- 4
- 0
যোগব্যায়াম ও উপকারিতা
ভারতীয় সভ্যতার আদিযুগ থেকেই যোগব্যায়ামের প্রচলন। মুনি ঋষিরা যোগব্যায়ামে অভ্যস্ত ছিল। যোগব্যায়ামের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। শুধুমাত্র নিজেকে ফিট রাখা বা ওজন কমানোর জন্য নয়, এটি আমাদের মানসিক এবং শারীরিক উভয় স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে খুব প্রয়োজনীয়। আজকের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় প্রতিনিয়ত স্ট্রেস বাড়ছে। তাই এযুগে যোগব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা আরো বেশী। তবে এই যোগব্যায়াম প্রশিক্ষকের নির্দেশ ছাড়া নিয়ম না মেনে করলে ক্ষতি হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও আজ যোগব্যায়ামের উপকারিতা মেনে নিয়েছে এবং বলছে এটি আমাদের জীবনকে আরো উন্নত করে। আয়নার সামনে আমরা হয়ত ঘনঘন নিজেকে দেখি। সবার জন্য অনেক কাজ করি। কিন্তু নিজের জন্য কি আলাদাভাবে কিছু করি? কাজের চাপে ঠিকমতো ঘুমও আসে না। সময়ের অভাবে নিজের যত্নও নেওয়া হয় না। কেমন যেন দিনদিন আমরা কম বয়সেই বুড়িয়ে যাই। নিজেকে প্রাণবন্ত করে তুলতে যোগব্যায়ামের বিকল্প কিছু নেই। Yoga, যার অর্থ যোগ করা বা একত্র করা। ব্যক্তিসত্ত্বার সঙ্গে বিশ্বসত্ত্বা এক করে শান্তি অর্জনের মাধ্যম হল যোগ বা যোগাসন।
যোগব্যায়াম নিয়মিত করলে ১| আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। রক্তের প্রবাহ বেড়ে অ্যান্টিবডির মুক্তি ঘটিয়ে যেকোন সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়। সর্দি কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধ করে। ২| হাঁটা, জগিং আমাদের হাড় শক্ত করে। পেশী তৈরীতে সাহায্য করে। হাড়ের ঘনত্ব ঠিক রাখে। অস্টিওপোরেসিস হতে দেয় না। ৩| নিয়মিত ব্যায়ামে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ওবেসিটি কমাতে সাহায্য করে। ওজন, রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ৪| ব্যায়ামে রক্তপ্রবাহ বাড়ে বলে হৃৎপিণ্ডের পেশী, কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস বাড়ায়, যা শুয়ে বসে থাকলে কমে। ব্যায়াম আমাদের ফুসফুসের ক্ষমতাও উন্নত করে।৫| নিয়মিত যোগব্যায়ামে মেরুদণ্ড সোজা থাকে। ক্লান্তি দূর হয়। ৬| শরীরে বিভিন্ন ব্যথা কমায়। প্রতিটি রোগের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান আছে। তাই এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগব্যায়াম করতে হবে। ৭| যোগাসন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হজমশক্তি বাড়ায়। ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। বজ্রাসন এক্ষেত্রে উপকার করে। ৮| মানসিক চাপ কমায়, মনকে চাঙ্গা করে। ৯| যোগব্যায়াম আমাদের শরীরে হরমোনকে প্রভাবিত করে, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে।
কোন বয়সের বাধা ছাড়াই সব বয়সের মানুষ যোগব্যায়াম করতে পারে। একজন যোগব্যায়ামকারী বিশেষ রুটিন মেনে চলতে পারে, যা অপারেশনের পরেও শরীর পুনরুদ্ধার করে। আনন্দদায়কভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। যোগব্যায়ামে উন্নত নমনীয়তা, বর্ধিত শক্তি, চাপ কমানো, ভাল অঙ্গ বিন্যাস এবং মানসিক স্বচ্ছতা এনে দেয়। মানসিকভাবে যোগব্যায়াম উদ্বেগ দূর করে। মানসিক চাপ কমিয়ে স্ট্রেস হ্রাস, মানসিক স্বাস্থ্য, মননশীলতা, ভাল খাদ্যাভ্যাস, বিশ্রামের ঘুমের সাথে সাহায্য করে। যোগব্যায়াম আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানও গড়ে তোলে। মনের চঞ্চলতা কমায়, ধৈর্য্যশক্তি বাড়ায়, মেয়েদের পিরিয়ডের সময় ব্যথা কমায়, ডিম্বাশয় ভাল রাখে, প্রজননক্ষমতা উন্নত করে।
কোন বয়সের বাধা ছাড়াই সব বয়সের মানুষ যোগব্যায়াম করতে পারে। একজন যোগব্যায়ামকারী বিশেষ রুটিন মেনে চলতে পারে, যা অপারেশনের পরেও শরীর পুনরুদ্ধার করে। আনন্দদায়কভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। যোগব্যায়ামে উন্নত নমনীয়তা, বর্ধিত শক্তি, চাপ কমানো, ভাল অঙ্গ বিন্যাস এবং মানসিক স্বচ্ছতা এনে দেয়। মানসিকভাবে যোগব্যায়াম উদ্বেগ দূর করে। মানসিক চাপ কমিয়ে স্ট্রেস হ্রাস, মানসিক স্বাস্থ্য, মননশীলতা, ভাল খাদ্যাভ্যাস, বিশ্রামের ঘুমের সাথে সাহায্য করে। যোগব্যায়াম আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানও গড়ে তোলে। মনের চঞ্চলতা কমায়, ধৈর্য্যশক্তি বাড়ায়, মেয়েদের পিরিয়ডের সময় ব্যথা কমায়, ডিম্বাশয় ভাল রাখে, প্রজননক্ষমতা উন্নত করে।
ভারতীয় এই যোগাসন আজ পৃথিবী গ্রহণ করেছে। তাই আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেও আজ এর গুরুত্ব স্বীকৃত। মনের আনন্দে করুন, শরীর ও মনকে একত্রিত করবে। শুরু করার আগে ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিন।
0 Comments.