- 8
- 0
দেবলোক ও জাল ভ্যাকসিন
দেবাঞ্জন জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডে দেবলোক জুড়ে হৈহৈ। ভুয়ো আইএএস, ভুয়ো ভ্যাকসিন সব মিলিয়ে একটা বিরাট গণ্ডগোল। এমন সময় এক সাংবাদিক কৈলাসে গিয়ে দেবাদিদেবকে ধরলেন। দেবাদিদেব মহেশ্বর নন্দি ভৃঙ্গি সহযোগে নাচ প্র্যাকটিশ করছিলেন। সাংবাদিককে দেখে নাচ থামিয়ে বাইট দিতে প্রস্তুত হলেন।
মহেশ্বর: দেবাঞ্জন দেব? না না, ও ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে নন্দি ভৃঙ্গি জানলেও জানতে পারে।
ভৃঙ্গি: না না, আমি কিছু জানি না। শুধুমাত্র একবার গাঁজা পাঠিয়ে দিয়েছিল।
নন্দি: উঁ, মোটে একবার? রোজ সন্ধেবেলা ঝুম হয়ে থাকো যে!
ভৃঙ্গি: এ যে ঘরশত্রু বিভীষণ দেখছি! তোকে কি ভাগ দিই নি কখনো?
মহেশ্বর: (বিরক্ত স্বরে) যাও যাও, নিজের নিজের কাজে যাও। শুনুন রিপোর্টার সাহেব, দেবাঞ্জন নিয়ে আমি বা আমার পরিবারের কেউ কিছু জানি না।
রিপোর্টার: শুধুমাত্র নন্দি ভৃঙ্গি কিছু জানে। তাইতো!
মহেশ্বর: (হেসে) ওরা মাতাল, গাঁজাখোর। ওদেরকে অত গুরুত্ব দেবার দরকার নেই।
রিপোর্টার: ঠিক আছে। আপনার আশ্রিত গাঁজাখোররা দেবাঞ্জন দেব সম্পর্কে কিছু জানলেও আপনি কিছু জানেন না।
মহেশ্বর: দেখুন, আপনাকে আমি অনেক টাইম দিয়েছি। এবার ফুটুন তো।
নন্দি ও ভঙ্গি: (সাংবাদিকের কলার ধরে) ফোট্ শালা ফোট্।
রিপোর্টার গেলেন বিষ্ণুলোকে।
বিষ্ণুলোকে ভগবান বিষ্ণু মোহিনী রূপ ধারণের পর তাঁকে বেশি সুন্দর লেগেছিল নাকি তস্য পত্নী কমলা হরিপ্রিয়া লক্ষ্মী বেশি সুন্দরী তাই নিয়ে গরুড় আর নারদের মধ্যে তর্ক চলছিল। বিষ্ণু একটা কাটগ্লাসের পানপাত্রে অমৃতের স্বাদ নিতে নিতে সেই তর্ক উপভোগ করছিলেন। সাংবাদিক আসতেই তিনি বসতে অনুরোধ করে বললেন, আপনি সামান্য নর। আপনাকে তো অমৃত দেবার উপায় নেই, খাঁটি বিলিতি সোমরস আছে, চলবে নাকি? রিপোর্টার বললেন, সে আরেকদিন হবে এখন। দেবাঞ্জন জাল ভ্যাকসিন নিয়ে যদি কিছু বলেন।
বিষ্ণু: দেবাঞ্জন ব্যাপারটা এমন কিছু না। আপনারা তিলকে তাল করছেন।
রিপোর্টার: তিলকে তাল? তাহলে দেবাঞ্জন কেসকে আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না?
নারদ: যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে যেটুকু গুরুত্ব দেওয়া দরকার, ততটা গুরুত্ব অবশ্যই দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টার: কোভিড আতঙ্কে লোকেরা পাগলের মতো ভ্যাকসিন খুঁজছে। এই সময়ে জাল ভ্যাকসিন যারা পেল, তাদেরকে বিষ্ণুলোকের তরফে কি বলবেন?
গরুড়: বলবেন তদন্ত চলছে।
বিষ্ণু হেসে জানিয়ে দিলেন, তিনি আর একটাও কথা বলতে চান না।
অতঃপর গরুড় সাংবাদিক টিকে রাস্তা দেখিয়ে দিয়ে পিছনে ভেংচি কাটলেন।
সাংবাদিক এবার চললেন দেবপিতামহ ব্রহ্মার কাছে। পিতামহ তখন চোখ বুজে খুব মিহি সুরে গান গাইছিলেন। রিপোর্টার হাতজোড় করে সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, অনেকক্ষণ টেরই পেলেন না। পরে হেসে বললেন, গানাৎ পরতরং নহি।
রিপোর্টার অবাক হয়ে চেয়ে আছেন দেখে পিতামহ বললেন, হাঁ হয়ে গেলে তো! হুঁ হুঁ, এসব শিখতে হয়। এমনি এমনি অতো নামকরা ইউনিভার্সিটি আমাকে ডিলিট দিয়েছে! ওরা খোঁজ খবর রাখে, কাকে ডিলিট দিলে সম্মান বাড়বে। তো আজ কি মনে করে?
রিপোর্টার : দেবাঞ্জন দেব নিয়ে আপনার বক্তব্য কি?
পিতামহ: দাঁড়াও দাঁড়াও, নামটা কোথায় শুনেছি মনে হচ্ছে।
রিপোর্টার: হ্যাঁ, ফেক আইএএস।
পিতামহ ফ্যাক করে হেসে বললেন, ফেক?
রিপোর্টার বললেন, ও আইএএস পরীক্ষায় বসেছিল শুধু। পাশ করে নি। ওর মা জানত। তবুও কিছু বলেনি।
পিতামহ: বলি, বর্ণপরিচয় লেখার পরে বিদ্দেসাগর যে বোধোদয় লিখেছিল, সেটা জান?
রিপোর্টার: তা জানব না কেন? বোধোদয়, উপক্রমণিকা, কথামালা, শকুন্তলা, সীতার বনবাস, বই কি ওঁর একটা?
পিতামহ: তো বর্ণপরিচয়ে রাখাল মাসির কান কামড়ে নিয়েছিল। তার অভিযোগ ছিল, সময় থাকতে মাসি শেখায় নি। তুমি ওইটেই মনে রেখেছ। কিন্তু, রাখালের পিসির কোনো খবর জানতে চেয়েছ?
রিপোর্টার: পিতামহ, রাখালের কথা থাক। মাসি পিসিরা কাটা কান নিয়ে নৃত্য করুন। আমাকে শুধু বলুন দেবাঞ্জন দেব নিয়ে ব্রহ্মলোকের সরকারি স্ট্যাণ্ড কি?
পিতামহ: দ্যাখো, দেবাঞ্জন যদি আমাদের পার্টির লোক হয়, তাহলে আমাদের স্ট্যাণ্ড হল বাচ্চা ছেলে, ছোট্ট একটা ভুল করে ফেলেছে।
রিপোর্টার: সবাই তো দেখেছে নেতা মন্ত্রী, মহানাগরিকের পাশে পাশে সে থাকত।
পিতামহ: তাহলে তো বাড়িতে গিয়ে তুমি বোধোদয় পড়তে বোসো।
রিপোর্টার: পুরাকালে স্যর আপনার কান থেকে একটু ময়লা বেরিয়ে ছিল। তাই থেকে মধু আর কৈটভ, এই দুই সাংঘাতিক গুণ্ডার জন্ম।
পিতামহ: তোমার মনে আছে! তা কান থাকলে মধ্যে মধ্যে ময়লা বেরোয় বৈকি। মানুষের শরীরের মতো তুচ্ছ তো আর নয়, এসব ব্রহ্মলোকের ব্যাপার স্যাপার।
রিপোর্টার: বিষ্ণুও না কি দুই দারোয়ান জয় আর বিজয়কে মর্ত্যলোকে পাঠিয়ে রাবণ আর কুম্ভকর্ণ বানিয়ে লঙ্কাকাণ্ড, দুর্যোধন আর দুঃশাসন বানিয়ে বস্ত্রহরণ কাণ্ড কত কি করিয়েছেন।
পিতামহ চোখ পাকিয়ে বললেন, তা আমরা গুণ্ডা কন্ট্রোল করেই থাকি। কোনো আপত্তি আছে?
ব্রহ্মার চার চারটি মুখের সমবেত জোরালো ধমকে সাংবাদিক মূর্ছা গেলেন।
0 Comments.