Fri 17 April 2026
Cluster Coding Blog

T3 - নববর্ষ সংখ্যায় ইন্দ্রাণী ঘোষ

maro news
T3 - নববর্ষ সংখ্যায় ইন্দ্রাণী ঘোষ

বৈশাখ ।

শীত যখন যাই যাই করে অনেক ঢঙ করে, তখনই ফিচেল হাসি হেসে বসন্ত সেই ন্যাকামীর স্বাদ নেয় । ওই দিনে গরম, রাতে পাগল হাওয়া । এইসব আশনাই দেখে সুয্যিদেব চোখ পাকিয়ে ধমক দেন । ব্যাস ধমক দিয়েই উঠে পড়েন মাঝ আকাশে । সব আশিকি তখন ল্যাজ গুটিয়ে দে দৌড় । 


কৃষ্ণচূড়া শুধু আরও লাল, আরও গ্রাম্ভারী, হয়ে বলে 'জানা আছে, ওই উচাটন দুদিন বৈ তো নয় ।' এই ভেবে সে তাঁর লাল রঙ আরও গাঢ় করাতে মন দেন । রাধাচূড়ার বাপু অত দেমাক নেই, সে মনের সুখে বাসন্তী কার্পেট বিছিয়ে চলে এ শহরের রাস্তায়, অলিগলিতে । বেল, জুঁইরা আরও সহজ । সুয্যিদেব পাটে বসলেই তাঁরা সকলে মিলে সৌরভ উপুর করে হাওয়ায়, হাওয়ায় । সুয্যিদেব যতক্ষন চোখ রাঙাচ্ছেন তাঁরা একেবারে চুপটি করে থাকে । লতানে জুঁইয়ের অবশ্য কনফিডেন্স আলাদা । মেধাবী, দামাল সে । দুপুর দুটোয় সে সৌরভের প্রাচূর্য্য ঢেলে দেওয়ার হিম্মত রাখে । সু্য্যিদেব তাঁর এই দামালপনা প্রশ্রয় দেন, যদিও তিনি আগুন ঢেলেই যান সবার উপরেই । ঘোর দুপুরে জুঁইদের কাছাকাছি গেলে আর দুহাতের আজলা ভরে তুলে নিলে সে বেজায় খুশি হয়ে বাড়ীর নিভৃত কোন থেকে বৈঠকখানা অবধি সুরভিত করে দেয় । শুধু কাঁচের বা পেতলের রেকাবিতে তাঁকে রেখে দিতে হবে একটু জল দিয়ে । ব্যাস আর কিচ্ছুটি চাই না । আমের মঞ্জরীরা বিদায়বেলায় ওদের হাতে নি:শব্দে দায়িত্ব তুলে দিয়ে যায় ।


যে যতই বলুক বাপু প্রাণ হাঁসফাস, প্যাচপ্যাচে ঘাম । আমার বাপু গরমকাল প্রিয় ঋতু । এমন জোড়ালো, তীব্র আহবান আর কারই বা আছে । আইসক্রীমে, ঠান্ডাইতে, রু আফজার লাল রঙে, লাল পাড় সাদা ঢাকাই জামদানি, টাঙাইলের আভিজাত্যে, 'এসো হে বৈশাখ' বারবার ফিরে এস । তোমার তীব্রতা, তোমার গন্ধ, তোমার রঙ দেখার জন্য আমি এই পৃথিবীতে বারবার জন্মাতে রাজি ।


ও: হ্যাঁ, দেড়েল বুড়ো তো তোমার কোলে চেপেই ২৫ তারিখে এসেছিলেন এই ধরাধামে, তাই তোমাকে আরেকটু বেশি ভালবাসি, এই বেলা বলেই দিলুম তোমাকে । ওই বুড়োর জন্যি বেঁচে গেলুম যে । 

মানিক হয়ে আলো মগজে দিতে সত্যজিতও এ মাসেই এসেছিলেন ভাগ্যিস ।

আর এ বছর তো কুচি কুচি বরফ যাকে কি না শীলা বলে সে তো বছর শেষের আগেই মুঠো মুঠো ছড়িয়েছিল এ বছর শহরের পথে পথে । এইজন্যই সুয্যিদেব একটু সমঝে ছিলেন তাঁর আবার বরফ কুচির সাথে পুরনো প্রেম কিনা। অমন জুঁই ফুলের মত রূপ দেখে তিনি কেমন ভ্যেবলে যান আর তাঁকে দেখে প্রেমিকাটি তো গলে টলে একাকার। ফলস্বরূপ বিকেলে মিঠে মিঠে হাওয়া আর রাতের দিকে আরামে গায়ে কাঁথা টেনে নেওয়া এই শহরবাসীদের ।

তবে তিনি নিজমূর্তি ধরবেন, পুরুষ কিনা। তখন ওই ফিচেল প্রেমিকাই ভরসা হবেন সবার। 

শুভ নববর্ষ সকলকে ।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register