- 4
- 0
ঘন ঘন প্যারাসিটামল খাবেন না
আবহাওয়া প্রতিদিনই পালটে যাচ্ছে। কখনো ঠাণ্ডা, কখনো বৃষ্টি, কখনো বা গনগনে রোদ। আবহাওয়ার সাথে অনেক সময় শরীর সায় দেয় না। তাই প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত জল এবং ভাল ঘুমের প্রয়োজন। আমরা অনেকেই একটু গা হাত পা ব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব, সর্দিতে চটজলদি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করি। এটা প্রায় অভ্যাসেই এনে ফেলেছি আমরা। এমনিতেই দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষই বেশী ওষুধ খায় বলে জানা যায়। কি এই প্যারাসিটামল? এটি একটি ব্যথা কমানোর সাথে অ্যান্টিবায়োটিক, যা শরীরের তাপমাত্রা কমায়। ভারতীয়দের কাছে এ যেন রেসকিউ পিল। গা ম্যাজম্যাজ করা বা শরীর দুর্বল লাগালেও আমরা প্যারাসিটামল খেয়ে নিই। এই ওষুধ প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই থাকে। প্যারাসিটামল প্রায় ৫০ বছরের বেশী সময় ধরে রয়েছে। এটি মূলতঃ নিরাপদ। চিকিৎসকরাও এটা ব্যবহারে নির্দেশ দেন। কিন্তু ঘন ঘন এটি খেলে নিজের অজান্তেই বিপদকে আহ্বান করা হচ্ছে। আমরা অনেকেই নিজেই ওষুধের দোকান থেকে কিনে সঠিক ডোজের বেশী খেয়ে ফেলি। নিয়ম মেনে খাওয়া উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজন অনুসারে দিনে ৫-৬টি সর্বোচ্চ প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। মোটামুটি ৪ ঘণ্টা বাদে বাদে এই ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু লাগামছাড়া প্যারাসিটামল খাওয়া মোটেই ভাল না। প্রধানতঃ মাথা ব্যথা, শরীরের ব্যথা, দাঁত ব্যথা, অস্টিও আথ্রাইটিস, পিঠে ব্যথা, জ্বর হলে বা বাতের ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগলেই আমরা। প্যারাসিটামল ব্যবহার করি। কিন্তু বেশী মাত্রায় খেয়ে ফেললে লিভার ও কিডনিতে চাপ পড়ে। পেটের গোলমাল তো হবেই, কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কাও বাড়বে। এছাড়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে। বমিভাব, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হতে পারে।
ঘনঘন প্যারাসিটামল খাওয়ার কারণেই গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল, হার্ট এবং কিডনি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ৬৫ বছর বয়সের পরে খেলে সম্ভাবনাগুলো বাড়তে পারে। এছাড়া আলসার বা রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এতে পেপটিক আলসারের রক্তপাতের ঝুঁকি ২৪-৩৬% বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে প্যারাসিটামল খেতে লাগলে ঘন হলুদ রঙের প্রস্রাব, হলুদ চোখ, তলপেটে তীব্র যন্ত্রণা, লিভার খারাপ হওয়ার উপসর্গ হতে পারে। বেশীদিন খেলে রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে। শরীরের ভিতরে পর্যাপ্ত মাত্রায় অক্সিজেন চলাচল কমতে থাকে। শরীর তাই ক্লান্ত থাকে। প্যারাসিটামল অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে হেপাটাইটিস, সিরোসিস এবং ক্যানসারও হতে পারে। শিশুদের প্যারাসিটামল দেওয়ার আগে আরো সতর্ক থাকতে হবে। তাকে সঠিক ডোজ দিতে হবে। বেশী দেওয়া চলবে না। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ একান্ত জরুরী। বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার আগে বা পরে প্যারাসিটামল না দেওয়াই ভাল। প্যারাসিটামল খাওয়ার পর যদি কোন জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে ১৬ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে হবে। সব রোগের জন্য এবং সব রুগীর জন্য প্যারাসিটামল নয়। এটা গ্রহণের পূর্বে চিকিৎসকের নির্দেশ নিন। মনে রাখতে হবে, জ্বর কোন রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। তাই মাত্রা ১০১ ডিগ্রি না ছাড়ালে প্যারাসিটামল খাবেন না।
বেশী করে জল খেলে সুফল মেলে। জ্বর হলে ডিহাইড্রেশন সমস্যা দেখা দেয়। তাই যেকোন তরল যেমন-জল, স্যুপ, জুস বেশী পরিমাণে খান। মনে রাখবেন, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন ডায়াবেটিস বা কিডনির অসুখ আছে, তাদের জ্বর একটু কমলেও বিশ্রাম নিতে হবে। প্রতিরোধ শক্তি বাড়াবার ব্যবস্থা নিতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্যারাসিটামল অ্যালার্জির সমস্যা বাড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যারাসিটামল এমনিতে নিরাপদ ওষুধ। চিকিৎসকের পরামর্শমতো খেলেই মিলবে উপকার।
0 Comments.