- 15
- 0
অভ্যেস
কেমন আছ, সোমলতা?
চিনতে পারছ তোমার এক সময়ের অভ্যেসকে?
নাকি সবটাই মুছে ফেলেছ সুবর্ণরেখার চরে!
তবে জানি, চিনবে ঠিকই, এত যুগের অভ্যেস যে!
যতটুকু তোমায় চিনেছি, জেনেছি, বুঝেছি
ভুলে যাওয়ার বদরোগ তোমার নেই,
আছে শুধু ভালো হওয়ার আকাঙ্ক্ষা,
সে আকাঙ্ক্ষায় জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়
কতশত অভ্যেস, আমিও বইকী!
হয়তো বা বিদুষীরা এমনই হয়,
ছাড়তে জানে, সে অভ্যেসই হোক বা
একটা গোটা রক্তমাংসের আবেগ।
মাঝে শুধু রয়ে যায় কিছু স্মৃতির নুড়িপাথর,
চোদ্দতলার আড়মোড়া ভাঙা ভোরের উষ্ণতা,
অথবা কাঞ্চনজঙ্ঘায় অজ্ঞাতবাসের মাদকতা।
আর রয়ে যায় শুধু এক সমুদ্দুর অপ্রকাশিত কথা,
অনুভূতির মাতৃজঠরে জন্মলগ্নের অপেক্ষারত,
ওঁরা মারা গেছে;
অতর্কিতে, অলক্ষ্যে, অগোচরে, অজান্তেই,
ঠিক যেমন শতসহস্র মানব ভ্রুণ বিনষ্ট হয়
প্রতিদিন এই সমাজে ভালো থাকার শর্ত হিসেবে,
ঠিক সেভাবেই হারিয়ে গেছে চিরতরে, তোমার
অভিমানের বিজয়োৎসবে পণ হিসেবে।
মৃত্যু আজকাল বড় ভাবায়,
নিঃসঙ্গ রাতে আকাশের কালো পর্দাটা ছিঁড়েখুড়ে
তারাদের বুকে মুখ গুঁজে ভাবতে শেখায়,
জীবনের নাও বাইতে শুধুই একটা মাঝি চাই,
যার সাথে আবেগী একটা সমীকরণ থাকবে,
যে সমীকরণের দু প্রান্তেই আকুলতা থাকবে,
হারানোর ভয় থাকবে, থাকবে উন্মাদনা।
আর তোমার আমার মাঝে তো শুধুই অসমীকরণ,
নিত্যকার অভ্যেস কল্পনার ফানুস হয়ে উড়েছে,
তবু ভালোবাসার আকাশ ছুঁতে পারেনি,
ওপ্রান্তে, ভালোবাসার আকাশ ছাড়িয়ে
তুমি রয়ে গিয়েছিলে ভক্তের আরাধ্যা হয়েই।
এ জন্মে আজ বেলাশেষে অস্তরাগের ছোঁয়া,
তুমিও তো এক পরাজিত বন্দি সৈনিকমাত্র,
অভ্যেস ছেড়ে নোঙর বেঁধেছ পিছুটানের বন্দরে।
তবু শতছিন্ন এ জীবন আমায় আজও স্বপ্ন দেখায়,
একটা পরজন্মের স্বপ্ন,
একটা সমীকরণের স্বপ্ন,
যে সমীকরণে ধ্রূবক হবে ভালোবাসা,
আর সেই ধ্রুবককে ঘিরেই আবর্তিত হবে
এক সোমলতা ও তাঁর লেখকের কাহিনি।
0 Comments.