Sun 03 May 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ ছোটদের গল্পে চন্দ্রমা মুখার্জী

maro news
হৈচৈ ছোটদের গল্পে চন্দ্রমা মুখার্জী

গণতন্ত্রের উৎসব

      ছোট্ট বন্ধুরা, এখন আমাদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটের মরসুম। চারদিকে শুধু ভোটের প্রচার, আলোচনা এসব চলছে। কিন্তু ভোট কি, তা কি তোমরা জানো? চলো, তোমাদের একটু সহজ কথায় জানিয়ে দি।


          ভারতবর্ষ গণতান্ত্রিক দেশ। গণতন্ত্র মানে জনগণের দেশ, জনগণ মানে আমরা সাধারণ মানুষ। গণতান্ত্রিক দেশে কোন নির্দিষ্ট শাসক থাকে না। রাজতান্ত্রিক দেশে নির্দিষ্ট শাসক থাকে। মানে সে দেশে রাজা আছে। সেখানে রাজার ছেলে রাজা হয়। এখন অবশ্য মেয়ে থাকলে রাণীও হয়। সেই দেশে ভোট হয় না।


          আমাদের দেশে ভোট হয়। আমরা সাধারণ মানুষ ঠিক করি, কে আমাদের দেশের শাসনভার হাতে নেবে। কিন্তু সেটা তো মুখে বললেই হবে না। তার জন্য নির্বাচন করতে হবে। সেই নির্বাচন পদ্ধতিই হল ভোট। কিন্তু এই শাসনভার প্রতি পাঁচবছর অন্তর শেষ হয়ে যায়। তাই প্রতি পাচবছরে ভোট হয়। পাঁচবছর ছাড়া আসে বলে একে মানুষ গণতন্ত্রের উৎসবও বলে।


          আসলে যেকোন উৎসবে আমাদের ছুটি থাকে। ভোট পালনের জন্যও ছুটি থাকে। তাই একে উৎসব বলা হয়। কয়েকজন মানুষ নিজেদের প্রার্থী বলে দাঁড়ায়। এরমধ্যে যে বেশি সংখ্যক ভোট পায়, সেই পাঁচবছরের জন্য শাসনভার পায়।


          ভোট নিয়ে একটা মজার গল্প বলি। তোমরা হয়তো শুনে থাকবে – “No Save November”। নভেম্বর মাস পড়লেই অনেক ছেলেরা দাড়ি কাটে না, মুখভর্তি দাড়ি-গোঁফ নিয়ে ঘোরে। কেন জানো? আমেরিকায় নভেম্বর মাসে ভোট হয়। আর ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যায় আঠেরো বছর হলে। তাই নিজেদের ভোটদানের যোগ্য প্রমাণ করতে আমেরিকায় আঠেরো বছর ও তার চেয়ে বড় ছেলেরা নভেম্বরে দাড়ি কাটে না। এর থেকেই “No Save November” প্রবাদটি এসেছে।


          গোড়ায় ভোটাধিকার শুধু ছেলেদের ছিল, মেয়েদের ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে মেয়েরা সেই অধিকার লাভ করে। সেও অনেক গল্প আছে। আরেকদিন শোনাবো। এখন চলো, আমরা এবছরের গণতন্ত্রের উৎসব সুষ্ঠুভাবে পালন করি।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register