- 5
- 0
মমতাময়ী
মুসকান ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়তে চায়,ওর বাবা চায় ইঞ্জিনিয়ারিং। মা এর পছন্দ দিদিমনি।
তবু মেয়ের পছন্দকেই প্রাধান্য দিয়ে মেয়েকে বিভিন্ন আঁকার সরঞ্জাম, কাটার, নানারকম কাঁচি,আরো কত কি কিনে দেয়।মুসকান ঘরময় কাটা কাগজ এর টুকরো ছড়িয়ে রাখে,নানারকম ডিজাইন দেখে মমতা দেবী খুব ইম্প্রেসড।
হায়ার সেকেন্ডারি শেষ করার পর বাবার অমতে ফ্যাশান ডিজাইনিং পড়েতে চলে গেল দিল্লি।
সেখানে হোস্টেলে রেখে,মা ফিরে আসে।
মুসকানের মা আর বাবা অনেকদিন হোল সেপারেশনে,থাকে,তবে ডিভোর্সি নয়!
যাবতীয় পড়ার খরচা মমতা দেবীর ভাশুর বহন করেন,উনি মুসকান কে খুব ভালো বাসেন।
মুসকান খুব আদরের, হয়ত তাই একটু বায়নাক্কা বেশি!
মুসকান বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে লেটেস্ট ডিজাইনের ড্রেস কিনতে ভালোবাসে,সেই ড্রেসে নিজেই আবার ডিজাইন করে।যাকে বলে খোদার ওপর খোদকারি!
প্রথম সেমিস্টার শেষ হলে বাড়ি ফিরে আসে।বেশ কিছুদিন ছুটি পাওয়া গেছে,অনেক কাটিং গ্রাফটিং করা যাবে। (মনে মনে ভাবে)
একদিন রাত্রে মুসকান অন্ধকার ঘরে চুপ করে ব'সে, মমতা জিজ্ঞেস করতেই মুসকান কান্নায় ভেঙে পড়ে।
মমতা মুসকান কে অনেক বুঝিয়ে ওর বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়,বলে আমি ফোনে যোগাযোগ রাখব,তুই নিশ্চিন্ত থাক,এর একটা বিহিত করে তবেই আমি ফিরব।কেউ যেন কিচ্ছু টের না পায়!
মুসকান কে নতুন মোবাইল কিনে দেয়,আর মুসকানের পুরোনো মোবাইল,নিজের কাছে রাখে।
সোমনাথ ঝা ফ্যাশান ডিজাইনিংএর থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট। হঠাৎ পুলিশে ধরে নিয়ে যায়।
ওর অপরাধ প্রমানিত!
মমতা আবার মেয়ে কে নিজের কাছে নিয়ে আসে,এক বছর লস করে বাড়ির কাছেই এক কলেজে ভর্তি করে দেয়।
মুসকান ভাবতেও পারেনি ওর মা ওকে সুবিচার পাইয়ে দেবে।
সেই রাত্রে মুসকান ওর স্নানের এম,এম এস দেখে খুব ভেঙে পড়েছিল! নিজেকে ভেবেছিল শেষ করে দেবে।
0 Comments.