- 11
- 0
ঝড়ের একরাত
অনেক দেরি হয়ে গেছে। এতো বৃষ্টি ঝড়, ট্রেন লেট। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কলকাতা একেবারে তছনছ করেছে। উফ! বিকেলে কি আলো করে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ঝড়, বিদ্যুতের চমকানি। বাপ রে বাপ।
এই সব ভাবতে ভাবতে বত্রিশের অনিতা জোরে জোরে পা চালাচ্ছিল ট্রেন থেকে নেবে। কলকাতার এক সপিং মলে সিকিউরিটি কাজ করে। বাড়িতে বাবা মা ভাই বোন আর দশ বছরের ছেলে শুভ। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। মানুষ করতে হবে, ওর বাবার মতন নয়। মিথ্যা প্রবঞ্চনা করে রাজনৈতিক দলের মস্তান। প্রথমে ছিল ভালই। কিন্তু, আস্তে আস্তে খারাপ পথে চলে গেল।
অন্ধকার রাস্তা, আজ আবার কৌশিকি অমাবস্যা। ঘুট ঘুটে অন্ধকার, জলে ভরে গেছে সব রাস্তা ঘাট, ঝড় এই নৈহাটিতে ও ভালোই হয়েছে। তাড়াতাড়ি চলতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পরে গেল, মোবাইলে টর্চ জ্বলে দেখল, পায়ের নখ উবরে গেছে। রক্ত বের হতে শুরু করেছে। উঠতে গিয়ে পারল না। পায়ে ভালোই লেগেছে, মুচকে ও গেছে। তখন একটা আলতো টোকা পিঠে পরল!
অনিতার সারা ভুবন টলে গেল। কে? পাঁজা কোলা করে রাস্তার পাশে নিয়ে গেল, ওর গলা বুজে গেছে। শক্তি নেই, কিসে সব শুষে নিয়েছে। তারপর একটা বোতল বের হল ব্যাগ থেকে। ওর দিকে এগিয়ে দিল, বলল, নে একটুই আছে খা।
গলার স্বর শুনে ওর ধরে প্রাণ এল। তন্ময়, ওর ছেলেবেলার বন্ধু। একাদশ ক্লাসে ওকে প্রপোজ করেছিল। তখন ও তো প্রেম হাবু ডুবু খাচ্ছে। খুব কষে বক্তৃতা দিয়েছিল। আমি তোকে বন্ধু মনে করি আর তোর মনে এই। যা আমার সামনে কোনো দিন আসবি না। তারপর দেখা হত কথা হত। শুধুই বন্ধুর মতন।
তন্ময় বলল, আরে তুই যে ভাবে ছুটছিলি, পরবি না তো কি হবে। চটি টাও তো ছিঁড়ে গেছে। যাক গে আমার বাইকে উঠে বস, আমি বাড়িতে তোকে নামিয়ে, তারপর বাড়িতে যাবো। মায়ের খুব শরীর খারাপ রে। অনিতা বাইকে উঠে বসে, আলতো করে তন্ময়ের কাঁধে হাত রাখল।
0 Comments.