Tue 03 February 2026
Cluster Coding Blog

গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব - ১০)

maro news
গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব - ১০)

নীল সবুজের লুকোচুরি

নিজের ট্রেনিংয়ের সময় ওখানে একটা পাবলিক হেলথ সেন্টারে প্রায় মাস ছয়েক ছিল। তখন ওখানকার "চার্মিং হার্ট অরফানারিজ" হোমের মারিয়া নামে একজন মাদারের সাথে পরিচয় হয়েছিল। বর্তমানে নিজের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের কথা ভেবেই সুমি ওই অরফান হোমের মাদারের সাথে যোগাযোগ করে। হেলথ সেন্টারে ডক্টরর্স কোয়ার্টারে নিজের সুবিধামত সব গুছিয়ে নিয়ে মাদারের সাথে দেখা করে সুমিতা।

মাদার মারিয়ার স্নেহের ছোঁয়ায় সুমি'র জীবন থেকে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ সরে গিয়েছিল। নিজের ভালবাসার কথা, এখনকার শারীরিক অবস্থা, এই অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ ইত্যাদি নিয়ে মাদারের সাথে অনেক কথাই হয়েছে সুমিতার। মাদার মারিয়ার পবিত্র স্পর্শের জাদুতে সুমি মানসিক ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পেরেছে। নবজাতক তার জন্মমুহূর্ত থেকেই মাদারের কোলে আশ্রয় পেয়েছে। যদিও সুমি' ওই শিশুকে মাদারের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী 'দত্তক' নিয়েছে। তবুও ফুলের মত ছোট্ট মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং মাদারের একান্ত অনুরোধে সুমিতা মিঠির দায়িত্ব মাদারের হাতেই তুলে দেয়। মাদার মারিয়াই মিঠির নাম রেখেছেন আয়ুস্মিতা।

তখন থেকেই সুমি উত্তরবঙ্গে রয়েছে। দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতিতে বাড়ির সাথে সম্পর্কও ধীরে ধীরে আলগা হয়ে গেছে। বাবা মা যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন বিয়ের জন্য অনেক চাপ দিয়েছেন। মা হয়তো প্রেগনেন্সির ব্যাপারটা কিছুটা আঁচ করেছিলেন। কিন্তু সরাসরি কিছু বলেননি কখনো। তবে বিয়ে নিয়ে মাঝে মাঝে বাড়ির সাথে এই মনোমালিন্য এড়াতে ও জানিয়ে দিয়েছে যে অরফানারিজ থেকে একটা ছোট মেয়েকে এডাপ্ট করেছে, তাকেই মানুষ করে তুলতে চায়। বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে ওর নেই।

কাজের ফাঁকে ছুটিছাটায় মাদারের কাছে গিয়ে থাকে সুমিতা। ছোট্ট মিঠিকে নিয়ে তখন দিনগুলো হৈ হৈ করে কেটে যায়।"সুমি'মা" এলে মিঠিরও খুব আনন্দ হয়। দুই মায়ের আদুরি মেয়ে, তাই আহ্লাদে আবদারে রঙিন হয়ে উঠে দিনগুলি। মিঠি কিন্তু ছোটবেলা থেকেই খুব ডিসপ্লিন্ড।কখনও কোন কিছু নিয়ে জেদ করেনি। সব সময়ই হাসি খুশি। লেখাপড়ায় খুব আগ্রহ।

সেই দুষ্টু মিষ্টি ছোট্ট প্রজাপতি এখন নামকরা কার্ডিয়াক স্পেশালিস্ট। মাকে ভীষণ ভালোবাসে মিঠি। ছোটবেলা থেকে মিঠি দেখেছে মাদারের দুচোখে ওর সুমি'মায়ের জন্য গভীর শ্রদ্ধা। কারনটা না জানলেও এটা বুঝতে পারে যে মিঠি তার মায়ের জীবনের একমাত্র অবলম্বন। তাই হয়তো মা ছাড়া ওর পৃথিবীতেও অন্য কারো জায়গা হয়নি এখনো পর্যন্ত।

"একটা মজার কথা শোনো মা, স্যারের একটা পোষ্ট অপারেটিভ কন্ডিশন আছে আর সেটা খুবই অদ্ভুত।" --"সেটা কি? পেশেন্টের আবার কি কন্ডিশন?"

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register