Thu 17 September 2026
Cluster Coding Blog

ক্যাফে ধারাবাহিকে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব - ১১)

maro news
ক্যাফে ধারাবাহিকে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব - ১১)

ঝিঁ ঝিঁ পোকার আলো

১৫

ছোটো থেকেই আমার পিসির বাড়ি শ্রীরামপুর, রাউন্দি গেলেই একবার অট্টহাস ঘুরে আসতাম।আজ থেকে তিরিশ বছর আগে সেখানে পঞ্চমুন্ডির আসন মাটির বেদি ছিল আর ছিল মনোহরা সবুজ প্রকৃতি।সনৎ বাবা,অরুণবাবা,সোনামহারাজ পেরিয়ে আজকের মহারাজ বললেন,এখন সতীপীঠের উন্নতি হয়েছে খুব।ঘুরে দেখলাম বৃহৎ শিবের মূর্তি,মনি্দির,অতিথি নিবাস ও নানারকম পরিযায়ী পাখি।সাধুবাবা বললেন,সত্য যুগে দক্ষ যজ্ঞে সতী শিবনিন্দা সহ্য করতে না পেরে দেহত‍্যাগ করেন। এর পর মহাদেব বীরভদ্রকে পাঠান দক্ষকে বধ করতে।সতীর দেহ নিয়ে তিনি শুরু করেন তাণ্ডবনৃত্য ।ফলে বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ বিভিন্ন ভাগে খণ্ডিত করেন। এই অংশ গুলো যেখানে পরেছে সেখানে শক্তিপীঠ স্থাপিত হয়েছে ।এগুলোকে সতীপীঠ বলে । এগুলি তীর্থে পরিণত হয়েছে। এখানে দেবীর অধঃ ওষ্ঠ, অধর / নিচের ঠোঁট,পতিত হয়।এরজন্য এই সতীপীঠের নাম অট্টহাস সতীপীঠ।

অট্টহাস শক্তিপীঠ পশ্চিমবঙ্গ এর বর্ধমান জেলার নিরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ ডিহি গ্রামে অবস্থিত।এর উত্তরে ঈশাণী নদী ও কিছুটা দূরে শ্মশান ।এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পীঠ।মন্দিরের কাছেই কিছু পিকনিক স্পট ।জঙ্গলঘেরা নিরিবিলি পরিবেশ এখানে।এখানে গাছে গাছে বিভিন্ন রঙের প্রজাপতি, ফড়িং, পাখি দেখা যায়। এখানে রাতের বেলা প‍্যাঁচার ডাক ও প্রহরে প্রহরে শেয়ালের ডাক শোনা যায়। যা এখানকার পরিবেশে আলাদা এক মাত্রা যোগ করে।

এরপর অনেক বছর কেটে যায়।এই স্থান জঙ্গল হয়ে ওঠে।তখন এ স্থানের নাম ছিল খুলারামপুর বা তুলারামপুর।পরবর্তীতে এই গ্রামের নাম দক্ষিণ ডিহি হয়।এই গ্রামে কিছু কৃষক বাস করত।তারা মাঠে চাষবাদ করত। ঈশানি নদীর ধারে অবস্থিত এ স্থান ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। দিনের বেলাতেও ওখানে কেউ যেত না। একদিন কৃষকরা চাষ করতে গিয়ে এক সাধুবাবাকে জঙ্গলে ধ‍্যানমগ্ন দেখতে পায়।তাড়া কৌতূহলী হয়ে দলবদ্ধভাবে তার কাছে যায় ও তাকে প্রণাম করেন।সাধুবাবা এখানে যজ্ঞ করেন।যজ্ঞ শেষে তিনি যজ্ঞস্থানে একটি ত্রিশূল পুঁতে দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যান।চলে যাবার আগে বলেন, এটি একটি সতীপীঠ।

এখানে দেবী ফুল্লরা ও ভৈরব বিশ্বেশ্বরক ।এখানে দেবীর দন্তুরা চামুণ্ডা মূর্তি ।এখানে দেবীকে অধরেশ্বরী নামে পূজা করা হয়।এখানে আছে এক প্রাচীন শিলামূর্তি।মন্দিরের অষ্টধাতুর মূর্তিটি চুরি হয়ে গেছে।

কালমাধব মন্দিরটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের অন্তর্গত অমরকণ্টকে অবস্থিত। সতীপীঠ কালমাধব একান্ন সতীপীঠের একটি অন্যতম পীঠ। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে সতীর বাম নিতম্ব পড়েছিল। এখানে অধিষ্ঠিত দেবী হলেন ভদ্রকালী এবং ভৈরব হলেন অসিতানন্দ। মতান্তরে বলা হয়, কালমাধব সতীপীঠের দেবী কালমাধব এবং ভৈরব এখানে অসিতাঙ্গ নামে পূজিত হন। একান্ন পীঠের মধ্যে কালমাধব সতীপীঠ অন্যান্য পীঠস্থানের তুলনায় অনেক কম পরিচিত। অনেকের মনে এই কালমাধব মন্দিরের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আছে। নবরাত্রির পূজা উপলক্ষে প্রতি বছর এখানে বহু ভক্তের সমাগম ঘটে। বিন্ধ্য এবং সাতপুরা পর্বতের মধ্যে অবস্থিত অমরকণ্টক সাধারণভাবেই একটি দৈবী মাহাত্ম্যপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে সমাদৃত, তার সঙ্গে জড়িত আছে এই শক্তিপীঠের মাহাত্ম্যও।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে মাতা সতী বাবার কাছে স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে নিজের বাপের বাড়িতেই দেহত্যাগ করেছিলেন। মাতা সতীর দেহত্যাগের খবর মহাদেবের কাছে পৌঁছাতেই মহাদেব সেখানে উপস্থিত হন। সতীর মৃতদেহ দেখে ক্রোধে উন্মত্ত মহাদেব এই দেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্য শুরু করেন। মহাদেবের তান্ডব নৃত্যে পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কায় শ্রীবিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দ্বারা মাতা সতীর দেহ একান্নটি খণ্ডে খণ্ডিত করেন। সেই দেহখণ্ডগুলিই যে যে স্থানে পড়েছিল সেখানে একটি করে সতীপীঠ প্রতিষ্ঠা হয়। সেই রকম একটি পীঠ হলো কালমাধব সতীপীঠ। বলা হয় সতীর বাম নিতম্ব পড়ে জন্ম হয়েছে এই কালমাধব সতীপীঠের।

সারা বছর এখানে ভক্তরা আসে।তবে নভেম্বর থেকে মার্চ মাস এ পাঁচ মাস এখানে বহু ভক্তের সমাগম হয়।বহু ভক্তের ইচ্ছাপূরণ হয়েছে এখানে পূজা দিয়ে ।দোলের সময় এখানে বিশাল মেলা বসে। এখানে থাকার জন্য অতিথি নিবাস আছে।মন্দির থেকে ভক্তদের থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

সাঁইথিয়ায় আর এক সতীপীঠ আছে।কথিত আছে এই সতীপীঠে একটি শিয়াল রোজ নিয়ম করে মায়ের পায়ের কাছে অমাবস্যার রাতে বসে থাকত।সকাল হলেই তাকে আর দেখা যেত না।সদাজাগ্রত মায়ের শক্তি আমাদের শক্তি দেয়, তাই তো তিনি শক্তিদায়নী কালিকা,মুণ্ডমালিনী কৃপালিনী তারা।

Admin

Admin

dsaf  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register