- 5
- 0
আমাদের জীবন থেকে জন্মসূত্র পাওয়া সহবত শিক্ষা কোন এক অমূলক কারণে কর্পূরের মত উবে গেছে। নির্লজ্জভাবে সমস্ত সীমা পার করে শালীনতা মুখ থুবড়ে পড়েছে। ক্ষয় হয় নিষ্প্রাণের আর অবক্ষয় হয় মানবিকতার, মনুষ্যত্বের, সমাজের। অবক্ষয় চোখে দেখা যায় না তার কোন বিকট শব্দ হয় না অথচ প্রক্রিয়া চলে নিঃশব্দে- প্রতিফলন সর্বগ্রাসী। ইতিহাস সাক্ষী সাম্রাজ্যের পতন শক্তির প্রয়োগের থেকেও উদ্ধত্যের বার বারন্তে। সময়ের অর্থাৎ মহাকালের রথটার চাকায় ঔদ্ধত্যের বাস। আর সেই ঔদ্ধত্যই তাকে টেনে নিয়ে যায় শ্মশানের নিস্তব্ধতায় শেষের পরিণতিতে। তবু বারবার মানুষ একই ভুল করে। শিক্ষিত- অশিক্ষিত, সাহিত্য অনুরাগী- সাহিত্য বিরাগী কিছুই তফাৎ করা যায় না। বিভাজন রেখাটা স্পষ্ট হওয়া ভীষণ দরকার নতুবা মহাকালের রথ আর ঔদ্ধত্যের চাকা আবার সক্রিয় হবে।
কারণ সভ্যতার পতন কখনও আকস্মিকভাবে আসে না; তার সূচনা হয় মানুষের অন্তর্গত অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে। যখন ভাষা থেকে সৌজন্য হারিয়ে যায়, আচরণ থেকে মমত্ববোধ মুছে যেতে থাকে, তখন সমাজ ধীরে ধীরে নিজের ভিতটাই ভেঙে ফেলে। মানুষ তখন আর মানুষকে সম্মান করতে শেখে না, কেবল প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে শেখে। ভদ্রতা দুর্বলতা বলে বিবেচিত হয়, সংযমকে বলা হয় ভীরুতা, আর ঔদ্ধত্যকে মনে করা হয় আত্মপ্রতিষ্ঠার চিহ্ন।
এই সময়টাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ তখন ধ্বংসের শব্দ শোনা যায় না, অথচ ভিতরে ভিতরে সমস্ত মূল্যবোধ ক্ষয়ে যেতে থাকে। মহাকালের বিচার খুব ধীর, কিন্তু অত্যন্ত নির্মম। সে কখনও কারও অহংকারকে চিরস্থায়ী হতে দেয় না। ইতিহাসের প্রতিটি ধ্বংসস্তূপ যেন সেই একই সতর্কবার্তা বহন করে—মানুষ যখন নিজের সীমা ভুলে যায়, তখন পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
আজ তাই প্রয়োজন আত্মসমালোচনার, প্রয়োজন আবার শালীনতার কাছে ফিরে যাওয়ার। মানুষকে আবার মনে করতে হবে, শিক্ষার প্রকৃত অর্থ কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, বরং বিনয় অর্জন। কারণ মনুষ্যত্ব হারিয়ে গেলে সভ্যতার সমস্ত অর্জনই একদিন অর্থহীন হয়ে পড়ে। আর তখন কালের রথ আবারও এগিয়ে চলে, পিছনে ফেলে যায় শুধু ধ্বংসের দীর্ঘশ্বাস আর নীরব শ্মশানের স্তব্ধতা।
*অনেক দিল বাদে আবার আপনাদের সাহিত্য কাঞ্চন ফিরে এলো। প্রচুর লেখা আসছে। ধারাবাহিও নিয়মিত প্রকাশিত হবে। একটি সোমবার প্রকাশিত না হয়ে হতাশ হবেন না। পরের সোমবারই হয়ত প্রকাশিত হতে চলেছে।
সকলে ভালো থাকভেন। লিখতে দিতে থাকুন। পড়তে থাকুন।
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
0 Comments.