- 22
- 0
জাপানি বন্ধু
পরিযায়ী পাখি দেখব বলে গেলাম সাঁতরাগাছি। কোথায় পরিযায়ী পাখি! পরিযায়ী পাখির বদলে পরিযায়ী শ্রমিক। কেরানির চাকরি করলে প্রবাসী সন্তান। নিরাশ হয়ে বসলাম সাতরাগাছি স্টেশন-এর রেল লাইনের ধারে। আমি আর এনাক গল্প করছি
সিগারেট ফুকছি। জাপানি বন্ধু ওকোতাসু তাকিয়ে আছে একটা মালগাড়ির ওয়াগণের দিকে। ওয়াগন থেকে লোহা লক্কর নাম ছিল। আমরা পাশের একটা মাঠে ছেলেমেয়েদের দৌড়ঝাপ দেখতে গেলাম। এক ঘন্টা পরে ফিরে এসে দেখি। কোতাসু
সেই ওয়াগনের দিকে তাকিয়ে আছে। ওয়াগনটি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। আমাদের দেখে, ওকোতাসু চিৎকার করে বলল ওই দেখ, ওয়াগন থেকে যখন লোহা লক্কর নামানো হচ্ছে। তখনই ওয়াগনটি সরছে মানে একটা গতি সৃষ্টি হচ্ছে। ঠিক তখনই একটা বেলুনওয়ালা যাচ্ছিল। একটা বেলুন কিনে আমাদের বলল এই দেখ, বেলুনের মুখ খুলে দিচ্ছি। আমরা দেখলাম বেলুনের মুখ খুলে দেওয়া মাত্র বেলুনটি আওয়াজ করে উপরের দিকে উঠে গেল। ওকতাসু হাসিমুখে বলল দেখলি তো? বেলুনের
মধ্যে যেটুকু হাওয়া - ছিল সে হাওয়া বের হওয়া মাত্র একটা গতির সৃষ্টি হলো। অর্থাৎ কোন কিছু অপসারণ হলে গতির সৃষ্টি হয়। যেমন টি ওয়াগণের ক্ষেত্রে হচ্ছিল। আমরা আশ্চর্য হলাম ও ওকোতাসুর কথা মেনে নিলাম। আমরা রাংটুলদাকে সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিলাম। রাংটুলদা বললেন কিছু মনে করো না। সব রকেটই এই ফর্মুলায় হয় । আমি ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব। ঠিক করেছি একটা রকেট তৈরি করব। সেই রকেট যাবে মেগালান্ডি ব্রহ্মাণ্ডে। পৃথিবী থেকে পঁচিশ হাজার আলোকবর্ষ দূরে। উদ্দেশ্য মহাশক্তি ভারতবর্ষে আনা। ওই মহাশক্তি হবে পেট্রলের বিকল্প ।
0 Comments.