- 29
- 0
শীতে ত্বকের যত্ন
ঋতু পরিবর্তনের সাথে শীত আসলেই আমাদের ত্বক হয়ে ওঠে শুষ্ক। এই পরিবর্তন কোন রোগের জন্য নয়, আমাদের শরীরকে আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। শরীরকে গরম রাখার জন্য ত্বক খুব সাহায্য করে। এই ঠাণ্ডা, হিমেল আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারার জন্য ত্বকে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। শীতের খুব শুষ্ক বাতাস আমাদের ত্বকের প্রতিরক্ষামূলক তেল ছিনিয়ে নেয় এবং সেইজন্যই চামড়ায় সমস্যা যেমন ঠোঁট ফাটা, চুলকানি এবং গোড়ালি ফাটা দেখা দেয়। ত্বকের প্রাকৃতিক স্তরকে ক্ষতি করে। গরম জলে স্নান, কম সূর্যের আলো, কম হাইড্রেশন শুষ্কতা বাড়ায়, সমস্যা বাড়ে ত্বকের। এক্ষেত্রে সারাদিন দামী দামী মুখে মাখার ক্রিম বা লোশন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধুমাত্র কতগুলি সতর্কতা অবলম্বন। এই সময় ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া দরকার। শীতে ঠোঁটের শুষ্কতা এক বড় সমস্যা। প্রথমেই বলি, এই সময় প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে হবে। বাইরে বেরোলে লিপগ্লস বা লিপস্টিক লাগাতে হবে। ঠোঁট বেশী চাটবেন না। তাতে আবার তাড়াতাড়ি ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাবে। ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে ত্বক ভাল থাকে। শীতের শুষ্ক ত্বকের লক্ষণগুলো-- লালভাব, রুক্ষ্ম, চুলকানি, পোড়া চামড়া, ত্বকে টান পড়া, চঞ্চলতা। শীতে গরম জলে স্নান করা এড়িয়ে চলুন। হালকা গরম জল ব্যবহার করা যেতে পারে। স্নানের পরেই ত্বককে ময়শ্চারাইজ করতে হবে। মনে রাখবেন, বাজারের বিজ্ঞাপনের চমকে অনেক ধরণের ত্বকের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। এগুলোতে কঠোর রাসায়নিক থাকে বলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এগুলো ব্যবহারের পরিবর্তে ঘরোয়া উপায় ভেবে দেখতে পারেন। মুখে মধু লাগালে পরে গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল হবে। এছাড়াও মুখে জলপাই তেল, নারকেল তেল বা বাদাম তেল ব্যবহার করলে ত্বককে উজ্জ্বল করবে। রাতে শোবার আগে তেল দিয়ে ১০ মিনিট মুখে ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে সকালে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এছাড়াও ক্রিম এবং দই-বেসন ব্যবহার করতে পারেন। শীতকালে শুষ্ক ত্বকের সাথে লড়াই করতে প্রচুর জলের সাথে সরবৎ খেতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। মেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও মেগা-3 ফ্যাট এবং ভিটামিন এ, সি এবং ই এর মতো পুষ্টি উপাদান প্রতিরোধকের কাজ করে। আখরোট খাওয়া ত্বকের পক্ষে ভাল। চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন-- স্যামন, ম্যাকেরেল ত্বক ভাল রাখে। মিষ্টি আলুতে বিটা-ক্যারোটিন থাকায় এর পুষ্টিগুণ অনেক। ভিটামিন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সূর্যের রোদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। রোদে পোড়ে না, কোষের ক্ষতি হতে দেয় না, শুষ্ক, কুঁচকে যাওয়া থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গোলমরিচ ত্বকের দৃঢ়তা এবং শক্তি বজায় রাখে। ব্রকোলিতে লুটেইন এবং সেলফোরাফেন থাকায় সুরক্ষা দেয় এবং সম্ভাব্য ক্যানসার বিরোধী প্রভাব রয়েছে। সয়া, টমেটো, সবুজ চা, তরমুজ ত্বকের পক্ষে ভাল খাবার। এরপরেও ত্বকে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
0 Comments.