- 16
- 0
রামধনু ও বায়ুস্তর
বাবুঘাটে পৌঁছে দেখি রেবা এক মনে কি যেন লিখছে। পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। হঠাৎ রেবা পিছনে ফিরে আমাকে বলল "দেখো দেখো, রামধনু ওঠা সত্বেও আকাশ থেকে কেমন বৃষ্টি হচ্ছে! আমি বলি "আকাশ থেকে কখনো বৃষ্টি পড়ে না। বৃষ্টি পড়ে মেঘ
থেকে। রেবা বললো "আমি ঠিক বুঝলাম না। মেঘ আর আকাশের মধ্যে কি তফাৎ?"
আমি বলি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১২ মাইল পর্যন্ত ট্রোপোস্ফিয়ার বায়ুমণ্ডল। ধুলো ঝড় ও
মেঘের দাপাদাপি এই স্তরে। জলীয় বাষ্প জীবাণু ও কার্বন ডাই অক্সাইডও রয়েছে
এই স্তরটিতে। এই স্তরের আবদ্ধ থাকে ঝড়-বৃষ্টি সাইক্লোন ও ঘূর্ণী। এর পরেও
তো আকাশের সীমানা আছে। যেমন ভূপৃষ্ঠের ১২মাইলের উপর থেকে ৫০ মাইল পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের স্তরকে বলে - স্ট্রাটোস্ফিয়ার। এই স্থলে ধুলো, জলীয় বাষ্প ও জীবাণু নেই। যেহেতু এই স্তরে জলীয় বাষ্প নেই - তাই মেঘ নেই বা বৃষ্টি নেই। ওখানকার উত্তাপ হিমাঙ্কের নিচে অর্থাৎ এই অঞ্চলটি হচ্ছে শীতল প্রশান্তির অঞ্চল। তবে এখানে ওজোন গ্যাসের একটি পর্দা আছে। রেবা বলল ওজোন গ্যাসটা আবার কি?
আমি বলি "দুটি অক্সিজেনের পরমাণু যেমন জোট বাধলে পাওয়া যায় অক্সিজেনের অণু। সেরকম তিনটি অক্সিজেনের পরমাণু জোট বাঁধলে পাওয়া যায় ওজনের অনু। রয়েছে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ মাইল উঁচুতে। এই ওজন অনুর পর্দা আছে বলেই সূর্যের আলট্রা ভায়োলেট রে বা অতি বেগুনি ক্ষতিকর রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করতে পারে না। মায়ের আঁচলের মত পৃথিবীকে আগলে রাখে। ওজন স্তর আছে বলেই সূর্যের আলট্রা ভায়োলেট রে অর্থাৎ অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে আসতে পারে না। রেবা তখন বলল "রামধনু সম্বন্ধে একটু জানতে চাই।"
আমি - "সূর্যের আলোর সাতটি রঙ। এই সাতটি রঙ হচ্ছে - সূর্যের আলোর সাতটি ঢেউ। একেই রামধনু বলে। এক একটি ঢেউ, এক এক মাপের। ছোট ঢেউয়ের দিকটা বেগুনি। বড় ঢেউয়ের দিকটা লাল। মাঝের দিকের ঢেউ গুলির রঙ্গ হচ্ছে - নীল, আসমানী, সবুজ, হলদে ও কমলা। এই সাতটি ঢেউ বা রঙ্গ ছাড়া ছোট ছোট আরও ঢেউ বা রং আছে। সেসব চোখে দেখা যায় না। যেমন লাল উজানি আলো বা ইনফ্রারেড। বেগুনি পারের আলো বা আলট্রা ভাওলেট রে ইত্যাদি।"
0 Comments.