কিছুটা ম্লান। এদিকে লীলাবাঈয়ের নাচের গতিতে যেন তুফান উঠেছে। উন্মত্তের মতো ও নেচে চলেছে। সাপুড়ে যেমন নাচায় নাগিনীকে। এক নাগাড়ে এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেল। নাচ থামে না। ও কি থামবে না? তবলা, এসরাজ, সারেঙ্গীবাদকের হাত যেন থিমিয়ে পড়ছে। হঠাৎ ছিটকে গালিচার উপর ঢলে পড়লো। লীলাবাঈ। নিথর দেহ। সবাই স্তম্ভিত। জমিদার হাতে জলের গ্লাস নিয়ে এগিয়ে এলেন। লীলার মুখের সামনে জলের গ্লাসটি ধরলেন। হীরাবাঈ ডেকে চলেছে, “লীলা, ও লীলা চোখ খোল।”

লীলা চোখ মেললো। জমিদার হাতের গ্লাসটি ঠোঁটে ছোয়াতেই, লীলার চোখে ঠিকরে উঠলো আগুনের ফুলকি। সজোরে থুতু ছুঁড়ে দিলো জমিদারের মুখে। তার নিথর দেহ আবার ঢলে পড়লো শেষবারের মতো।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register