Tue 03 February 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব - ২১)

maro news
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব - ২১)

সুন্দরী মাকড়সা

স্নেহার কথায় ঋষির চেতনা ফিরলো। সত্যিই তো, শব্দটা শুনেই ওরকম পড়িমরি করে দৌড় লাগানো একদমই উচিত হয়নি ঋষির। বিশেষ করে কেউ একজন যখন সমানে ওকে শাসিয়ে যাচ্ছে, তখন এমনটা তো হতেই পারতো যে ওকে স্নেহার থেকে আলাদা করার জন্যই কেউ একজন ওরকমভাবে শব্দটা করেছে। হুঁশ ফিরে আশতেই ও বুঝতে পারলো জীবনে প্রথমবারের জন্য ওর শরীর একজন যুবতী নারীর শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। মুহূর্ত মধ্যে ওর শরীরে যেন একটা প্রচন্ড রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে গেলো। খুব সন্তর্পণে ঋষি স্নেহার হাতের বাঁধন আলগা করে স্নেহার বাঁধন থেকে বেরিয়ে এলো। --- বাথরুমটা কি তুমি একাই ব্যবহার করো? --- হুঁ, নিচের ওদের জন্য নিচেই বাথরুম আছে। আমার মনে হয়... --- ঘরে কি টর্চ আছে? -- হ্যাঁ, আছে একটা। বড় টর্চ। -- ভেরি গুড। আচ্ছা, তোমার ঘরে কোনো লাঠিসোঁটা আছে? অথবা অন্য কোনোরকম... আসলে তুমি তো এখানে একা থাকো সে কারণেই কিছু একটু হাতের সামনে রাখা উচিতকাজ হবে মনে হয়। -- ঠিকই বলেছো, তবে কখনও নিজেকে একা ভাবিনি বলে সেরকমভাবে, তবে রাখাটা যে জরুরী সেটা এমুহূর্তে খুব মনে হচ্ছে। তবে একটা ডাঁসা আছে। দরজায় দেবার জন্য। বলে ঋষি দরজার কাছে গিয়ে ডাঁসাটাকে নিয়ে স্নেহার সামনে রাখলো। --- আরে ধুস, আমি এসব দিয়ে কি করবো? আমি বলছিলাম তুমি তো একা থাকো, সেকারণেই একটা কিছু হাতিয়ার তোমার কাছে থাকা উচিত। কে জানে, কখন কি জন্য প্রয়োজনে কাজে লাগে। যাকগে চলো, একটু বাথরুমের দিকটা দেখে আসি। যদিও সত্যিই কেউ এসে থাকতো, তাহলে সে নিশ্চয়ই এতোক্ষণ ধরে অকুস্থলে বসে নেই। ঋষি টর্চটাকে জ্বেলে নিয়ে একবার পরখ করে দেখে নিলো, যে ওটা ঠিকঠাকমতো জ্বলছে কিনা। -- চলো যাই বাথরুমের দরজাটা হাঁ করে খোলা, কমোডের পাশে জলের কলের নীচে যে বালতিটা থাকে সেটা দরজার কাছে এসে উলটে পড়ে আছে। অন্ধকার বাথরুমের ভেতর জ্বলজ্বল করছে দুটো চোখ। ওদিকে টর্চের আলো ফেলতেই ল্যাজ তুলে সেই বেড়ালটা বালতিটাকে টপকে দুজনের ফাঁক দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলো।

ক্রমশ...

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register