- 5
- 0
শিশু কিশোর নিরপেক্ষ সংঘ
শিশু কিশোর মাত্রেই শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী মানেই ছাত্র -ছাত্রী । আর ছাত্র-ছাত্রী এক বিমূর্ত ঐক্যের দল । তারা চির সবুজ নতুন দিনের আলো। এত পবিত্র মন বা আত্মা মানুষ সারা জীবনের কখনো আর ফিরে পায় না। মানুষ মানে বয়স্ক পারিবারিক সদস্য থেকে সকল প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক কর্তা। মানব সভ্যতায় এই নব দিশা নব শক্তি চিরকাল উপেক্ষিত হলেও ইতিহাস বলছে এই ছাত্র -ছাত্রী নিরপেক্ষ সংঘই আগামী বিশ্বের ভবিষ্যত । প্রকৃত ছাত্র -ছাত্রীরাই ধর্ম ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষ । বর্তমান ভারতে কক্রোচ জনতা পার্টির (CJP )আন্দোলন প্রমাণ করলো ছাত্র-ছাত্রীদের অপরিসীম ক্ষমতা। যদিও তাত্ত্বিকরা অনেক কথা বোঝাচ্ছেন, বিদেশি মদত, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যৌথ সক্রিয়তা। সব কিছুকে মেনে নিয়ে আমি আমাদের শৈশবে ছাত্র জীবনে ফিরে যেতে চাই। শিক্ষা দেয় মা বাবা পরিবার কেন্দ্রীক প্রতিবেশী সমাজ , স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা, বিনোদন সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সংস্কৃতি । এই সবের বাইরে একটা অস্পষ্ট শক্তিশালী মাধ্যম কাজ করে, তাহলো ছাত্র-ছাত্রী সমাজ । এদের ঐক্য , নিরপেক্ষ,উদার এবং সমমর্মী দৃষ্টিভঙ্গি। আমরা সকলেই পনেরো থেকে আঠারোটা বছর একটা বিশেষ শিক্ষা পরিবেশে কাটিয়ে আসি । তখন আমাদের মধ্যে বাহ্যিক অসংখ্য ভেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অভেদ অনুভব করে পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করি । সেখানে সকলের সমস্যা সহজে ঐক্যমতে ঠেলে দেয় । তারাই মত তৈরি করে,তারাই আলোচনা করে ,তারাই ঐক্যমত হয় ,তারাই এগিয়ে আসে এগিয়ে যায় । ভালো কোন কিছু মনে হলে তারা জীবনপণ ঝাঁপিয়ে পড়ে । এরাই কিছু করবে ভাবলে ঐক্যমত হতে এদের বেশি দেরি হয় না। ছোটবেলায় আমরা কত পিকনিক করেছি, নতুন নতুন খেলা করেছি, পুজো করেছি, শিক্ষক দিবস পালন করেছি । খুব কম মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এই শিক্ষা থেকে নানা ধরণের সংঘের বা দলের আবির্ভাব ঘটে ।এরা সহজে বড়দের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে চায় না । এদের নতুন কিছু করার প্রবণতা, বোধ, বুদ্ধি ,মত ,শ্রম ,সহমত, সহনশীলতা এদের আস্থা এদের শক্তি ।বাবা মা, পরিবারের বড়রা সহ সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এদের শক্তিকে উপেক্ষা করে হয় এদের ঐক্যকে কিডন্যাপ করে , নয়তো ঐক্যবদ্ধতা ভেঙে দেয় নানা ভাবে বুঝিয়ে, নানা যুক্তিতে , নানান মনগড়া তথ্য উপস্থিত করে এবং সংকীর্ণ স্বার্থে নিয়োগ করে । এই ছাত্র -ছাত্রী ঐক্য পার্টির বৈশিষ্ট্য হলো (১) এদের কোন সংবিধান নেই, এরাই বিধান তৈরি করে নেয় ।(২) এদের কোন ধর্ম নেই ,বাদ বিচার, ছ্যুতমার্গ নেই। এদের মধ্যে কেউ ছোট বা বড় নয়।(৩)কোন প্রচলিত মত এদের মত নয় , এদের যৌথ মতই এদের পথ এদের মার্গ। (৪) এরা পশ্চাৎপদ ভীতু নয়। সাহস ও সহনশীলতার পরীক্ষা যেকোন সময় বসতে রাজি । (৫) এরা স্বভাব বিরোধী প্রচলিত ব্যবস্থার এবং নির্ভিক প্রতিবাদী। (৬) এরা নব যুগ ও নব জীবনধারা সূচনায় বিশ্বাসী। তার জন্য ঘরে বাইরে সংগ্রামী। ছাত্র - ছাত্রীরাই পারিবারিক জীবনযাত্রায় বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন নিয়ে আসে বা আসতে পারে,যদি আমরা তাদেরকে সমর্থন করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মা ,বাবা বা অন্যরা ছোটদের ইচ্ছা অনিচ্ছাকে গুরুত্বই দেয় না । এর ফল পরিবার বা রাজ্য বা দেশের ক্ষেত্রে কখনো ভালো হয় না । আমরা বাহ্যিক পরিবর্তনে যতই গা ভাসাই না কেন , ভেতরে ভেতরে আমরা ছাত্র-ছাত্রীর সীমা পেরোলেই বয়স্ক পিতৃতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক কর্তা বা কর্ত্রী। আমাদের মধ্য থেকে যে এই সন্তান ছাত্র -ছাত্রীরা এসেছে সেটা মানি ততক্ষণ , যতক্ষণ দাস ভাবতে পারি । এই সন্তান ছাত্র -ছাত্রীরা আমি , আমার পূর্ণতা ওদের মাধ্যমে বলেই ওদের জন্ম হয়েছে ,ওরাই আমার কন্ঠ,ওরাই আমার উপাস্য ব্রহ্ম ভাবতেই পারিনা। এই ছাত্র -ছাত্রীরাই প্রকৃত বিরোধী দল , কেননা এদের প্রথমত কোনো দলগত মত নেই। এরা প্রতিকূলতাকে তুলে ধরে এবং প্রতিকারে বাধ্য করে । এরাই এখন রাজনৈতিক লাম্পট্য ভাঙছে, অদূর ভবিষ্যতে দাম্পত্য লাম্পট্যও ভাঙবে। এরাই পৃথিবীতে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশ দান করতে পারে। বিচার করুন। শিশু কিশোরকেও বুঝতে হবে এবং বোঝাতে হবে তাদের গুরুত্ব এই মানব সভ্যতা কতখানি। অহেতুক মোবাইল বা নেট দুনিয়ার আর্থিক চক্রান্তের শিকার না হয়ে নেটকে বাহন করে তাদের নিজস্ব জ্ঞানের জগতে বিপ্লব আনতে হবে । তাদের ওপর তার বাবা মা দেশ ও বিশ্বের ভবিষ্যত নির্ভর করছে । কোনো প্রকার অযৌক্তিক মত বা পরামর্শ বিনা বিচারে গ্রহণ করলে চলবে না । যুক্তি আলোতে সব কিছু দেখতে হবে।
0 Comments.