Thu 23 April 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব - ৪২)

maro news
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব - ৪২)

শহরতলির ইতিকথা

 না,বাঙালির স্বভাবের কোনও পরিবর্তন ঘটে না; নৈশ-বিভাগে, মোট পাঁচজন পূর্ণ সময়ের জন্য অধ্যাপক আছেন ; তার মধ্যেই সরাসরি দুটো দল হয়ে গেছে;এর আগেও ছিল,কিন্ত সেটার বৈশিষ্ট্য ছিল অন্যরকম,তাড়াতাড়ি ঘরে ফেরার দল-- বাধ্যবাধকতা; আর স্থানীয়রা---কলেজে তালা দেওয়ার আগে পর্যন্ত অবস্থান। যাই হোক,প্রিন্সিপাল মশাই'র নোটিশ বেরিয়েছে,প্রতিনিধি পাঠাবার জন্য নমিনেশন ফর্মও চাওয়া হয়েছে।

       রমাকান্তবাবু সবাইকে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে দু'জন প্রতিনিধি পাঠাবার কথা বললেন;এরাই ঐ গভর্নিং-বডিতে গিয়ে

নৈশ-বিভাগের সমস্যাগুলো সরকারি প্রতিনিধিদের সামনে সুন্দরভাবে তুলে ধরে,তাঁদের বোঝাতে সক্ষম হবে।কিন্ত না,দূরের অধ্যাপকদের মধ্যে দিবা-বিভাগের রাজনৈতিক বাম আদর্শ অনুসারী অধ্যাপকদের প্রভাব বেড়েছে;তারা, নিজেদের দূরবর্তী অঞ্চলের দু'জন অধ্যাপকের নাম পাঠাতে ইচ্ছুক;সর্ব-সম্মতি হলো না।রমাকান্তবাবু -রাজীব, ঐ দলের দলপতি ও রাজীবের নাম পাঠাবার কথা উত্থাপন করলে, দলপতি তা সঙ্গে সঙ্গে নাকচ করে দেওয়ায়, নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠলো। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বতা করার ফর্ম পূরণ করার সময়,প্রিন্সিপাল মশাই,রাজীবকে বললেন,"তুমি তো হেরে যাবে নিশ্চিত,ওরা তিনজন,আর তোমরা দু'জন"।রাজীব উত্তরে বলে,"স্যার,আপনি তো জানেন,আমি,অন্যায়ের বিরোধী;নিজেকে সান্ত্বনা তো দিতে পারবো,যে ভালো করার জন্য চেষ্টা করেছি"।নির্বাচন হচ্ছে,দিনক্ষণ সব স্থির:দিবা-বিভাগের অধ্যাপকরা,খুশিতে ভরপুর,যে গভর্নিং-বডিতে তাদের লোক বাড়ছে,সমগ্র কলেজেই,তাদের আধিপত্য থাকছে।

         নির্বাচনের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত-কমিটি এসে দিবা-বিভাগে, কেমিস্ট্রি অনার্স অনুমোদনের সাথেই নৈশ বিভাগেও অ্যাকাউন্টান্সিতে, অনার্স অনুমোদন করেছে; আর,সে ক্ষেত্রে,রাজীবের ভূমিকা ছিল অনন্য; রাজীবই,বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটিতে থাকা কমার্সের অধ্যাপকমশাইকে, সব কিছু বুঝিয়ে এ অনুমোদন করাতে সক্ষম হয়েছে। রাজীবের প্রফেশনাল ডিগ্রী রয়েছে (কস্ট&ম্যানেজমেন্ট অ্যাকা

উন্টান্ট) , সরকারি সহায়তায় নৈশ-বিভাগের লাইব্রেরির উন্নতি ঘটাতে পারলেই এ কোর্স যে সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে,তা ঐ অধ্যাপক মশাই,প্রিন্সিপালও সকলের সামনে ব্যক্ত করেছেন;নৈশ-বিভাগের ছাত্ররা,বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট-গ্রাজুয়েট পরীক্ষাতেও নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ

রাখে।

    নির্বাচনের কয়েকদিন আগে রাজীব,ঐ দূরের একজন অধ্যাপকের

 বাড়িতে গিয়ে,সমস্ত তথ্য দিয়ে,এবং কীভাবে ডিপিআই'র ঘরে গিয়ে সে ও রমাকান্তবাবু, নৈশ বিভাগের স্টেটাসের

অবস্থান স্পষ্ট করাতে সক্ষম হয়েছে,তা বলায় ঐ অধ্যাপক মশাই,রাজীবকে একটা ভোট দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন;কলেজে এসেও তা সকলের সামনে ব্যক্ত করেছেন।এখন ঐ ভদ্রলোক ,তাঁর দুটো ভোটের একটা দলপতি ও আর একটা রাজীবকে দিলে তো রাজীবদের কথাই মান্যতা পায়,অর্থাৎ দলপতি ও রাজীব নির্বাচিত হয়ে গর্ভনিং-বডিতে যাবে;এখানে,শুরু হলো খেলা; দলপতি,ঐ অধ্যাপককে অনুরোধ করে,ওকে ভোটটা না দিয়ে সে যেন ঐ ভোটটা,ওদের নির্বাচিত প্রার্থীকে দেয়;

তার ধারনা,রাজীব- রমাকান্তবাবু তো দুটো ভোটের একটা ওকে দেবে,তাহলে তার জিতে যাওয়া নিশ্চিত; রাজীব ও অন্যজন সমান পাবে,তখন,প্রিন্সিপাল মশাই'র কাস্টিং ভোট পেয়ে,অন্যজনকেও গভর্নিং-বডিতে নেওয়া যাবে ,উত্তেজনা তুঙ্গে।

     নির্বাচনের দিন,সবাই একরকম নিশ্চিত যে রাজীবের পরাজয় নিশ্চিত। এদিকে,রমাকান্তবাবুও রাজীব ভোটে, সিঙ্গলকাস্টিং করলো,ফলে হোল কী রাজীব---৩,অন্যজন---৩এবং দলপতি---২।

প্রিন্সিপালমশাই ,দিনের বেলার অধ্যাপকরাও হতবাক ।নৈশ-বিভাগ থেকে জয়ী দু'জন সমান ভোট পেয়ে,নির্বাচিত হলো,আর নিজের গোঁ রাখতে গিয়ে দলপতির হলো ভরাডুবি ;নৈশ-বিভাগ সংক্রান্ত কোনও বিষয়ে,নৈশ-বিভাগের প্রতিনিধিদের বক্তব্যই প্রাধান্য পাবে,অর্থাৎ কট্টর বামদল অনুসারীদের

আধিপত্যে একটু খিঁচ থেকে গেল।প্রিন্সিপাল মশাইও মনে প্রাণে রাজীবও দলপতিকে চেয়েছিলেন,কারন,অন্যজন যুক্তি দিয়ে কথা বলতে সক্ষম নয়;কী আর করা যাবে,নির্বাচনের রায় মানতে তিনিও বাধ্য।


চলবে

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register