Sun 05 July 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ গল্পে তপন তরফদার

maro news
হৈচৈ গল্পে তপন তরফদার

প্রতিফলন

এখন শুধু  লেখাপড়ায় ভালো হলেই চলবে না। নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে সৃষ্টিশীল হতে হবে। নিজের বু্দ্ধিরবিকাশ করতেই হবে। বেলদা গঙ্গাধর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুধাময় মৈত্র  এই বছরে রাস্ট্রপতির পুরস্কার পেয়েছেন এবং ছাত্রদের মেধা বিকাশের জন্য সচেষ্ট। ছাত্রদের মধ্যে তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা চলছে আমার তত্বাবধানে। প্রতিযোগী তন্ময়  পাত্র ঝুলি থেকে  টুকরো কাগজ তুলে চোখ বুলিয়ে বললো নারকেল গাছ।  শ্রোতাদের মধ্যে হাসির জলতরঙ্গ।ফুটকেটে কে বলে ফেলেছে  তালগাছ বলবে নারকোল গাছ নিয়ে। তন্ময় চোখে পড়ার মত লম্বা,তাই ওর ডাক নাম ‘লগা’ হয়ে গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী এক মিনিট সমেয় ভেবে নিয়ে শুরু   করলো। 

 

এশিয়ার সংস্কৃতির সঙ্গে  আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে আছে জে ফল তা নারকেল গাছ ন যীশু খ্রীষ্টের জন্মের আগে থেকেই এ দেশে নারকেল  ছিল। রামায়ণে নারকেলর কথা লেখা   আছে ।কসমস ইনডিকোপ্লিউস্টেস নামে  এক গ্রিক ব্যবসায়ী ৫৪৫ অব্দে ভারতের এই ফলের দারুন সুখ্যাতি করে একে গ্রেট নাট অফ ইন্ডিয়া বলেছেন। আরব্য রজনী গল্পেও সিন্দাবাদ কে নারকেল বিক্রি করতে দেখা গেছে ।আজ থেকে ২৩০  লক্ষ বছর আগে কোকাস জাইলেনিকা নামে ছোট্ট বাদামের মত মাত্র ৩.৫ সেন্টিমিটার লম্বা এক ফলছিল। তার ফসিল  থেকে প্রমাণ করেছেন এটাই নাকি নারকেলের পূর্বপুরুষ । কোকা নামটা অবশ্য এসেছে অনেক পরে ।ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজ ব্যবসায়ীরা অন্য অনেক কিছুর মতোই  এই নামটাও দিয়েছিলেন। কোকোসমানে মড়ার খুলি। নারকেলের মাথায় তিনটে কালো বিন্দু দেখলে খুলির কথাই মনে আসা স্বাভাবিক। তবে পশ্চিমে এই হল কে নাক্স ইন্ডিকা বা ইন্ডিয়ান নাট নামে ডাকা হতো। এই দুইয়েমিলে আজকের কোকোনাট নামের জন্ম ।

 

তবে ভারতে নয় সবচেয়ে বেশি নারকেল হয় ময়নামার আর ইন্দোনেশিয়ায়। মালদ্বীপের কোট অব আমসত্ত্ব এ শোভা পাচ্ছে এই গাছ।

 

একটা নারকেল থাকে ৪০০ গ্রাম শাঁস  ১৫০ মিলিলিটার জল আর প্রচুর মিনারেল, ভিটামিন, ক্যালোরি।  কিন্তু নারকোলের আসল আদর তার তেলের  জন্য।  শ্যঁসে থাকে লরিক অ্যাসিড। এই স্যচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে হাই ডেনসিটি কোলেস্টেরলের  পরিমাণ বাড়িয়ে রক্তনালিতে ক্ষতিকর লোডেনসিটি  কোলেস্টরেল জমতে দেয়না।  আর ডাবের জলে কি না থাকে। গ্লুকোজ ,উৎসেচক (পলিমারেজ, ফসফেট,ক্যাটালগে ইত্যাদি)  সাইটোকাইনিন আর বিভিন্ন খনিজ পদার্থ(জিঙ্কলসিয়াম,লোহা ম্যানিজ)থাকে।পুজো  থেকে সব কাজে ডাবের জল অপরিহার্য। জলে রয়েছে নানা ভিটামিন ।আবার  নারকেল থেকে তৈরি হয় নানা ভেষজ ওষুধ,  এখানেই শেষ নয় এই গাছের সমস্ত অংশ তা পাতায় হোক বা ফলের খোলা । ফল হোক বা মূল গাছ প্রতিটি অংশই বিভিন্নভাবে আমরা ব্যবহার করি ।পুজোতে ডাবের জল ছাড়া চলে না। পুরীতে জগন্নাথের রথ তৈরি হয় নারকেল কাঠ দিয়ে। পুরানে তাই এই গাছকে কল্প বৃক্ষ নাম দেয়া হয়েছে। 

 

আমি  অবাক এত বিস্তারিত ও জানলো কি করে রহস্যটা জানতে হবে। তন্ময়  বললো, আমাদের অবস্থা  তখন খুবই খারাপ। মায়ের  হাত ভেঙেছে। অপারেশন  করতেই হবে। আমাদের সাহায্য করার কেউ  নেই। নারকেল গাছই আমাদের রক্ষক হয়েছিল। তখনই  আমি জেনেছি। মানুষের থেকেও  উপকারি এই অবলা গাছ। আমার মনে পরে, সে  দিন ডাব বিক্রি করে পরীক্ষার ফি জমা না দিতে পারলে কোথায়  হারিয়ে যেতাম। মনে মনে বললাম  সেম টু ইউ। আমার  জীবনেরই প্রতিফলন।


Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register