- 89
- 0
উল্টো খেলা
বিডিও-র অফিসে আজ লখাই নিজে দেখা করতে এসেছে এমএলএ-র সুপারিশ নিয়ে।
"স্যার, এবারের নতুন সিডিপিও অফিসার একটার পর একটা কেস ধরছে! বয়স কম, টগবগে রক্ত! এখানকার অঙ্গনবাড়ির সুপারভাইজারকে তো নজরবন্দী করে রেখেছে!"
বিডিও মিস্টার গড়াই লখাই এর কথা শুনে ফাইল দেখতে দেখতে একবার ভুরু তুলে লখাইকে দেখে মৃদু হেসে বলেন,
"তাহলে তোরা কিছুই করতে পারছিস না! আমায় হ্যান্ডেল করতে হবে?"
লখাই হাতজোড়-এর ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে। মিস্টার গড়াই জয়েন্ট বিডিও থেকে প্রমোশনে বিডিও হয়েছেন। তাঁর অবসর নিতে আর পাঁচ বছর বাকী, স্থূল শরীর, হাইপ্রেসার। লখাই এর মতো মস্তান জীবনে কম দেখেননি! মিস্টার গড়াই লক্ষ্য করেন লখাই-এর কপালের কাটা দাগটা যায়নি। গত মাসে কালীপুজোর চাঁদা তুলতে গিয়ে মারামারির ফল!
"আর একবার চেষ্টা কর। এবার পারলে একটু ইনজুরির কেস দে, কদিন হাসপাতালে থাকবে!"
লখাই দাঁত বের করে হেসে বিদায় নেয়। তাঁবেদারিতে লখাই এর জুড়ি মেলা ভার!
পরদিন নতুন সিডিপিও আনন্দ ব্যানার্জী সোজা বিডিও-র অফিসে এসে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন," ভাগ্যিস লোকাল মস্তানরা আমায় চিনতো না, নিজের অফিসঘর থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামছিলাম, আমায় ছোকরা ভেবে তাকায়নি! পাশ দিয়ে আমাকেই মারবে বলে ওরা ক্রিকেটের ব্যাট নিয়ে উঠছিল। সব কটাকে দেখে রেখেছি। থানায় কমপ্লেনও লিখিয়ে এলাম।"
মিস্টার গড়াই বোঝেন খেলাটা অনেক দূর গড়াবে!
আনন্দ ব্যানার্জী উল্টো খেলা খেলতে জানেন! নিজের দুমুখো সাপের চরিত্রটা যাতে ধরা পড়ে না যায় তাই গম্ভীর মুখে বলেন," ভালোই করেছেন। সত্যি ওরা খুব বেড়েছে!"
0 Comments.