Mon 15 June 2026
Cluster Coding Blog

কবিতায় বলরুমে শ্রী সদ্যজাত (গুচ্ছ)

maro news
কবিতায় বলরুমে শ্রী সদ্যজাত (গুচ্ছ)

কোজাগরী মহাশ্মশান 

ও 

একটি শ্রেষ্ঠ দ্যুতি চুম্বন 


শুনেছি শ্মশানে সবাই যায় মরণের শোক কুড়াতে ছাই ওড়াতে,

আমি যাবো আজ ওই মিথুন কৃষ্ণকলির মন পোড়াতে,

বিশাখায় বিশাখায় যাবো আজ ওই রিধিমার সিঁথি জ্বালাতে....


নিঃশব্দে একটা একটা করে সিঁড়ি পেরোচ্ছি,

এক মুঠো শ্রাবণ দু'মুঠো আশ্বিন তিন মুঠো হেমন্ত কোনো ক্রমে সঞ্চয় করেছি যন্তরমন্তর ঘরে।

মেদহীন যানজটের শহরে একটা শ্রান্ত সমীর প্রতীক্ষা পথের দুরত্ব মেখে পথেই পড়ে থাকে,

যেন অর্ধ বিকশিত মাটিতে এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকা কিছু নিরুত্তর নিশ্চুপ ঋতব্রত সমীকরণ ,,,


রিধিমা যখন নিজের আয়নায় নিজেকে থরে থরে সাজায়,

সুতীব্র বিথিগুলো জুড়ে প্রচন্ড অগোছালো ধুন ফুটিয়ে তোলে,

মধ্য সেরুলিয়ান তখন তোমার সুপ্ত বনের সরণিকা ধরে ধরে রঙ্গন ফুল ফুটিয়ে রাখে দিন-রাত 

রাত দিন,


যদি বলো,এক রদ্দি অন্তর মহল’টা মরুতে মরুতে নিঃস্ব-নিমগ্ন হয়েছে তবে তাই ,

যদি বলো,রকমের ছাইপাশ আদুরে যত প্রলাপ আলাপ হয়তবা দিল-দরিয়া ফ্ল্যাশব্যাক উপন্যাস 

তবে তাই,

হাতে গোনা নাম-খোয়ানো

জীবনের সমসাময়িক অসমাপ্ত গল্পগুলো ইতিহীন বৃত্তের চৌপাশে এক ফালি সিক্তসুপ্ত রিধিমা খুঁজে চলেছে দু-ফালি চাঁদের নিগূঢ় গাঢ় ভগ্ন স্তূপে,

পড়ন্ত স্রোত শিউলি জলের পঞ্চমুখী অমর্ত্য দেখবে বলে,,,


এ শহরে ওড়েনা ঠোঁটে চোখে চিবুকে লেপ্টে থাকা ত্রিনয়নী বলাকা,

দশ নখের আঁচড়ে আঁচড়ে দু'টো পাঁজর হয়েছে ভূমিষ্ঠ রিধিমা,

যেন বোহেমিয়ান কোনো মুগ্ধ বাসন্তী রাত,,


মধ্যরাতের কোনো এক অনামী মহাশ্মশানে রিধিমা আসবে শুনশান মৃত ঠোঁট দুটি নিয়ে একাকী একান্ত ,

একটি শ্রেষ্ঠ দ্যুতি চুম্বনের হবে মহতী দাহ কার্য সেদিন,,,,,,,


শেষ দহন’টুকু নিভে যাওয়ার অপেক্ষা ,,

তারপর তাঁর কালসর্প দোষের আঙুলটি ছুঁয়ে বিশ্বের আদি কোষটি করব জয় ,,

অভাগিনীর প্রশ্রয় সূচক প্রস্রবণ একটিবার পান করলে গোটা ফাটা শরীরটা বিমুগ্ধ সরিৎ হয়ে ওঠে নিমেষে,


শুনেছি শ্মশানে সবাই যায় মরণের শোক কুড়াতে ছাই ওড়াতে,

আমি যাবো আজ ওই মিথুন কৃষ্ণকলির মন পোড়াতে,

বিশাখায় বিশাখায় যাবো আজ ওই রিধিমার সিঁথি জ্বালাতে....


আরো একটু সময়…


দুটি মুখ পাশাপাশি দুটি জীবন মুখোমুখি

আজ তবে কিসের ইঙ্গিত? কিসেরই বা বিধিলিপি?

বিধ্বস্ত দুটি দেহ কতখানি প্রাসঙ্গিক? 

    কতখানি বা সাগ্নিক? 

তুমি আসবে যখন সারা শহর জুড়ে মেঘলা আকাশ 

তুমি ভিজবে যখন সারা শহর জুড়ে

         বৃষ্টি সুখের দহন বাতাস


আনন্দটুকু নেবে চোখের জলের স্নেহাশিসটুকু 

নেবেনা…তা কি করে হয়…?

তোমার পশ্চিমের অপর্যাপ্ত স্থলভাগ ছুঁয়ে কানায় কানায় ভর্তি জল শুধু জল…

ঝড়বৃষ্টির এই রাতে তুমি পথ হারাতে পারো,

প্রথম সকাল হলেই আমি তোমায় পৌঁছে দেবো ঘাটে,চিন্তা করোনা,

সামান্য এই সময়টুকুতে কত শঙ্কা কত অজানা সঙ্কেত এসে ভিড় করেছে তোমার মুখের দক্ষিণ ভাগে,

একটা ছোট্ট শীতলপাটির ব্যবস্থা করেছি, একটু শুয়ে পড়ো,

বাইরে প্রচুর হাওয়া বইছে, পারলে জানালাটা বন্ধ করে দিয়ো,

তুমি না চাইলে মোমের আলো নিভবে না,

মাথার ধারে একঘটি জল রেখেছি,


এবার আমি আসলাম…সদরে খিল দিয়ে দাও,

দেখে আসি ঘাটের অবস্থাটা,

সকাল হলেই তুমি চলে যাবে,


আমি হেঁটে হেঁটে পথ তৈরি করে নিই…

রাত্রিপথের আহ্নিকটা যে এভাবেই সারতে হয় ।


      এভাবেই তো হারিয়ে যেতে হয়,,,,,

                      এভাবেই…

                             এভাবেই …



আগমনী…

এই মগ্নভগ্ন শরীরটা নিয়ে তোমার কাছে যেতে ইচ্ছে করে…

আমার সূর্যোদয় উপলব্ধি অস্তরাগ বালুকাবেলা তোমার নিশুতি পাশের নবরাত্রি সুখ যদি হতে পারতো… ? ?

তোমার অষ্টপ্রহর ভাঙার ঘরমুখী পঞ্চপ্রদীপটা কেন হতে পারি না… ? ?


রোজের এই আমন্ত্রণ আর কোরো না,

তুমি তোমার মাঝেই কর অবগাহন তোমার মতন করে…

তোমার আঁচল-ভরা সাঁঝের কৃষ্ণকালীটা আমার মহাজীবন ভগবতীর সুখনিদ্রা…

আমি না হয় দূর হতে দূরত্ব হ্রাস করি আমরণ… 


আজ আবারো একটি মহাপ্রলয়ের হবে আগমন,

বোধনের অপর্যাপ্ত উল্লাস…

সন্ধের স্বনির্বন্ধ আরতিটা শেষ হতে না হতেই আরও একটি অসমাপিকার আনন্দ মুখরিত অগস্ত্য যাত্রা…

শুরু হয়েছিল কবে… ?

শেষ বলেও যে কিছু নেই…

মাটির প্রদীপে গঙ্গাপারে আজ কতই না আবাহন কতই না আয়োজন…

কুলপুরোহিত দিনমান অর্পণের ঘট আঁকছেন প্রশস্তির আসনে…


নিঃস্ব সুখের সহৃদয় সমর্পণটা আজও হলো না…

হয়তো হবে কোনো এক মহাকালের পথে কোনো এক শীতলস্পর্শী মহালয়াতে…

আমার তোমার মাঝে রয়ে গেছে,

অসংখ্য নৈঃশব্দ্যের একটি প্রচ্ছদমালা, যুগ যুগান্তরে……


অনাস্বাদিত আগমনীর গন্ধে নামহীন আগন্তুকের অনিকেত ক্ষতে তুমি আবারো হবে সুরে ছন্দে সপ্তশতী বিপাশা।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register