- 139
- 0
বর্ষশেষ
আচ্ছা, এই যে চৈত্রশেষের ধুলোটে বাওরা বাতাসে ভর করে চিরজন্মের মতো চলে যাচ্ছে পুরোনো বছরটা, সত্যিই কি ওর যাওয়ার বয়স হয়েছিল?
কবরের মাটিও নসিব হলো না ওর, আপনজনের হাতের চিতার আগুনটুকুও না -- অথচ বিনা অভিমানে, বিনা আড়ম্বরে কেমন চলে গেল না ফেরার দেশে! কই, ততটা জীর্ণ, মলিনও তো হয়নি বেচারা।
অথচ নতুন লাল সালুর হালখাতা, কুলুঙ্গির লক্ষ্মী গণেশ, পিতপিতে কাগজের সাদাকালো বাংলা ক্যালেণ্ডার, বইপাড়ার ডাবের জলের আপ্যায়ন, পাড়ার দোকানে দোকানে অম্বুলে নিমকি আর সস্তা ছানার সন্দেশের চৌকো প্যাকেট -- কেউই তো ওকে বলল না, অভিমানে চলে যেও না --
অবিশ্যি বললেই বা কি? পুরোনো বছর ঠিক মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলে যেত --
যেতে দাও, আমায় ডেকো না --
মায়েদের নীলষষ্ঠীর মঙ্গলকামনা, চড়কের পুজো, শিবের গাজন, গম্ভীরার সং সব হেলায় পেরিয়ে, আমাকে কাঁদিয়ে ঐ যে চলে যাচ্ছে সর্বনাশী চৈত্র -- পুরোনো বছরের কোলমোছা মাসটি।
গেরুয়া ছোপানো বসনখানি পরে একতারাটি মাথার উপর তুলে বৈরাগী বৈশাখ এসে গেল। সবাই খুশিতে আত্মহারা। পূর্ণপাত্রে, নতুন কাপড়ে, আমপল্লবে, হলুদে-সিঁদুরে, আশায় আহ্লাদে, বচ্ছরকার নেমন্তন্নে তাকে বরণ করে নেওয়ার পালা সকলের।
এই উদযাপনের মাঝে কে আমি এক উদাসী চৈত্রজাতক, যে পুরোনো সালটির মায়ায় অশ্রুমতী হয়ে বাসন্তী পিউ কহাঁর মতো হেঁকে হেঁকে বলে যাই -- যেতে নাহি দিব?
আমি জানি,
'হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।
চলিতেছে এমনি অনাদি কাল হতে।
প্রলয়সমুদ্রবাহী সৃজনের স্রোতে
প্রসারিত-ব্যগ্র-বাহু-জ্বলন্ত-আঁখিতে
'দিব না দিব না যেতে ডাকিতে ডাকিতে
হু হু করে তীব্রবেগে চলে যায় সবে
পূর্ণ করি বিশ্বতট আর্ত কলরবে"
0 Comments.