Mon 02 February 2026
Cluster Coding Blog

প্রবাসী ছন্দে বিপুল বিহারী হালদার

maro news
প্রবাসী ছন্দে বিপুল বিহারী হালদার

" ধর্ষিতার অপরাধ কোথায়?"

রাস্তার পাশে ছিল কুসুমের একটি জীর্ণ‌‌‌ ঘর, কলা পাতার ছাউনি ছিল তার মাথার উপর। ছেঁড়া বস্তা,ছেঁড়া কাপড়ে চতুর্দিক শুধু ঘেরা, সঙ্গী ছিলনা কেউ শুধু রাস্তার সারমেয় ছাড়া। সকালে বিকেলে ভিক্ষায় যাহা কিছু জোটে, সারমেয়,কুসুমরা মিলেই দেয় ক্ষুধার্ত পেটে। রাতে ঘুমালেই,কুসুমকে রাখে যে ওয়াই ঘিরে, মানব দস্যুরা কুসুমকে নিতে,না-পারে কেড়ে। এই ভাবে বছর দশেক ধরে বেঁচে আছে কুসুম, ঝড় বাদলে কতো রাতেই যে হয়নি তাহার ঘুম। দেখেও দেখেনি কেউ কখন যে তার ওই দুরাবস্থা, ঘৃনায় সবাই এড়িয়ে যেত কারণ সে ছিল ধর্ষিতা। কুসুমের বয়স যখন প্রায় ছিল ছুঁইছুঁই তিরিশ, ধর্ষণ করে ছিল দুই বখাটে নিলয় ও ক্ষিতীশ। গাঁয়ের সমাজ বিধান দিল এ গাঁয়ে হবেনা ঠাঁই, সৎ বোন বলে দাদা সে বিধান মেনে ছিল তাই। বখাটে দুটোকে দিল ছেড়ে শুধু বেত্রাঘাত মেরে, কুসুমের হলোই না ঠাঁই,আত্মীয় স্বজনেরও ঘরে। নিরুপায় হয়ে বাঁচার জন্য রাস্তার পাশে নিল ঠাঁই, খোঁজ নিতে আসেনি তার কোন বন্ধু ও দাদাভাই। কতো বারঙ্গনা ধর্ষিতা বিবাহিত কুমারী ওই নারী, সমাজ,ধর্মের কুসংস্কারে ঠাঁই রাস্তা,গণিকা বাড়ি। নারী দুর্গা-কালী-শীতলা,সরস্বতী,লক্ষ্মী মা ও বোন, তাদের উচ্চশিরে না রেখে,এ সমাজে করছে দমন। মা বাবা কুসুমের বহু আগেই গেছে তারা পরকাল, সৎ ভাই বৌদি মুক্ত হলো রইলনা বিয়ের জঞ্জাল। এতো নির্মম হতে পারে এই মহাদেশের ধর্ম,বিধান- নিকৃষ্ট নিন্ম মনুষ্যত্ব হীন, অকৃতজ্ঞ নয় সারমেয়রা!মনুষ্যত্বের কথা ভাবলে- গা ঘৃনায় করে ঘিনঘিন!!
Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register