Sun 03 May 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ ছোটদের গল্পে সুদীপ ঘোষাল

maro news
হৈচৈ ছোটদের গল্পে সুদীপ ঘোষাল

পাহাড়চুড়োয় পাঁচমূর্তি


আমরা চারজন গ্রামের ছেলে আর একজন মেয়ে একসঙ্গে থাকি প্রত্যন্ত গ্রামে।তবুও আমরা বছরে একবার করে বেড়াতে যাই। এবার আমরা ঠিক করলাম পাহাড় দেখব ।


এক মাস ধরে সব তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। টাকা পয়সা জোগাড়, লাগেজ সমস্ত কিছু জোগাড় করে ফেললাম। আগে থেকেই টিকিট বুক করে ফেললাম। একদম রিটার্ন টিকিট তারপর শুরু করলাম যাত্রা।

প্রথমে গ্রাম থেকে এলাম কাটোয়া। তারপর কাটোয়া থেকে কলকাতা। কলকাতা থেকে চলে এলাম সোজা দার্জিলিং। নিউ জলপাগুড়ি স্টশনে বসেছিলাম অনেকক্ষণ। 


দার্জিলিং এসে সেরপা ভাইদের সাহায্য ছাড়া এক পাও এগুলো উচিত নয়। পাহাড়ে লাফা জোঁক কোথায় আছে ওরা ঠিন জানে। ভুল করে ওদের আস্তানায় গেলে হাজার হাজার জোঁক রক্ত চুষে মেরে দেবে। 

শেরপাদের সমস্ত কিছুই জানা। তাই তাদের একজনকে সঙ্গে নিলাম।


শেরপার নাম ছিল শের বাহাদুর। শেরপাকে নিয়ে আমরা চড়ে বসলাম জীপে। কচুরি, পুরি, আর চাটনি, সিরি ভাজা দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে নিলাম।


সে আমাদের প্রথমে লাফিং বুদ্ধের মন্দিরে নিয়ে গেল। সেখানে আমরা হাসির মাধ্যমে লাফিং বুদ্ধের পূজো করলাম এবং সমস্ত মঙ্গল কামনা করলাম। শের বাহাদুর বলল এই মন্দিরে পুজোর ফুল হচ্ছে হাসি। এখানে যত হাসতে পারবেন ততো আপনার সাফল্য সামনে এগিয়ে আসবে। আমাদের খুব ভালো লাগলো এক মহিলা পুরোহিতের সঙ্গে পরিচিত হয়ে।

 খুব ভালো লাগলো কারণ তিনি আমাদের সারা জীবনে দুঃখ কষ্ট মধ্যেও কি করে হাসতে হয় তা শেখালেন।


এরপর শের বাহাদুর কে বললাম আমরা পাহাড়ে উঠতে চাই চলো আমরা পাহাড় দেখব।


এ্যাডভাঞ্চারের পালা এবার।


শের বাহাদুর আমাদের পোশাক সম্বন্ধে যা বলেছিল ফোনে, তাই আমরা সঙ্গে নিয়ে এসেছি অতএব অসুবিধা কোন নেই এখন শুধু অপেক্ষা।শের বাহাদুরের সঙ্গে মোবাইলে আমাদের কথা হত। বিরাজুলের মামার বন্ধু এই শেরপা। 


সাধারণ ট্রাকিংকরে উপরে চললাম।


 এক জায়গায় দড়ি লাগানো হয়েছে।


  সেই দড়ি পেঁচিয়ে উঠে এলাম।


 সেই খাড়া পাথরের দেয়ালে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পার হলাম পাথর এলাকা।


আমরা ছয়জন। শের বাহাদুর, আমি, রমেন বিশু, বিরাজুল আর মণি।


এবার পড়ে নিলাম মাউন্টেনিয়ারিং জুতা।


নিচে লাগিয়ে নিলাম স্টিলের কাঁটা ক্যাম্পান।

এখান থেকে একরাম শু পড়ে চলতে হবে বলে এই জায়গার নাম ক্রাম্পন পয়েন্ট। উঠে এলাম এই পথেই উঠে যেতে হবে আগেই দড়ি লাগানো হয়েছে।

 শের বাহাদুর বলল, আপনারা ভয় করবেন না এখানে ফাটল আছে। তুষারে স্লিপ কেটে পড়ে যাওয়া ভয় আছে। আপনারা নিশ্চয়ই এর আগেও উঠেছেন। সেইজন্য অভিজ্ঞতা আছে। আপনারা সাবধানে আমার সঙ্গে সঙ্গে আসুন। সের বাহাদুর সামনে চলল পিছনে আমরা চারজন সের বাহাদুরের সাহস দেখে আমরা অবাক হলাম।


শের বাহাদুর বারবার সাহস দিচ্ছেন, চালিয়ে চালিয়ে কুচ ডর নেহি হাম হে আপকে সাথ।


একটানা চলা আমাদের বিরক্ত লাগছে তবু তার মধ্যে আনন্দ আছে খিদেও পেয়েছে খুব শের বাহাদুর তবু বলছে এখন না চলুন আমাদের এখনো অনেকটা হেঁটে যেতে হবে।

এখনো অনেকটা পথ আমাদের বাকি আছে।


আমাদের মধ্যে মেয়েদের মধ্যে আছে মনি।

 মনির যেমন সহজ তেমনি তার সক্ষমতা। সাঁতার ক্যারাটে কুংফু কিছুতেই তাকে হার মানানো যায় না। সে খুব সহজ সরল এবং চালাক মেয়ে। দেখতে কালো হলেও তার অন্তর খুব ভালো। পাহাড়ে চড়তে গাছে উঠতে সাঁতার কাটতে তার কোন ভয় লাগে না ছোট থেকেই ।


চলে এলাম গণ্ডকী নদী পাড়ে ছোট গ্রামে।

 প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে আমরা সবাই শুয়ে পড়লাম। শের বাহাদুর বললেন তুমলোগ রেস্তোরাঁ কা খাবার খাতে হো। আভি গাঁওকা খানা চাখ লো। হম ইন্ততেজাম করকে লে আতা হুঁ।  


রমেন বলল আমরা গ্রামেরই ছেলে আমরা রেস্তারা খাবার খাইনা। গ্রামের খাবারই খাই। তুমি গ্রামের খাবারই নিয়ে এসো আমাদের ভালো লাগবে।


পাহাড়ে ওঠার শখ আমাদের পূর্ণ হল।

 এখন গ্রাম দেখার পালা।


আজকে আর গ্রাম দেখতে পারবোনা। খেয়েদেয়ে রাত্রে শুয়ে পড়লাম।

শের বাহাদুর শোয়ার ব্যবস্থা করল। একটা ঘর ভাড়া করে দিল। সেই সব কিছু ব্যবস্থা করল।


তারপর সকাল বেলা প্রাতরাশ সেরে আমরা শুরু করলাম গ্রাম ঘুরতে। দুই পাশে খাড়া পাহাড়ের ঢাল। মাঝে মাঝে মেঘের চাদর ভেদ করে এগিয়ে চলেছি। টপকে যাচ্ছে একের পর এক ছোট বড় ঢাল।

উচ্চতা বাড়ছে। বরফে কানে তালা লেগে যাচ্ছে। গাছপালা কমে আসছে। গণ্ডকী নদী হয়ে পড়ছে পাহাড়ের উপর দিয়ে চোখ পড়ছে বেশ কিছু তুষারাবৃত। এখানে শুধু পাহাড় আর পাহাড় পাহাড়।


এই ভাবেই চারপাশে রূপ দেখতে দেখতে দু'ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম।


শেরপা বলল,ধামাকা ধামাকা ওয়েসিস বয়ে চলেছে নদীর জলে।  

বুঝতে পারলাম না ভাষা।

সেখান থেকে সেখানে আমরা দু-একদিন থাকলাম।এখান থেকে হেঁটে পৌঁছানো যায় তিব্বত সীমান্তে।


 পৌঁছতে পারলে সেখানে বাস এভেলেবেল। বলল শেরপা। কোন অসুবিধা নেই এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বহু বছর এখানে বছর জমজমাট পরিপূর্ণ। পর্যটকরা এখানে এসে এই জায়গা মিস করেন না।


এখানে এলেই মনে পড়ে যায় অতীশ দীপঙ্কর। এরকথা সারা গ্রাম জুড়ে বৌদ্ধমূর্তি আর বুদ্ধের বাণী জীবনচিত্র খোদাই করা।


অসংখ্য ছোট বড় পাথরের ফলক। পরপর সাজিয়ে রাখা তারপর আমরা চলে গেলাম হোটেলে।


 হোটেলে আছে এক চীনা দল। ওরা পাহাড়ে ওঠার জন্য এসেছে। এখন দক্ষিণ-পশ্চিমে থেকে বেসক্যাম্পে উঠে যেতে হয়। অভিযানের পোর্টার ঘোড়া সবই ঠিক করতে হয় এখান থেকে। নিচের কোন বইতে পারবে না এটাই এখনকার নিয়ম। শের বাহাদুর বললেন। 


বিরাজুল খুব সাহসী ছেলে। সে বরাবরই সবাইকে সাহস দেয়। সে বলল আমরা পাহাড়ে উঠে এই গ্রামে এলাম। এই তিব্বত সীমান্তে। আমরা বাস পেয়ে যাব যাওয়ার সময় তোদের চিন্তা নেই। এই বাসে করে আমরা দার্জিলিং যেতে পারবো।


বিশু একটু ভীতু প্রকৃতির তার পেট খারাপ হয়ে গেছে এত পরিশ্রমের পর উল্টোপাল্টা খাবার খেয়েছে। তার ফলে পেট খারাপ হয়েছে সে আজকে হোটেলে বসে থাকল। আমরা চারজনে ঘুরতে বেরোলাম।শের বাহাদুর বিশুকে ঘোড়ায় চাপালো। 


সেরপা, পাশের বাহাদুরকে অনেকেই চেনে এখানে তারা সবাই জিজ্ঞেস করছে। তার ভালো-মন্দ আমাদের কথা। ওরা জিজ্ঞেস করছে। আমরা বললাম আমরা গ্রাম থেকে এসেছি সেটাও সেইটা হিন্দিতে তাদের বুঝিয়ে বলে দিলো।


আমি জিজ্ঞেস করলাম এটা তো গ্রাম তাও জিনিসপত্রের এত দাম কেন?

 সেরপা বলল এটাই তোদের লাভ।

 এই সিজনে ওরা যে জিনিসের দাম পাঁচ টাকা আসে তাকে দশ টাকা বলে থাকে। দ্বিগুণ লাভ করে থাকে।


ভূমি তল থেকে এখানকার উচ্চতা সাড়ে 4 হাজার মিটার। পুরো পথটাই আমরা কিন্তু হেঁটে এসেছি।মানে সাড়ে চার কিলোমিটার পথ।সমতলে এটা কোন ব্যাপার নয়। কিন্তু পাহাড়ে ভীষণ কঠিন। শেরপা বলল, বাহাদুর তুমলোগ। ইসিলিয়ে তুমলোগ সফল হো গয়া। 


গ্রামজুড়ে গাছ।


 গ্রাম থেকে অদূরে আমাদের একটা শহর আছে সেই কাটোয়া শহরে আমরা পাহাড়ে ওঠার ট্রেনিং নিয়েছিলাম তার ফলে আমরা এতটা পথ এইভাবে আসতে পেরেছি ।বিশু বলল। তখন সে সুস্থ হয়েছে। 


সেটাও আমাদের সবাইকে শাবাসি দিয়ে বলল তুমলুক বাহাদুর লারকা হো।ইতনা দূর 26 ফুট মে কোই পাত্থার সে না নেহি সাক্তা।শুধু বড় বড় পাথর। স্লিপ করলেই পপাত ধরণীতলে। 


আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা খোলার সাথেই চমকে গেলাম।


 চোখ মেলেই সুন্দরীর দেখা। ভোরের সোনালী আলোয় রাঙ্গা পাহাড়।


এখান থেকে পাহাড়ে দুটো শৃঙ্গ দেখা যায়। পিছনের টা মেন পাহাড়। আর সামনেরটা ইস্ট। অল্প পরেই চলে এলো পরোটার সঙ্গে মাংস। ইরাক ঘোড়া ও ওরা আমাদের মালপত্র বেসক্যাম্পে পৌঁছে দেবে বলে মালপত্র একজন করে ওদের বুঝিয়ে দিলাম।


8 টায় রওনা শুরু হল আমাদের প্রকৃত পশ্চিম পাশ দিয়ে পথ। খাড়াই পাহাড়ের পথ।


বিরাজুল ম্যাপ বের করে সবকিছু মিলিয়ে আগেই চলছে।


 মোবাইলে আমি লোকেশন দেখে এগিয়ে চলেছি আর পাথর চেনার ছেড়ে আমরা বাঁদিকে বেসক্যাম্পের পথ ধরলাম।


 এখন চলেছি দক্ষিণ দিক বরাবর।


প্রথমে বেশ বড় বড় গাছের গুঁড়ি দিয়ে চলা মাথা তুলেই সামনে চোখে পড়ছে পাহাড়, বড় গাছ। একসময় পথ শেষ।


এবার ঘাস দিয়ে পথ একটা নামতে চলেছি ধীরে ধীরে। চীনারা চালাও চলেছে আশেপাশে। নিজেদের মধ্যে বেশ মজা করতে করতে চলেছে চওড়া পথে।


সাড়ে দশটা নাগাদ আমাদের লাগানো এক বড় গ্রামের কাছে পৌছালাম। 


পথের মাঝে বিশ্রামের জায়গা।


 পৌঁছানো মাত্রই দিল দোকানে দিল আলু সেদ্ধ আর আখের রস।


 আলু নিয়ে ফটো সেশন শুরু করে দিলো অনেকে। 

অল্প বিশ্রাম নিয়ে ফের ছুটে চলেছি গাছের ডালের মাঝ দিয়ে একটানা।


নিচ থেকে হালকা মেঘ।


এবার শুরু হল তুষারপাত।


ঝমঝমিয়ে পড়ছে মাথার উপর।


 বিরাজুল বলল আমাদের আর এগুলো ঠিক নয়।

এবার আমরা ফিরবো।


 শের বাহাদুর বলল কেন আবার আরেকটু এগিয়ে যাবে না।


আমরা বললাম না আর যাব না এত বিপদের ঝুঁকি নেওয়া উচিত হবে না।



তারপর আমাদের ফেরার পালা শুরু হল।


মাঝে মাঝে বরফ পড়ছে।

 ডানদিকের ঢাল থেকে নেমে আসে জলধারা। কোনটা ছোট পাথরে পাথরে পা দিয়ে খুব সহজেই যাচ্ছি।


কোন টা বেশ বড় পাথর। 


অনেক কসরত করে পার হতে হতে যাচ্ছি।


 ধীরে ধীরে ঘাসের পথ শেষ হয়ে গেল।


 তারপর বালি মাটি কাঁকুড়ের পাথরে মাঝ দিয়ে চলে এলাম।


তারপর স্থলভাগ।সমতল। 


ক্রমশ চারপাশ আরো মেঘলা হয়ে এলো বেলা দুটো নাগাদ উঠে এলাকায় মনি বলল, আমরা পাহাড় দেখলাম। আমাদের অভিযান খুব ভালো হলো।


তোমাদের সঙ্গে এসে তাই আমার খুব ভালো লাগে সেখানেই শেরপার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল এক পরিচিত আর একসাথে দেখে আমাদের চা বাড়িয়ে দিলো আমরা চাও জলখাবার খেয়ে বেশ মনোবল ফিরে পেলাম আমাদের লাগানো হয়েছে অপরদিকে টুপটাপ বৃষ্টির মধ্যে উঠে এলাম আমাদের এলাকায়।


এখন আমরা সুন্দর আবহাওয়ায় সুন্দর হওয়ার অপেক্ষায় আছি।


 পরদিন সকালে নদীর ধার বরাবর বেড়াতে গেলাম।


সেখানে নদীর জলে পা দিলে জল বরফ হয়ে জমে গেছে।


 এত ঠান্ডা নদীর জলে ভরা ঠান্ডা আরো বেড়ে গেছে। 


মনি বললো, বিরাজুলকে তুই এই ঠান্ডা জলে যদি চান করতে পারিস 500 টাকা দেব। বিরাজুল রাজি হয়ে গেল।


আমরা বারণ করা সত্ত্বেও সে পোশাক খুলে নিজে চান করার পোশাক পরে নেমে পড়লো জলে। সেই ঠান্ডা জলে চান করে সে মনিকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিল।

 মনি 500 টাকা বের করে দিল।


কিন্তু বিরাজুল 500 টাকা আমাদের পিছনে খরচ করল। আমাদের সন্ধ্যেবেলা মাংস ভাত খাইয়ে দিল।


তারপরের দিন দুপুরে পোশাপাখিরের গ্রামে ধীরে বৃষ্টি কমে এলো।


বিকেলে চারপাশ একদম পরিষ্কার হয়ে গেল আমাদের শের বাহাদুর বলল, লোকাল গরমের হামলায় গত দুদিন প্রচুর গরম পড়েছে।

সে তো ভালো বাংলা বলতে পারে না। ভুং ভাং বলে। 


 তাই এখন ভয়ঙ্কর তুষারধসের ভয় আছে এখানে।প্রচুর লোক মরে যায়। 


 আশেপাশে বিরাজুলের পাশেই একটা তুষার ধ্বস পড়ল। যে কোন সময় বিপদের আশঙ্কা।


সকাল থেকেই মেঘের চাদরে ঢাকা আবহাওয়া ভালো হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু আবার চারপাশ পরিষ্কার না হয়ে মেঘলা হয়ে গেল। মেঘলা আবার মধ্যে 09:45 রওনা দিলাম।

একের পর এক বরফের ঢাল নামে।


একটা নামাল উঠে যাওয়া।


এই ভাবে উত্তরে তো আমরা অনেক উঁচুতে উঠে পড়লাম।

সেখানে কিন্তু নতুন সমস্যা দেখা দিল।

 ঝড় বইছে আমরা তাঁবুগুলো জড়িয়ে ধরে থাকলাম।


 কিন্তু বিপদের আশঙ্কায় আমাদের গা কাঁটা দিয়ে উঠলো।


এবার আমরা তিব্বত সীমান্তে নেমে এসে বাইরে থেকে দার্জিলিং যাওয়ার বাস ধরলাম। পাহাড়ি বাস একটু অন্যধরনের এদের ছাদ গুলো এত সুন্দর যে ঢালু রাস্তাতেও ব্রেক ট্যাবুলেটর কষে দাঁড়িয়ে পড়ে।


বাসায় আসতে আসতে একটা পাহাড়-জঙ্গল। শের বলল।


সেখানে আমরা দাঁড়িয়ে কেউ যেন চা-বিস্কুট খেলাম কেউ বাথরুমে গেলাম।


কিন্তু সেই সুযোগে উঠে পড়েছে 4 থেকে ৫ জন মুখোশধারী লোক। কারা কারা আমরা বুঝতে পারলাম না। ড্রাইভার ভয়ে মুখ খুলল না। 


কিছুক্ষণ বাস চলার পর মুখোশধারীরা নেপালা ছোরা বের করে বলল যার যার পকেটে টাকা পয়সা আছে দিয়ে দাও।

 আমরা বুঝতে পারলাম এরা ডাকাত।


মনি ভগবান প্রার্থনা করে সপাটে লাথি মারলো একটা ডাকাতের মুখে।সে চিৎ হয়ে পড়ে গেল।সাথে সাথে আমরাও আক্রমণ শুরু করলাম আমাদের হঠাৎ আক্রমণে ওরা ধরাশায়ী হয়ে পড়ল।আমাদের সাহস দেখে ওরা ভড়কে গেল। 

ওরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল।শের বাহাদুর আমাদের বাহবা দিলেন।তিনি মোবাইলে পিকচার তুলে আমাদের বললেন আপনাদের জন্যই এই বাস ভর্তি লোক এরা রক্ষা পেল।

 না হলে ডাকাতের দল আমাদের নিঃস্ব করে দিয়ে পালাতো।


 তারা প্রাণেও মেরে দেয়।


 অনেক সময় টাকাপয়সা পেলেও ছাড়ে না। আপনারা সত্যিই খুব ভালো কাজ করলেন। তারপর মোবাইল থেকে থানার লোকাল থানা য় যোগাযোগ করে তিনি সেই ডাকাত গুলোকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন।


তারপর আমরা নিরাপদে ফিরে এলাম দার্জিলিং। দার্জিলিং থেকে চলে এলাম নিউ জলপাইগুড়ি। আর থামা নয়। এবার ফেরার পালা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চলে এলাম কলকাতা।কলকাতা থেকে কাটোয়া।কাটোয়া থেকে আমাদের গ্রামের বাড়িতেআমরা অনেক আগেই বিদায় দিয়েছি শের বাহাদুরকে। মনে পড়ছে তার মুখখানি।সাহসী লোক কি সুন্দর ব্যবহার। তার ব্যবহারে আমরা মুগ্ধ।তাকে আমরা কোনদিন ভুলতে পারবো না। 

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register