Tue 03 February 2026
Cluster Coding Blog

গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব -৩৫)

maro news
গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব -৩৫)

নীল সবুজের লুকোচুরি

ছোটবেলা থেকে ও এরকমই কাউকে পাশে চেয়েছিল। কিন্তু বাবা মা 'র আলাদা থাকা, ওর বোর্ডিং লাইফ, একঘেয়ে ঘটনার বোরিং সময় সব কিছুই ছিল ওর ছোট ছোট চাওয়ার বিপরীতে। স্নেহ ভালোবাসা ছিল কি না জানা নেই তবে একটা যান্ত্রিক পরিস্থিতিতে ছোটবেলাটা কেটে গেছে। যে বয়সে একটা শিশু তার মায়ের কাছে থাকতে চায় তখন আরিয়ানের ছিল আয়ামাসি। সে তার নির্দিষ্ট রুটিন মতো ভালোবাসা থালায় সাজিয়ে সামনে রেখে গেছে। কখনও জানতে চায়নি ছোট্ট বাচ্চাটা ঠিক কি চাইছে? আর সে চাইবেই বা কেন? কেনই বা চাকরি করতে এসে কেউ অন্য কারো বাচ্চার ওপর দরদ দেখাতে যাবে? সময় মেপে আসা- যাওয়া, প্রতিদিনের নির্দিষ্ট কাজ সম্পূর্ণ করলে তবেই তো ঠিকমতো বেতন পাওয়া যাবে! সেই জায়গায় যদি বাচ্চাকে স্নেহ করতে গিয়ে নিয়মের ব্যতিক্রম হয় তবে তো মাইনেতেও তার প্রভাব পড়বে, তাই না! তাতে ভালোর থেকে খারাপ হবার চান্স খুব বেশি। তাই মাইনে দিয়ে বাচ্চা মানুষ করার লোক রাখলে বাচ্চার জীবনে খাওয়া পরার প্রয়োজন পূরণ হলেও স্নেহের পাত্রটা শূন্যই থাকে। আরিয়ানেরো তাই হয়েছে। মনেপ্রাণে ও যখন মাকে চেয়েছে তখন পেয়েছে কেবল পেট ভরা খাবার আর মন ভরা নিঃসঙ্গতা। মা নিজের প্রফেশনাল কেরিয়ার নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে ছোট ছেলেটার সাথে সময় কাটানোর মতো সময় তার কখনও হয়নি। তার বাবা ছোটবেলায় তাদের একলা রেখে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে গিয়েছেন। তাদের কাছে আর ফিরে যায়নি কোনো এক অজানা কারণে। একলা কাটানো ছেলেবেলায় ও যখন খেলার সাথী খুঁজেছে তখন পেয়েছে স্পোর্টস ট্রেনার। সে নিজের সাধ্যমত বেস্ট দিয়েছে, কিন্তু ভালোবাসা সেখানেও শিকড় মেলেনি। লেখাপড়ার জগতে শুধুই কম্পিটিশন ছিল। কে কাকে ল্যাং মেরে এগিয়ে যাবে, কার রেজাল্ট প্রিন্সিপালের হাত থেকে আসবে এটাই ছিল লক্ষ্য। সেখানে আর যাই থাকুক না কেন স্নেহের স্পর্শ কখনোই ছিল না। তাই যখন মিঠির সাথে প্রথম আলাপ হয়েছিল তখন ওর স্নিগ্ধ কোমল সান্নিধ্যে আরিয়ান পেয়েছিল ওর কাঙ্খিত সেই স্নেহের ছোঁয়া। অদ্ভুত এক শ্রদ্ধা আর ভালোলাগায় আরিয়ানের মন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। তখন থেকেই ডাক্তার আয়ুস্মিতা মৈত্রকে ও পরমাত্মীয় বলেই মনে করে এসেছে। মিঠির সাথে ওর কোনো আত্মীয়তা থাকতে পারে এমনটা ও কখনোই মনে করেনা। কিন্তু অদৃশ্য একটা টান অনুভব করে ভীষণ ভাবে। আসছি পরের পর্বে
Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register