Mon 02 February 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব - ২১)

maro news
সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব - ২১)

চাঁদের আঙিনায়

ঠাণ্ডাটা দুদিন ধরে বেশ জাঁকিয়ে পড়েছে। কড়া ভাবেই জানান দিয়েছে গত দুদিন ধরে। অস্কার ওয়াইল্ডের 'হানি কালারড মুন' চরাচর ভাসিয়েছে রূপো গলা আলোয়। কাল রাত নটা নাগাদ কোচিং থেকে বেরনোর সময় চোখটা বাঁ দিকে গেলো। পাঁচিলের পাশটা বেশ অন্ধকার সেখানে গুড়ি মেরে সাদা চাদরে ঢাকা এক মূর্তি বসে আছে। চমকে উঠে একলাফে আমি ভিতরে এক ছাত্রীর মায়ের কোলে উঠে পড়ি আর কি। উদ্বিগ্ন স্বরে সকলে জিজ্ঞেস করে, " কি হয়েছে ম্যাম?" 'আরে কে যেন একটা দরজার পাশে বসে আছে'। সকলে হেসে গড়ায় "আরে ম্যাম ও তো ঊষা দি" "তা ওখানে কেন?" " ও ম্যাম কিছু না, ঊষা দি কাজ সেরে ফেরার পথে ওখানে বসে একটু বিড়ি খায়' । নিজের অপ্রস্তুত অবস্থা এবার সামাল দি। হেসে ফেলি প্রানখুলে। বিড়ির আগুন আমি দেখতে পাই নি, বোধহয় ঊষা দি লুকিয়ে ফেলেছিল, আমার লাফালাফি দেখে । থোপা থোপা রঙ্গন ফুল ধরে থাকা গাছটার পিছনে 'হানি কালারড মুন' তখন ফিচেল হাসি হাসছে। আশি ছুঁইছুঁই খুনখুনে ঊষা দি সুখটান দেয় রঙ্গন গাছের নীচে বসে, আমাদের চা দিয়ে ,বাকি কাজ সেরে বাড়ী ফেরার পথে। চাঁদ তাঁর হাসি ছড়ায় ঊষা দির সাদা চুল, সাদা শাড়ী ছুঁয়ে কোন কার্পণ্য না করেই। ভাবছি ঊষাদিকে বলব "তোমার নিভৃত কোনটি বড় সুন্দর। তোমায় দেখে যে ভার্জিনিয়া মেমসাহেবের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। মেমসাহেবের ছিল লেখার টেবিল আর তোমার আছে রূপোর জোছনামাখা রঙ্গন গাছের তলা' । নিজের স্পেস তো বটেই। আগুন যেখানে লুকোতে হয় না।
Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register