Tue 03 November 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ তথ্যসমৃদ্ধ লেখায় অংশুদেব

maro news
হৈচৈ তথ্যসমৃদ্ধ লেখায় অংশুদেব

ধাতু ও অধাতুর প্রাতিষ্ঠানিক পরিণতি:

পঞ্চম ভাগ

প্রতিভা বলতে এখনো আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস তা ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতা। যেদিন বস্তুতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ ঘটেনি, তখন রাষ্ট্র ঈশ্বরের সৃষ্টি,এই তত্ত্ব - মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন আমরা মানুষ সম্পর্কে অনেক বেশি জানতে পেরেছি । জগত , জীবন সম্পর্কে সচেতনতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনও যদি ঈশ্বরের ওপর সব ছেড়ে দিই , তাহলে এ জীবনে মাতৃদুগ্ধ আর ছাড়া হবে না। অথচ হাঁটতে শিখে আমরা কারো সাহায্য ছাড়াই হাঁটতে চাই । বাবা মার সাধনা ও উপযোগী পরিবেশ হলো প্রতিভার উৎস । বাবা মা বা পূর্ব পুরুষদের সত্যিকারের সাধনা সন্তানের শৈশবে জাগরিত হয়। আমরা বাবা ও মায়েরা বলপূর্বক তাকে যুগোপযোগীতার দিকে ঠেলে দিই। আমি খেলতে ভালোবাসতাম, স্ত্রী চাইতেন শিক্ষিকা হতে । আমাদের বিয়ের পর যে সন্তান হলো তাকে কিছুতেই মা খেলতে দেবে না। যদি মায়েরও খেলার প্রতি আগ্রহ থাকে,মা খেলাতেই ছেলেকে পাঠাবে। অনেক বাড়িতে আবার পাশের বাড়ির ছেলে গানে খুব নাম করছে দেখে সন্তানকে গানেই ঠেলে দিলেন। অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চারা যে বিষয়ে আগ্রহী নয়,বাবা মা সেইদিকেই পাঠাতে বলপ্রয়োগ করে। কোনো বলপ্রয়োগের ফল কখনও ভালো হয় না,একমাত্র নিজের ক্ষেত্র ছাড়া। বংশগত ধারায় অর্জিত এবং শৈশব থেকে বাবা মা ও সন্তানের আগ্রহ একসূত্রে বাধা পড়লে প্রতিভা বিকশিত হবেই।

          পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের আগে পিতার আগ্রহেই সন্তানের প্রতিভার বিকাশ বেশি লক্ষ করা গেছে। নারী স্বাধীনতার পর থেকে ভারতীয় নাগরিক সমাজে মাতৃতান্ত্রিকতা ক্রমশ আপন অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়। এখানে এখন একচেটিয়া পিতা বা মাতার ইচ্ছা প্রাধান্য পেতে পারে না । নিজেদের অতীত আগ্রহ বা সাধনার অভিমুখ বিশ্লেষণ করে সন্তানের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পরিবেশ বিশ্লেষণ করেই সন্তানে মনোযোগের সংশ্লেষণ ঘটলে প্রতিভার বিকাশ ঘটে । নতুন কোনো কিছু প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। অনেকে দাবি করতে পারে - আমি তো বিয়ের আগে গান শিখতাম, তাহলে আমার ছেলে বা মেয়ে গান গাইতে চাইলো না কেন ? তিনি কিন্তু তাঁর ভালো না লাগাটা চেপে গেলেন। যদি প্রতিকূলতার কারণে বন্ধ হতো , তাহলে তিনি অনুকূল পরিবেশে আবার ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তাঁকে দেখে সন্তানও এগিয়ে আসতো। অনেকে বলেন ছেলে মেয়ের জন্য এত চেষ্টা করছি , কিন্তু ওরা তা বোঝেই না, একদম পড়ে না। কেবল খেলা খেলা , নয়তো মোবাইল নিয়ে পড়ে আছে। বিয়ের আগে নিজেও পড়তে চাইতেন না ভুলে যান ,নিজেও মোবাইল ছাড়তে পারেন না ,সেটা ভুলে যান । বেশিরভাগ বাবা মা দেখাতে চান । নিজে যা পারিনি,সেটা সন্তানের কাছ থেকে আদায় করতে চান না। নিজে যা ত্যাগ করেছিলেন,সেটাই সন্তানের কাছ থেকে আদায় করতে চায় । শৈশব থেকে লেগে পড়ে থাকার অভাবে সাফল্য আসে না ,তাই প্রতিভা নেই। ঈশ্বরের আশীর্বাদ ওই লেগে পড়ে থাকার ওপর নির্ভর করে, ঈশ্বরকে ডাকার মধ্যে নয় ।

       ধাতু ও অধাতুর সীমার মধ্যে না পড়লেও মানুষের গড়ে তোলা সংসার, সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম, বাণিজ্য ইত্যাদিও প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত ।মানুষ নিজে প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য সন্তান। মানুষের মস্তিষ্ক, চিন্তা শক্তি এবং শারীরিক ক্ষমতা—সবই কোটি কোটি বছরের প্রাকৃতিক বিবর্তনের (Evolution) তথা প্রতিভার ফল । প্রকৃতির উপাদান দিয়ে তৈরি একটি জীব, সে যা কিছু সৃষ্টি করে, তা মূলগতভাবে প্রকৃতিরই অংশ বা প্রসারণ। প্রতিভা প্রকৃতির কোনো এক চূড়ান্ত রূপান্তর। একক ক্ষেত্রে যা প্রতিভা ,সকলের ক্ষেত্রে তা শক্তি। তবে বস্তুগত শক্তি আর রাষ্ট্রীয় শক্তি এক না হলেও ভিন্ন নয়। ধাতু ও অধাতুর আয়নীয় শক্তি জীবের ক্ষেত্রে জিন আর বস্তুর ক্ষেত্রে তার ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রির ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে বহমান। মানুষের তৈরি ব্যক্তিগত প্রতিভার বিষয় বা সাংগঠনিক বিষয় ,যাই হোক না কেন সব ঐতিহাসিক প্রথাসিদ্ধ। এর বাইরে কিছু ঘটলে তা কোথাও স্থায়ীত্ব পাবে না । ব্যক্তিগত প্রতিভা বা রাষ্ট্রীয় প্রতিভা সব এক ধারাবাহিকতা - বস্তু ,অবস্তু বা জীবের হয়ে ওঠা । করে তোলা কখনোই নয় । ভাববাদী চিন্তা ভাবনায় বিশ্বাস করা হয় - সব কিছু করে তোলা সম্ভব, কেননা সেখানে ঈশ্বরের আশীর্বাদ আছে। বাস্তবে বস্তু,অবস্তু ( শিল্প, সাহিত্য, রাষ্ট্র ইত্যাদি) এবং জীব হয়ে উঠতে চাইলেই অর্থাৎ অভিযোজন আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টির হলেই অভিব্যক্তি ঘটে। জোর করে,আইন করে, বলপ্রয়োগ করে কোনো কিছুই পরিবর্তন করা যায় না।

        দাবি করা যেতে পারে মানব সভ্যতায় পরিবর্তন প্রায়শই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (Intentional)। মানুষ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা করে সমাজ ও আইন তৈরি করে, যা কেবল অন্ধ প্রাকৃতিক রূপান্তর নয়। অনেক সময় আইনের কড়াকড়ি বা বৈপ্লবিক সামাজিক চাপ (যা একপ্রকার বলপ্রয়োগ) মানুষের আচরণে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনতে এবং নতুন 'অভিযোজন'-এ নিজেকে তৈরি করতে সহায়তা করে।

           প্রকৃতিতে অন্যান্য জীবের বিবর্তন পুরোপুরি 'অসচেতন' বা স্বতঃস্ফূর্ত হতে পারে, কিন্তু মানুষের সচেতন মস্তিষ্ক, পরিকল্পনা ও বুদ্ধিমত্তা প্রকৃতির সেই বিবর্তনকেই নিজের মতো পরিচালনা করার শক্তি রাখে। ফলে মানুষ কেবল প্রকৃতির নিয়মে 'হয়ে ওঠে' না, প্রকৃতিকে ব্যবহার করে নিজেকে ও সমাজকেও নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। এখানেই লুকিয়ে বস্তুবাদী সতর্কতা। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই সমাজের উপরিকাঠামো প্রকৃতিকে নিজের বশে আনতে চেষ্টা করে চলেছে। সেখানেই আমাদের আলোচনার কেন্দ্র ।রাষ্ট্রশক্তি হাতে নিয়ে মানুষ চিরিচরিত শাসনতান্ত্রিক কাঠামোয় "মানুষকে করে তুলতে "চেয়েছেন। বাস্তবে হয়তো স্থিতিস্থাপকতার মতো সাময়িক পরিবর্তন হলেও পূর্ব অবস্থায় সমাজ ফিরে যায়। রাষ্ট্র বা শাসকশ্রেণি যখন বলপ্রয়োগ করে জোরপূর্বক কোনো সামাজিক কাঠামো চাপিয়ে দেয়, তখন সমাজ সাময়িকভাবে সংকুচিত বা পরিবর্তিত হয় (Elastic Deformation)।কিন্তু মানুষের অন্তর্নিহিত বস্তুবাদী প্রয়োজন ও প্রকৃতির স্বাভাবিক গতি যদি তার সাথে না মেলে, তবে বাহ্যিক বল উঠে গেলেই সমাজ আবার তার স্বাভাবিক/পূর্ব অবস্থায় ফিরে যায়। অতএব মানুষের চাহিদায় " হয়ে ওঠার "ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চাহিদার সঙ্গে মানুষের চাহিদা মিশলে তবেই তা স্থায়ীত্ব লাভ করতে পারে। 

         তাহলে কি বলবো, মানুষের ভাববাদী শক্তি জয়ী ? বস্তুবাদী চেতনা ব্যর্থ ? তা কখনোই নয়। ভাববাদীরা মূলত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ব্যবস্থার বস্তুবাদী ফসলকে ব্যবহার করে নিজেদের আধিপত্য বা 'চেতনা' চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অর্থাৎ, ভাববাদের যে ক্ষমতা দৃশ্যমান হয়, তা কোনো ভাববাদী অলৌকিক শক্তির জয় নয়; বরং বস্তুবাদী বিজ্ঞানের উদ্ভাবনকেই তারা তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর সুরক্ষায় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।ভাববাদ উৎপাদন করতে পারে না, তৈরি করতে পারে না; সে কেবল বস্তুবাদী আবিষ্কার ও শ্রমের ফলকে নিজের স্বার্থে অধিগ্রহণ (Appropriate) করে। ফলে জয়টা বস্তুরই, কেবল তার লাগামটা সাময়িকভাবে ভাববাদী ব্যবস্থার হাতে থাকে। প্রকৃত বস্তুবাদী চেতনা ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয় । মানব সভ্যতায় যতখানি উন্নয়ন আদিম অবস্থা থেকে সম্ভব হয়েছে - সবটাই সার্বিক বস্তু চেতনা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ভাববাদীরা ক্ষমতা কায়েম রাখার স্বার্থে ব্যবহার করে চলেছে। মানুষের মঙ্গল উপজাত। কিন্তু বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবহারিক বিদ্যা , উৎপাদনমুখীতা সব বস্তুগত ভাবনা চিন্তার ফসল। ভাববাদীরা তাকে নিজের মতো করে নিয়েছে। 

         ভারতের বিজ্ঞানীরা ও প্রযুক্তিবিদরা চাঁদে গাড়ি চালালো,সেটা দলগত মানুষের চাহিদা। কিন্তু সাফল্য ফেলেন তত্কালীন সরকার। ঠিকই সরকার সাহায্য না করলে হতো না। সরকারের সাহায্য সেটাও জনগণের ইচ্ছা। যদি না করতো , প্রোজেক্টটা বিদেশে চলে যেত । এখানে রাজনৈতিক বা ভাববাদী প্রচারে একক ব্যক্তি বা শাসক দল সাফল্য কুড়ালেও, ভেতরের চালিকাশক্তিটি ছিল বিশুদ্ধ "সার্বিক বস্তু চেতনা" (Collective Material Consciousness)।তাই মানুষের সচেতন মস্তিষ্ক, পরিকল্পনা ও বুদ্ধিমত্তা প্রকৃতির সেই বিবর্তনকেই নিজের মতো পরিচালনা করার শক্তি রাখে।এটা প্রকৃতিরই ভেতরের বিষয় । প্রকৃতি বহির্ভূত নয় । মানুষের সচেতনতা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনা বা প্রকৃতিকে বশে আনার চেষ্টা—এগুলো প্রকৃতির বাইরের কোনো বিষয় নয়, বরং প্রকৃতিরই স্বভাবজাত এক বিকাশ। প্রকৃতি কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্ককে এমন এক পর্যায়ে এনেছে, যেখানে প্রকৃতি নিজের এক অংশ (মানুষ) দিয়ে নিজের অন্য অংশকে পর্যবেক্ষণে ও রূপান্তরে সক্ষম হয়েছে।সুতরাং, মানব সভ্যতার এই ‘উদ্দেশ্য’ বা ‘পরিকল্পনা’ কোনো অলৌকিক ঈশ্বরের দান বা ভাববাদী বিষয় নয়; এটি প্রকৃতিরই ভেতরে ঘটে চলা এক উন্নত স্তরের অভিযোজন ও বস্তুগত মিথস্ক্রিয়া।

          আমাদের সাংসারিক বন্ধনের ভিত আধ্যাত্মিক হওয়ায় আমরা ব্যক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন নই এবং ব্যক্তি গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় আমাদের ঠিক কেমন ধরণের দায়িত্ব আছে তা বুঝতে পারি না । কেন বিয়ে এবং কেন সন্তান - এটা আমাদের কাছে ঠিক পরিষ্কার নয় । বিয়ের পিছনে বেশি প্রকৃতির ডাক কিম্বা বাবা মার ইচ্ছা, নয়তো সকলে করছে তাই করলাম - এমন যুক্তি থাকে । আদি মাতৃকোষ থেকে আমাদের মধ্যে আছে বংশবিস্তারের আকাঙ্ক্ষা। তাই প্রাকৃতিক নিয়মে যথা বয়সে তাড়না সৃষ্টি হয় ,একে পশুরা রোধ করতে পারে না। মানুষ পারে। তবে হ্যাঁ,যা প্রাকৃতিক তার তাড়না বেশি। ক্ষিদে পেলে যেমন উচিত অনুচিতের জ্ঞান থাকে না, তেমনি অন্যান্য প্রাকৃতিক নিয়ম। উচিত অনুচিত অনেকটাই মানুষের বানানো বিধান। যেমন,খুব ক্ষুধার্ত দুই বন্ধু রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কোথাও ভালো কিছু না দেখে একটা ঝুপড়ি হোটেল দেখতে পেয়ে ঢুকে পড়লো । জানতে পারলো রুটি আর মাংসের ঘুগনি আছে ।তাই দুজনে খেয়ে উঠে দাম দিতে গিয়ে জানতে পারলো ঘুগনিতে শুকরের মাংস ছিল। তাই শুনে মুসলিম বন্ধুটা বমি তুলতে গেলো । হিন্দু ছেলেটা বোঝালো - দূর ক্ষিদের সময় খেয়ে ফেলেছিস। ভুলে যা । মুসলিম ছেলেটা ভয়ঙ্কর রেগে উঠলো । কয়েকদিন কথাই বললো না। অন্য একদিন দুজনে একটা প্রোজেক্টের কাজ করে ফেরার পথে খাবারের সন্ধান করছিল । মুসলিম ছেলেটা হিন্দু ছেলেটাকে এক জায়গায় বসিয়ে রেখে খাবারের সন্ধানে চলে গেলো এবং ফিরে এলো চারটে শিককাবাব নিয়ে। হিন্দু ছেলেটা তার ল্যাপটপে প্রোজেক্টের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলো ।সেই অবস্থায় কাজের কথা বলতে বলতে খেয়ে ফেললো । তারপর দুজনে স্টেশনে ফেরার পথে মুসলিম ছেলেটা হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলো , কি খেলি বলতো ? সে উত্তর দিলো মার্টন রোল ! মুসলিম ছেলেটা বললো - মার্টন,তবে ওটা গোস ছিল। হিন্দু ছেলেটা বলল - ও তাই । আর কিছু না বলে সে আবার কাজের কথায় ফিরে গেলো । কিছুক্ষণ পরে মুসলিম ছেলেটা বললো , হিন্দুদের কোনো ধর্মই নেই । তখন হিন্দু ছেলেটা বললো - আমার ধর্ম শিখিয়েছে না জেনে ভুল করলে সেটাতে দোষ নেই । কিন্তু তুই এই ভুলটা করলি কেন ? এটাতে তোর বেশিই গুনাহ্ হলো । মুসলিম ছেলেটা কিছু বললো না । এই হলো প্রাকৃতিক নিয়ম। ক্ষিদের সময় খেয়ে নিয়েছে ।বিয়েও করে সেই মতো। কিন্তু সচেতন ভাবে বিয়ে করার সময় সব নিয়ম নীতি রীতির ঊর্ধ্বে ব্যক্তি আগে আসন্ন জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গীনীর পাশাপাশি সন্তানের নিরাপত্তা ও পালনের দায়িত্বের কথা ভাববে। এটাই ব্যক্তি -সচেতনতা । সন্তানকে পৃথিবীতে আনার আগে কোনো বাবা মা পরিকল্পনা করে না। তাদের মধ্যে গোপনে চলে ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা - কে যোগ্য তার প্রমাণ আগে । তাই ক্ষিদেটা প্রাধান্য পায় । সন্তানের জন্ম দেওয়া বড় ধর্ম পালন। সে যে ধর্মের মানুষ হোক না কেন,সে আগে নিজের প্রস্তুতির কথা ভাববে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঈশ্বরের দোহাই দেওয়া হয় - সবই তাঁর ইচ্ছা । খাদ্য খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা থাকলে সন্তানকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার সময় সেই সতর্কতা থাকবে না কেন ? 

           খাদ্য গ্রহণ নিয়ে যত সমস্যা।তাহলে কি বলা হবে হিন্দুরা সুবিধাবাদী? না , এর উত্তরের জন্য আরো একটা ঘটনা এসে পড়লো । ১৯৭৬-৭৭ এর সময় , তখন দরিদ্র ঘরে সারা বছরে মাত্র কয়েক দিন ভাত জুটতো ।সেই সময় এক কাজ বাড়িতে পরিবেশন সেরে সব গুছিয়ে অনেকরাতে বাইরে বেরিয়ে দেখি ,শীতে কাঁপতে কাঁপতে কয়েকজন বাইরে দাঁড়িয়ে। আমার খুব কষ্ট হলো। গৃহকর্তাকে ডেকে বললাম, ওদের কিছু দিলে হয় না ? তিনি নিজে বাইরে বের হয়ে দেখলেন। বললেন, কে ওদের খাওয়াবে বলতো ? আমি বললাম, আপনি বললে ,আমি রাজি আছি। আসলে তখন কাজ বাড়িতে একজন দুজনের ওপর খাওয়াবার দায়িত্ব ঘাড়ে পড়ে যেত । আমি সন্ধে থেকে একাই প্রায় সবটা সামলেছি। দেখলাম ভদ্রলোক সকলকে বললেন, আয় তোরা খেয়ে নে ।পরে বুঝেছিলাম ভদ্রলোক ইতস্তত করছিলেন কেন ?এই দরিদ্র লোকগুলো ছিল মুসলমান সম্প্রদায়ের। আমি সকলকে পাতা পেতে জল দিয়ে অন্যদের মতো খাওয়াতে লাগলাম। গৃহকর্তাও ছিলেন।মাংস দেবার সময় ভদ্রলোক বললেন, ওদেরকে এই মাংস দেওয়া উচিত হবে? আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন? তিনি বললেন,ওরা জবাই করা ছাড়া মাংস খায় না। আমি ওদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তোমরা এদের বাড়ির মাংস খাবে তো ? তারা বললো, হ্যাঁ বাবু ,কেন খাবো না ? আমি বললাম, জবাই করা নয় কিন্তু ? এক বৃদ্ধ বললেন - যারা দুবেলা খেতে পায় ,তারা খাওয়ায় ধর্ম খোঁজে । যারা খেতেই পায় না, খাওয়ায় তাদের ধর্ম থাকে না বাবু । এই কথা কখনো ভোলার নয় । সময় মতো যাদের বিয়ে হয় না, তাদের আবার বাদ বিচার। অধিকাংশ মেয়েকে দুটো পেটে খাওয়া, আর একজনের ছাওয়ায় থাকার জন্য বিয়ে করতে হয় । অধিকাংশ ছেলেরা কিছু পায় না বলে বিয়ে করার সাহস পায় না। সেখানে বিধান মেনে খাওয়া দাওয়ার মতো বিয়ে বা সন্তানকে পৃথিবীতে আনা সম্ভব হয় না। কিন্তু এদেরই মাথায় যদি ঢুকিয়ে দেওয়া যায় - "ঈশ্বর বলেন আগে সামর্থ্য তারপর স্বার্থ ও তারপর সন্তান ", তাহলেই সম্ভব হতে পারে,কেবল হবে না যারা দুধে ভাতে থাকে। যাদের যত অর্থ তত ব্যাভিচার। দরিদ্র মানুষেরা পাখির মতো সন্তান পালন করেন। আধাঅর্থবানরা যে ধর্মের হোক না কেন তারা বাঘ ও বিড়ালদের মতো হয়ে যায়। তবুও বিজ্ঞানের এত অগ্রগতির যুগে হাতে মোবাইল নিয়ে সব দায় ঈশ্বরের ওপর চাপিয়ে দেব ? নিজেকে গড়ে তোলার কোনো দায় নেই আমাদের ? আমাদের সাধনাই সন্তানের প্রতিভা - এটা মানতেই হবে। যুক্তি দিয়ে বিচার করে দেখতে হবে।

Admin

Admin

dsaf  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register