- 19
- 0
হামদো আর মামদো ভূতের গল্প
তৃতীয় পর্ব
তার পর গুয়েপেত্নী বললো, তোমরা দুই ভাই মিলে চুটিয়ে গল্প করো। আমি ছাগলীর মাঙসের মশলা দিয়ে ভাজা আর ঝাল বানাই। তোমরা মজা করে খাবে। 'ঠিক আছে বৌমা। তাই করো। আমরা দুই ভাই গল্প করি।
হামদো বললো, ভাই তোর মনে আছে, একবার পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে তুই কাদায় পুতে গিয়েছিলিস।
সেকথা আর মনে থাকবে না। তুমি না থাকলে আমিতো শেষ! কি বাচাই না বাচিয়েছিলে।
আমাদের ছোটো বেলায় কি মজায় না কাটতো। দুজনে কতো কতো বনের ফল খেয়েছি। পাকা তাল, গাছ পাকা খেজুর কাদি কাদি খেয়েছি। আতা, আম, নারকেল দুজনে কম সাবাড় করেছি!
গল্প করতে ইলিশ মাছ ভাজা খাওয়ার গল্প ও শোনালো মামদোকে!
শুনে মামদো বললো, জানো আমার বৌ, গুয়ে তো কোনো দিন ইলিশ মাছ খাওয়ার কথা বলেও নি!
ঠিক আছে ভাই, তোরা দুজনে আমার বাড়ী চল্। তোদের পেট পুরে ঝুড়ি ঝুড়ি ইলিশ মাছ খাওয়াবো।
শুনে মামদো বললো, অনেক দিন হলো কোথাও যাওয়া হয়নি। গুয়েকে নিয়ে ঘুরে আসবো।
এদিকে গুয়েপেত্নী রান্না বান্না শেষ করে নাকি সুরে ডাক দিয়ে বললো, মাম, দাদা তোমরা এসো। এদিকে ধুধুনিয়া পাহাড়ের মাথা মশলাদিয়ে ছাগলীর মাঙস ভাজা আর ঝালের সুগন্ধে ভরে গেলো। গন্ধ শুকতে শুকতে হামদো বলে, খুব ভালোই রান্না করে!
হামদো তো দেখেশুনে অবাক হয়ে গেলো। পোড়া মাটির বড়োবড়ো থালায় মাঙস ভাজা আর ঝাল দেওয়া হয়েছে। মাটির বড় কলসীতে জল দেওয়া হয়েছে। সুন্দর সুন্দর তালপাতার আসনে বসতে দেওয়া হয়েছে। হামদো তো খুব খুশি।
মামদো বললো, গুয়েসোনা তুমি ও খেয়ে নাও। শুনে হামদো বলে,সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়ার মজা ই আলাদা।
ঠিক আছে বলে মামদোর গুয়েসোনাও বাকী সব খাবার দাবার নিয়ে তিন জনে একসাথে খেতে লাগলো। কেজি কুড়ি ছাগলীর মাঙস কয়েক মিনিটে খাওয়া শেষ হলো। খাওয়ার পর তিন জনে তিন কলসি জল ঢকঢক করে পান করে ডেকুর তুলতে লাগলো। ডেকুর তোলার আওয়াজে পাহাড়ের মাথা কেপে কেপে উঠলো।
এদিকে রাত শেষ হয়ে এল। হামদোর জন্য মোটা খড়ের গদিতে ভেড়ার ছাল বিছিয়ে দিয়ে সুন্দর করে বিছানা পেতে দিল। মাথায় শিমুল তুলোর বালিশ ও পাশের বালিশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের গুহার আরেক কুঠুরিতে মামদো তার গুয়েসোনাকে নিয়ে শুতে গেলো।
0 Comments.