Tue 25 August 2026
Cluster Coding Blog

কবিতার বলরুমে বিশ্বরূপ সিংহ রায় (গুচ্ছকবিতা)

maro news
কবিতার বলরুমে বিশ্বরূপ সিংহ রায় (গুচ্ছকবিতা)

মোহময় সিটং

মনুষ্য বসতি খচিত পাহাড়ের ঢাল

মধ্যস্থল সীমাহীন গহ্বর

দিনে রাতে মৃত্যুর হাতছানি 

তবুও সে সুন্দরী 

দিনের আকাশের নিক্ষিপ্ত ম্যান্ডারিন রশ্মি 

রাতের নিলীমা ব্লু বেরিময়

কাকভোর থেকে ভেসে বেড়ায় পিটুনিয়া জিনিয়া

জংলি অর্কিডের সুবাস

হোমস্টের জানালার কাঁচে টোকা দিয়ে কখনো ফিন্চ

কখনে পাহাড়ি বুলবুল ভাব জমাতে আসে


ফেলে আসা কোলকাতা

মনের একতাল আনন্দে হারিয়ে যায়

কিন্তু সময় হিসেব করা

প্রস্থান বেদনাময় মন ভার করা

টেড়িকাটা পথ বলে ভাঁজে ভাঁজে

ছবি এঁকে রেখেছি তোমার

নতুন ক্যালেন্ডারের কোনো মাসে আবার এসো ফিরে

ঠিক চিনে নেবো তোমায়



ডিঙ্গি গলির দুঃখী মেয়ের সাতকাহন

রোজ আহ্নিক পুজা পাঠ,

ধুপ দ্বীপ ফুল মালা বাতাসায়

আসনের যত ফাঁট,

এদিকে, কত দিন গেল কত রাত গেল,

সেই পুরাতন তক্তাপোশ আার

সেই লড়বড়ে খাট।


বাড়িতে বাবলি আর ওর বাপ,

মেয়ে স্কুলছুট, স্বামী দাড়ুখোর,

নেই তাপ উত্তাপ,

ওদিকে গৃহিনীর এক ঘর চাপ,

উঠতে হবে খুব কাকভোর,

গৃহস্থালির আনা কড়ি সেরে

শুধু চা এক কাপ।


ব্যাস নেমে পড়ো একমুখ ব্লাশ মেখে,

হয় জলে ভিজে নয় রোদে শেঁকে,

 নিজের পরিসরে সেই স্যাঁতসেঁতে গলি,

রঙ খসে যাওয়া উই ধরা দোর ঠেলে,

ছোট ঘর এক ফালি,

কপাল যদি বিট্রে না করে নোটে যাবে পার্স ভড়ে,

তা নাহলে, আধা পেটে কাটবে সে রাত,

হেড়ে যাওয়া মুখে এঁকে দিতে হবে হাঁসি দুই ঠোঁট জুড়ে। 


ধুসর সময়

ধুসর সময়

একটি নিবর্ণী

নিরপেক্ষ 

তবুও উপেক্ষিত,

ক্ষয়ে যাওয়ার নেই ভয়।


নিস্প্রয়োজন কোনের বাসিন্দা, 

নেই কোনো পরচর্চা পরনিন্দা,

এখনও তফিল ভারি,

কৃপনতা নেই,হিসেবেও আনাড়ি,

এখন জিহ্বা সাত্বিক

চোখ টানেনা মোরগ পসিন্দা,

তবুও উপেক্ষিত।


ছাদবাগানের হাওয়া,

সারাদিনের ঐ একটু আদর পাওয়া,

হোক না কাছের জনের সুদুর ছিটকে যাওয়া,

সন্ধ্যা বেলার কয়েক ঘন্টার এই গোধূলি অনাবৃত,

এটাই শান্তি, এর কাছে আমার ধুসর সময়

খুব গুরুত্ব পায়,যেখানে নিচের উঠোনে

খানিক উপেক্ষিত।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register