- 8
- 0
হায়দো আর মামদো ভুতের গল্প
পঞ্চম পর্ব
হামদো বৌকে খুশি করতে নুতন গুহা ঘরের খোঁজে সারাদিন হন্নে হয়ে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়ে শেষে পুরুলিয়ার চামতাবুরু পাহাড়ের চূড়ায় নামল। পাহাড় চূড়া থেকে নেমে একটু নিচে সে সুন্দর গুহা ঘরের সন্ধান পেল।
চামতাবুরু হলো পুরুলিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ! প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।চামতাবুরু হলো পুরুলিয়ার বাগমুন্ডি বল্কে অবস্থিত অযোধ্যা পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ যার উচ্চতা ৭২০ মিটার প্রায় ২৩৬০ ফুট উঁচু।এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।এখান থেকে বামনি জলপ্রপাত দেখা যায়। এছাড়া মার্বেল লেক ও এখান থেকে খুব সহজেই ভ্রমণ করা হামদো ভুতের পক্ষে খুবই সহজ ব্যাপার।বামনি জলপ্রপাতের দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। হামদো এখানে এসে খুব খুশি। কারণ তাদের খাদ্যের কোনো অভাব হবে না । বনমোরগ,শুকর,পাহাড়ী ছাগল,গরু,মোষের অফুরন্ত ভান্ডার এই পাহাড়ী অঞ্চলে। এখানে লোক বসতি একদম নেই বললেই চলে। সত্যি কথা বলতে কি, বিয়ের পর থেকে হামদো শাকচুন্নিকে নিয়ে হনিমুনে যাবার ফুরসৎ পায়নি। এখানে এসে থাকতে পারলে হনিমুন মুডে থাকতে পারবে।হামদো পাহাড়ের একটু নিচে অনেক শুকরের ছানা চড়ে বেড়াতে দেখলো!
এক খন্ড শাল গাছের ডাল ভেঙে খুব সহজেই একটি শুকর ছানাকে ঘায়েল করে, তার খাবারের ব্যবস্থা করলো। শুকরছানাটি কম করে কিলো চল্লিশ তো হবেই হবে। সে পাথরে পাথর ঘষে শুকনো কাঠে আগুন ধরিয়ে শুকর ছানাটিকে পুড়িয়ে বামনি জলপ্রপাতে নিয়ে গিয়ে ধুয়ে শালপাতায় রেখে জমিয়ে পাহাড়ী লঙ্কা দিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে আয়েশ করে তার রাতের ভোজ সেরেই সে তার ভাইয়ের বাড়ির দিকে রওনা দেয়। ভোর হবার কিছু আগেই সে ধুধুনিয়া পাহাড় পৌঁছে কুচু মুচুকে ডাক দেয়, কোথায় রে আমার কুচুসোনা আর মুচু সোনা!
আমি এসে গেছি!
আমি এসে গেছি!
এদিকে হামদোর গলা শুনে শাকচুন্নি এসে হাজির। নাকি সুরে বলতে শুরু করলো,কি গো আমাদের থাকার কোনো ব্যবস্থা হলো?
হামদো মুখটা গম্ভীর করে বললো, ব্যাপার টা কী খুব সহজ বলে মনে করো!
এই কথা শুনে শাকচুন্নির মুখটা কেমন চুপসে গেল।নাকি সুরে বলতে লাগলো,ঐ শেওড়া গাছের ডালে বসে বসে দিন রাত কাটাতে হবে!
আমার ভাগ্য টাই খারাপ। কিন্তু কখনো কোনো ব্যাপারে তাঁর স্বামীকে কিছু ই বলতো না। আসলে হামদোকে সে খুবই ভালো বাসত।
শাকচুন্নির মুখটা দেখে মামদো হাসতে লাগল। তখন বললো,কি গো তুমি হাসছো কেন? বলনা,কি দেখলে ?
হামদো বললো, তোমাকে এবার সুন্দর ঘর উপহার দেবো। আগামী ভুত চতুর্দশী তিথিতে তোমার নতুন ঘর উপহার দেবো!
এই কথা শুনে শাকচুন্নির খুব আনন্দ হলো। আনন্দে সে ভুতেদের বিখ্যাত গান গাইতে লাগলো।
" ভুত চতুর্দশী আসছে রে ভাই
আনন্দের কোনো সীমা যে নাই!
ভূত পেত্নী, শাকচুন্নি নাচবে তাই
এমন খুশির খবর আর তো নাই !"
এই বলে শাকচুন্নি কোমর দুলিয়ে দুলিয়ে নাচতে লাগলো। মায়ের দেখাদেখি কুচু আর মুচু ও নাচতে শুরু করেছিল।
হামদো তখন তার ভাই মামদো আর গুয়ে পেত্নীকে জোরে জোরে ডাকতে লাগল। শোরগোল শুনে তারাও এসে হাজির। ঘুরে ঘুরে ফিরে ফিরে কোমর দুলিয়ে দুলিয়ে সেকি নাচ!
কি তোমরা যাবে না কি ভুত, পেত্নী আর শাকচুন্নির নাচ দেখতে! তাহলে আর মানুষের নাচ তোমাদের ভাল লাগবে না তা কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি।
0 Comments.