- 33
- 0
ভূবনের ভাবনা
হঠাৎ করেই প্রশ্নটা মাথায় এল ভূবনের। বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় বিভিন্ন দোকানে পশরা সাজিয়ে দোকানিরা বিক্রি করছে টুপি, ব্যান্ড, পতাকা আরো কত কি। একটুক্ষণ দাঁড়িয়ে পরিস্থিতিটাকে জুঝে নিতে চাইল ভূবন। দোকানিরা বলছে এবারের লেটেস্ট টেন্ড নাকি ডিজিটাল তিরঙ্গা। বিষয়টিকে খতিয়ে দেখতে রাস্তার একপাশে দাঁড়াল সে। নীচে ড্রেন ধরে কতগুলো কালো মানব শিশু পড়নে ছেঁড়া কাপড় ও ততধিক নোংরা একটি ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, তাদের নজর নরকের গভীর থেকে গভীরে যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছোয় না। সেই পাঁক ঘেঁটে তুলে আনতে হবে ক্ষুধা নিবৃত্তির রসদ। রাস্তার কোনে দাঁড়িয়ে নিজের মনেই বিড়বিড় করে উঠল ঊনআশি! তার অবশ্য তিরিশ। তবুও তো সে একটি গাড়ি কিনেছে, বাড়িটাকে নতুন করে তৈরি করেছে হয়তো আগের থেকে কিছুটা হলেও স্বচ্ছন্দে চলতে পারছে কিন্তু ঊনআশি বছরের একটি বুড়ো দেশ সে কিনা আজও পাঁক ঘেঁটে বেড়ায়?
বন্ধুমহলে কথাটা বলতেই বিদ্রোহের আঁচ পাওয়া গেল, বন্ধুদের মধ্যে সবথেকে ভদ্র সাদা পাঞ্জাবি পড়া লোকটি চায়ের ভাঁড়টা নামিয়ে তাকে প্রায় দেশ সম্বন্ধে একটা ছোটো খাটো জ্ঞানও দিয়ে দিল এবং বুঝিয়েও দিল যে সে নাকি জাতীয়তাবাদী নয়, কেন না দেশের সমস্যাকে দেখিয়ে সে খুব অপরাধ করে ফেলেছে। পাশে থাকা লাল চুল কানে দুল সেও আবার ডিজিটাল পতাকা, অর্থনীতি সম্পর্কে একটি জ্ঞান দিয়ে যখন টেবিলে চাপড় মারল তখন চমকে উঠে ভূবন দেখে তাকে অলরেডি দেশদ্রোহী তকমা দেওয়ার জন্য সবাই উঠেপড়ে লেগেছে। কোনোরকমে বাড়ি থেকে ফোন আসার অজুহাতে বের হয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।
ঠিক তখনই দেখতে পেল ঊর্ধশ্বাসে একটি গাড়ি প্রায় উন্মত্তের মতো তিরঙ্গা নিয়ে তার পাশ দিয়ে ঝড়ের গতিতে বেড়িয়ে গেল।
ভূবন জানে যে একে বলে ‘ইন্ডিপেনডেন্স রাইড’ কিন্তু তারপরই শুনতে পেল গলির মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা দুটি নারীকন্ঠের চিৎকার। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ভিড় ও জমে গেল। তারপর একটার পর একটা গাড়ি এল,
খবরের চ্যানেলে নতুন হেড লাইন...
আস্তে আস্তে চোখটা বন্ধ করল ভুবন।
পাশের ক্লাবের মাইকে তখন ও বাজছে “ভারত হামকো জানসে প্যারা হ্যায়....”
0 Comments.