- 5
- 0
বিভিন্ন দেশে নববর্ষ
নববর্ষ নতুনের আবাহন। পুরাতন বৎসরের সব দীনতা মলিনতা সরিয়ে নবীন আনন্দে জেগে ওঠার দিন। সবার মনে যেন একটাই আকাঙ্ক্ষা, শুধু মাত্র বছরের বিদায় নয় ,বিদায় হোক সব খারাপের ,বিদায় হোক রোগ ,শোক জরা এবং সর্বোপরি হিংসার। এই রুদ্র তাপস যেন সকলের জন্য বয়ে আনে আনন্দের অপার ভান্ডার। তার ঝুলিতে যেন থাকে অগাধ খুশি ।
শুধু আমরাই নই পৃথিবীর অনেক জাতিই এই সময় নববর্ষ পালন করেন । প্রাচীন আরবে নববর্ষ খুব ধুমধামের সাথে পালিত হতো, ইরানে হতো নওরোজ। এছাড়াও আমাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশ ,নেপাল ,থাইল্যান্ড ,শ্রীলঙ্কা ,কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামেও নববর্ষ পালন করা হয়। এ যেন বিবিধের মাঝে এক মহা মিলন। সবাই যেন কোন না কোন সূত্রে একই সুতোয় বাধা।
মিয়ানমার এ নববর্ষ থিন ইয়াং নামে পরিচিত বার্মিজ ভাষায় যার অর্থ পরিবর্তন। মাঝ এপ্রিলে সাধারণত এই দিনটি পালন করা হয়। তবে দিনটি নির্দিষ্ট হয় সৌর ও চন্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে। নববর্ষের দিন মিয়ানমারে জল উৎসব হয়। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো জল উৎসব। নববর্ষের চারদিন আগে থেকে এই উৎসব শুরু হয় ,শেষ হয় নববর্ষের দিন । ওই দিন সবাই উৎসবে মেতে উঠেন।
থাইল্যান্ডের সংক্রান উৎসব - সংক্রান শব্দটি এসেছে বাংলার সংক্রান্তি থেকে । এই দিনটিতে ওখানে স্কুল কলেজ অফিস সব বন্ধ থাকে । থাইল্যান্ডেও খুব বড় করে জল উৎসব আয়োজিত হয়। সব বয়সের মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ছোট বড় সবাই মহানন্দে এই উৎসবে মিলিত হন।
শ্রীলংকার নববর্ষ ১৪ই এপ্রিল পালন করা হয় । তবে উৎসব চলে এক সপ্তাহ ধরে । স্থানীয় ভাষায় নববর্ষ কে আলুথ অবরুদ্ধা বলা হয়। এদের নববর্ষের সাথে তামিল নববর্ষের অনেক সাদৃশ্য দেখা যায় ।
কম্বোডিয়ার খেমার নববর্ষ ১৪ই এপ্রিল পালন করা হয় । দিনটিকে বলা হয় চউল সানাম থামাই । এর মানে নতুন বছরে প্রবেশ করা । খেমার নববর্ষে নানা ধরনের লোকজ খেলা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
ছোট বড় সবাই খুশিতে উৎসবে যোগদান করে।
১৪ই এপ্রিল নেপালেও নববর্ষ উৎসব পালিত হয় । এই দিনে বৈশাখ উৎসব নামে এক সার্বজনীন উৎসব হয় দেশজুড়ে।
লাওসেও সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখের প্রথম দিনটি পালিত হয় । স্থানীয়ভাবে এর নাম সংক্রান বা পি মেই যার অর্থ নতুন বছর।
আমাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশ ১৪ই এপ্রিল নববর্ষ উৎসবে মেতে ওঠে । নববর্ষের দিন সবাই পান্তা ইলিশ খান মহানন্দে। নানা ধরনের মেলা ও অনুষ্ঠান চলে সারাদিন ধরে।
ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন নামে বৈশাখের প্রথম দিনটি পালন করা হয় । যেমন পাঞ্জাবে বৈশাখী ,কেরালায় ভিষু ,আসামে বিহু ,তামিলনাড়ুতে পৃথান(পুথানডি) ,উড়িষ্যায় পান সংক্রান্তি, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় পয়লা বৈশাখ।
নববর্ষের আগমন হয় নব উজ্জ্বলতায় নব আনন্দে, পুরাতন বৎসরের সব মন খারাপ দূরে সরিয়ে বলতে ইচ্ছে করে “পাতা ঝরার দিন ফুরালো /দেয় নতুনের ডাক/ যা হারালো যা ফুরালো স্মৃতির খাতায় থাক।” আমাদের রবি কবি তাইতো বলেছেন “নব আনন্দে জাগো/আজি নব রবি কিরনে /শুভ্র সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে।
সব বন্ধুদের জানাই নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা
0 Comments.