- 5
- 0
পেকিন এবং সম্রাট
(Der Kaiser von Peking)
মূল রচনা: ফ্রান্ৎস কাফকা
অনুবাদ: স্মার্ত পারিয়াল
এই সব দৃশ্য দেখে যদি কেউ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে বাস্তবে আমাদের কোনো সম্রাট নেই, তবে সে সত্য থেকে খুব বেশি দূরে থাকবে না। এ কথা বারবার বলতেই হয়: আমরা যারা দক্ষিণে থাকি, তারা সম্রাটের প্রতি খুবই অনুগত, এবং আমাদের মতো অনুগত জাতি আর একটিও নেই, কিন্তু আমাদের এই বিশ্বস্ততা সম্রাটের কোনো কাজে লাগে না। এ কথা সত্য যে, আমাদের গ্রামের শেষ প্রান্তে একটি ছোট স্তম্ভের মাথায় পবিত্র ড্রাগন দাঁড়িয়ে আছে, আর মানবস্মৃতির সূচনালগ্ন থেকে সে শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে পেকিনের দিকে তার অগ্নিশ্বাস ছড়িয়ে দিচ্ছে — কিন্তু পেকিন নিজেই আমাদের গ্রামের মানুষের কাছে পরলোকের চেয়েও বেশি অপরিচিত। সত্যিই কি এমন কোনো গ্রাম আছে, যেখানে ঘরবাড়ি পাশাপাশি সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে, ক্ষেত-খামার জুড়ে এতখানি অঞ্চলে বিস্তৃত যা কেবলমাত্র আমাদের পাহাড় থেকে দেখা যায়, আর সেই বাড়িগুলির মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ দিনরাত বসবাস করে, এমন গ্রাম কি সত্যিই আছে? আমাদের কাছে এমন এক নগরী কল্পনা করা বেশ কঠিন, তার চেয়ে এ কথা বিশ্বাস করা অনেক সহজ যে, পেকিন আর তার সম্রাট এক, আমাদের কাছে পেকিন যেন যুগের পর যুগ সূর্যের নীচে শান্তভাবে ভেসে চলা এক মেঘমাত্র।
এই ধরনের মতবিশ্বাসের ফল হল এমন এক জীবন পাওয়া, যা সামগ্রিকভাবে মুক্ত ও অবাধ। অবশ্য একে কোনোভাবেই অনৈতিক বলা যায় না; বরং আমার ভ্রমণে খুব কম জায়গাতেই আমি আমার গ্রামের মতো নির্মল নৈতিকতা দেখেছি। তবু এটি এমন এক জীবন, যা সমসাময়িক কোনো আইনের অধীন নয়, এবং অতীত থেকে আমাদের কাছে পৌঁছানো উপদেশ ও সতর্কবার্তাকেই কেবল মান্য করে…
এমন মনোভাব অবশ্যই কোনো গুণ নয়। তবে বিস্ময়ের বিষয় হল যে, এই দুর্বলতাই যেন আমাদের সাধারণ জনগণের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঐক্যের উপাদান হিসেবে কাজ করে; এমনকি সাহস করে বলা যায়, এই সেই ভূমি, যার উপর আমরা বেঁচে আছি। এখানে কেউ যদি কোনো মৌলিক ত্রুটিকে প্রতিস্থাপন করতে উদ্যত হয়, তবে তা কেবল আমাদের বিবেক দংশন করে না, বরং আরো ভয়ঙ্করভাবে আমাদের পায়ের তলার মাটিকেও দুর্বল করে দেয়।
0 Comments.